রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হোক
jugantor
মিঠে কড়া সংলাপ
রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হোক

  ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন  

০৪ মার্চ ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় নির্বাচনের দিন-তারিখ যতটা ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনাও ততটা বেড়ে চলেছে এবং বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় সাংগঠনিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের দিকে পা বাড়াচ্ছে। বিএনপিকে এতদিন বলা হচ্ছিল, তাদের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করা সম্ভব নয়; আন্দোলনের ক্ষমতা বিএনপির নেই।

কিন্তু সেই বিএনপিই এখন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে নেমেছে এবং তাদের আন্দোলনকে রুখে দিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও কম কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে না। বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠ গরম বা মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কখনো কখনো উভয় দলের মধ্যে মারামারি, হানাহানি, ধাওয়াধায়ির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আর এসব নিয়ে বিএনপি অভিযোগ করে চলেছে যে, ইচ্ছা করে সরকারি দল একই দিনে একই স্থানে কর্মসূচি দিয়ে তাদের আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করায় সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে।

সম্প্রতি বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির দিন সিরাজগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি। সেদিনও সরকারি দল কর্মসূচি ঘোষণা করে রাস্তায় থাকায় তাদের লোকজনের ১৫-২০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আর এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি দলের সংসদ-সদস্য একই কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, ‘কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতি অল্প সময়ের মধ্যে ঝটিকা গতিতে বিএনপির লোকজন এসে মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে সটকে পড়েছে।’

উল্লেখ্য, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে সেসবের মাশুলও গুনতে হয়েছে। আর এ পদশে যুগ যুগ ধরে এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক কালচারে পরিণত হওয়ায় রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় গাড়ি-বাড়ি, দোকানপাট, বাস, ট্রেন ইত্যাদি জ্বালানো-পোড়ানো হয়ে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব নিয়ে হাজার হাজার মামলা করা হলেও দীর্ঘদিনেও সেসবের সুরাহা হয় না; অধিকাংশ মামলাই বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

কারণ, রাস্তাঘাটে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করে অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাঝখানে পুলিশি ঝামেলায় পড়ে অনেক নিরীহ মানুষকেও আদালত ও পুলিশের শরণাপন্ন হতে হয় এবং এতে করে তাদের পরিবার-পরিজনকেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কারণ, এসব মামলায় গণহারে আসামি দেওয়ায় অকুস্থলে যিনি ছিলেন না তাকেও আসামি করায়, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দেওয়ায় দোষী অপেক্ষা নির্দোষ ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারই বেশি দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হন। কারণ, আসল অপরাধীরা ঘাগু রাজনৈতিক ক্যাডার হওয়ায় তাদের অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। মাঝখানে অনেক নিরীহ-নিরপরাধ মানুষ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ায় একশ্রেণির পুলিশের ফায়দা লোটার রাস্তা প্রশস্ত হয়।

এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুর মেঘ দেখে ভয় পায়’ প্রবচনটি সামনে এসে যাচ্ছে। কারণ, আমাদের দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন মানে কী, তা আমরা সবাই জানি। আর এজন্যই বোধহয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, ‘বিএনপি পুনরায় আগুন-সন্ত্রাসের পথে পা বাড়াচ্ছে।’ তবে দেশের সাধারণ মানুষ যে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না, সে কথাটি বলাই বাহুল্য। দোকানপাট, ঘরবাড়ি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ তো নয়ই। কিন্তু দেশের মানুষ যা চান, তারা কি সবসময় তা পান?

প্রশ্নটির সোজা উত্তর হলো-না, পান না। কারণ, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এবং দেশের মানুষের চিন্তাধারা এক নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা-চিন্তা একদেশদর্শী; তারা ক্ষমতা ছাড়া কিছুই বোঝে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অপেক্ষা ক্ষমতাপ্রাপ্তিকেই তারা সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। তাদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো, ক্ষমতা দখল করে স্বার্থ উদ্ধার, তারপর জনগণ। মুখে তারা ‘জনগণই ক্ষমতার উৎস’ কথাটি বললেও মনেপ্রাণে তা ধারণ করেন না; বরং ভোটের সময় কারচুপির মাধ্যমে কী করে জনগণের ভোট চুরি করা যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভোট ডাকাতি করা যায়, সে চেষ্টাটিই করে থাকেন। ফলে একেকটি নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয় এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়।

এভাবে এ দেশে বেশ কয়েকটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে বা কোন পথে জনগণ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, দেশ ও জাতির সামনে সে বিষয়টি আক্ষরিক অর্থেই একটি জাজ্বল্যমান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চাইছে, নির্বাচনের সময় আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি ফিরিয়ে এনে নির্বাচন দেওয়া হোক। অন্যদিকে সরকারি দল বলছে, সংবিধান অনুযায়ী তা সম্ভব নয়। কারণ, সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতির বিলোপ করা হয়েছে; কস্মিনকালেও আবার তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে, সহসা তা মিটবে বলে মনে হয় না। নির্বাচন নিয়ে একটা সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আর সংঘাতের আগাম বার্তা হিসাবে বর্তমানে আমরা নিয়মিতভাবে বিরোধী দলের বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি সরকারি দলের শান্তি মিছিল প্রত্যক্ষ করে চলেছি, যা দেশের মানুষের কাছে একটি নতুন রাজনৈতিক কালচার বলেই মনে হচ্ছে।

সারা বিশ্ব করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের কুফল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। ‘ইউরোপের রুটির ঝুড়িখ্যাত ইউক্রেন পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। দিন