তার সুদক্ষ কূটনীতিতে সুসংহত বাংলাদেশ
jugantor
তার সুদক্ষ কূটনীতিতে সুসংহত বাংলাদেশ

  ড. এ কে আব্দুল মোমেন  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলাদেশের শাসনভার নিজের কাঁধে নিয়ে যে শান্তি ও প্রগতির রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সেই একই নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন সামনে।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-বিশ্বশান্তির পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই অমোঘ নীতিই এখনো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। এই মূলমন্ত্রের ওপর ভর করেই সব বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এদেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

তার শাসনামলে পদে পদে রচিত হচ্ছে সফলতার ইতিহাস। তার দূরদর্শী কূটনৈতিক নেতৃত্বের কারণে এ সরকারের বিগত ১৩ বছরে অজস্র কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। একসময়ের ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশটি আজ আবির্ভূত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসাবে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করছে দেশের পররাষ্ট্রনীতি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট ভিশন নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

এর আলোকে কার্যকর ও যুগোপযোগী সহায়ক নীতি গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলো বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম, সভা ও সেমিনারে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকারের দক্ষ নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ, রপ্তানি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫ সালে ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, এখন তা হয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের অবিসংবাদিত ভাষণ ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিল’ হিসাবে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের ইউনেস্কো সদর দপ্তরে মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার ঘোষণার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত ও ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় এ স্বীকৃতি।

শেখ হাসিনা সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থলসীমানা ও সমুদ্রসীমা শান্তিপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত স্থলসীমানা চুক্তি ১৯৭৪-এর প্রটোকল স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে স্থলসীমানা চুক্তির অনুসমর্থন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ প্রচেষ্টারই সুফল। ইনস্ট্রুমেন্ট অব রেটিফিকেশন এবং লেটার অব মোডালিটিস স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৎকালীন ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের এবং আমাদের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়। ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে এর আগে নাগরিকত্বহীন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাগরিকত্ব লাভ করে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউস শোয়াবের বিশেষ আমন্ত্রণে ২০১৭ সালের ১৭-২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ৪৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত সরকারপ্রধান এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত হন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার বিষয়।

ডাভোস আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানাগুলোয় যথাযথ পরিবেশগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার সরকারের আন্তরিকতা ও গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ সামনে রেখে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির কথাও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। বার্ষিক এ সভা চলাকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দ্য ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৭-এ বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল ৭৯টি দেশের মধ্যে সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৬। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ বাংলাদেশকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, তার মতবাদ, তার ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে।

পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির ধারাবাহিকতায় স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কূটনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধসমৃদ্ধ বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিবিড়করণসহ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ দেশের ভূ-রাজনৈতিক যে গুরুত্ব, সেটি বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের ভূ-রাজনৈতিক লড়াই বা প্রতিযোগিতা চলছে। সে প্রতিযোগিতা এবং দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ফলে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে একটি নতুন পরিচিতি লাভ করতে পেরেছে।

শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়।

ঐতিহাসিক এই নিষ্পত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকার ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বিরোধ নিরসনে বিরল এ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে উপনীত হওয়ার এ নীতি আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত করেছে। এ রায়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় সম্ভাবনাময় সব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘ব্লু ইকোনমি’ এবং ‘মেরিটাইম খাতের মান উন্নয়নে সহযোগিতা’ বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতায় ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার হয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফর করেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে অর্জিত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বর্তমান সরকার এশীয়, বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক, বিমসটেক, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝে কার্যকর সংযোজক বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম-ইসি), বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) ইত্যাদি আঞ্চলিক/উপ-আঞ্চলিক জোট/ফোরামকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিবিড় যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে গৃহীত বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপের অন্যতম সফল পদক্ষেপ হচ্ছে ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)’-এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন।

বিমসটেক সচিবালয় বাংলাদেশে কোনো আঞ্চলিক সংস্থার প্রথম সদর দপ্তর। ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয়ের সফল প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

করোনাভাইরাসের মহামারির এ কালে বঙ্গবন্ধু প্রণীত পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভর করেই ভ্যাকসিন কূটনীতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ কূটনীতির কারণে করোনা মহামারির এ দুঃসময়ে বিশ্ব সম্প্রদায় যেভাবে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পাশে, তা অতুলনীয়।

বিশ্বের বড় বড় দেশ যেখানে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে করোনা মহামারি বাংলাদেশকে ততটা কাবু করতে পারেনি। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকার ফলেই এত দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন পেয়েছে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী, দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বশান্তি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে সফল রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং দেশের এ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাভিত্তিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিও পেয়েছেন ব্যাপকভাবে। ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননায়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ফোর্বস ম্যাগাজিন ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের ৩০তম ক্ষমতাশালী নারী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রূপকার। তার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আজ ধ্রুব তারার মতোই উজ্জ্বল। তার নেতৃত্বেই একদিন উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাবে আমাদের এই প্রিয় দেশটি। ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে অশেষ শ্রদ্ধা জানাই তাকে।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তার সুদক্ষ কূটনীতিতে সুসংহত বাংলাদেশ

 ড. এ কে আব্দুল মোমেন 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলাদেশের শাসনভার নিজের কাঁধে নিয়ে যে শান্তি ও প্রগতির রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সেই একই নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন সামনে।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-বিশ্বশান্তির পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই অমোঘ নীতিই এখনো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। এই মূলমন্ত্রের ওপর ভর করেই সব বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এদেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

তার শাসনামলে পদে পদে রচিত হচ্ছে সফলতার ইতিহাস। তার দূরদর্শী কূটনৈতিক নেতৃত্বের কারণে এ সরকারের বিগত ১৩ বছরে অজস্র কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। একসময়ের ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশটি আজ আবির্ভূত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসাবে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করছে দেশের পররাষ্ট্রনীতি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট ভিশন নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

এর আলোকে কার্যকর ও যুগোপযোগী সহায়ক নীতি গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলো বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম, সভা ও সেমিনারে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকারের দক্ষ নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ, রপ্তানি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫ সালে ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, এখন তা হয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের অবিসংবাদিত ভাষণ ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিল’ হিসাবে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের ইউনেস্কো সদর দপ্তরে মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার ঘোষণার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত ও ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় এ স্বীকৃতি।

শেখ হাসিনা সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থলসীমানা ও সমুদ্রসীমা শান্তিপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারত স্থলসীমানা চুক্তি ১৯৭৪-এর প্রটোকল স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে স্থলসীমানা চুক্তির অনুসমর্থন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ প্রচেষ্টারই সুফল। ইনস্ট্রুমেন্ট অব রেটিফিকেশন এবং লেটার অব মোডালিটিস স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৎকালীন ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের এবং আমাদের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়। ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে এর আগে নাগরিকত্বহীন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাগরিকত্ব লাভ করে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউস শোয়াবের বিশেষ আমন্ত্রণে ২০১৭ সালের ১৭-২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ৪৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত সরকারপ্রধান এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত হন, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার বিষয়।

ডাভোস আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানাগুলোয় যথাযথ পরিবেশগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার সরকারের আন্তরিকতা ও গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ওপর আলোকপাত করেন। ‘রূপকল্প ২০২১’ এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ সামনে রেখে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির কথাও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। বার্ষিক এ সভা চলাকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দ্য ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৭-এ বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল ৭৯টি দেশের মধ্যে সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৬। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ বাংলাদেশকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, তার মতবাদ, তার ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে।

পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির ধারাবাহিকতায় স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কূটনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধসমৃদ্ধ বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিবিড়করণসহ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ দেশের ভূ-রাজনৈতিক যে গুরুত্ব, সেটি বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের ভূ-রাজনৈতিক লড়াই বা প্রতিযোগিতা চলছে। সে প্রতিযোগিতা এবং দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ফলে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে একটি নতুন পরিচিতি লাভ করতে পেরেছে।

শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়।

ঐতিহাসিক এই নিষ্পত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকার ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বিরোধ নিরসনে বিরল এ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে উপনীত হওয়ার এ নীতি আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত করেছে। এ রায়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় সম্ভাবনাময় সব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘ব্লু ইকোনমি’ এবং ‘মেরিটাইম খাতের মান উন্নয়নে সহযোগিতা’ বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতায় ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার হয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফর করেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে অর্জিত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বর্তমান সরকার এশীয়, বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক, বিমসটেক, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝে কার্যকর সংযোজক বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম-ইসি), বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) ইত্যাদি আঞ্চলিক/উপ-আঞ্চলিক জোট/ফোরামকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এর আওতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিবিড় যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে গৃহীত বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপের অন্যতম সফল পদক্ষেপ হচ্ছে ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)’-এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন।

বিমসটেক সচিবালয় বাংলাদেশে কোনো আঞ্চলিক সংস্থার প্রথম সদর দপ্তর। ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয়ের সফল প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

করোনাভাইরাসের মহামারির এ কালে বঙ্গবন্ধু প্রণীত পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভর করেই ভ্যাকসিন কূটনীতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ কূটনীতির কারণে করোনা মহামারির এ দুঃসময়ে বিশ্ব সম্প্রদায় যেভাবে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পাশে, তা অতুলনীয়।

বিশ্বের বড় বড় দেশ যেখানে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে করোনা মহামারি বাংলাদেশকে ততটা কাবু করতে পারেনি। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকার ফলেই এত দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন পেয়েছে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী, দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বশান্তি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে সফল রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং দেশের এ অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাভিত্তিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিও পেয়েছেন ব্যাপকভাবে। ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননায়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ফোর্বস ম্যাগাজিন ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের ৩০তম ক্ষমতাশালী নারী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রূপকার। তার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আজ ধ্রুব তারার মতোই উজ্জ্বল। তার নেতৃত্বেই একদিন উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাবে আমাদের এই প্রিয় দেশটি। ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে অশেষ শ্রদ্ধা জানাই তাকে।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন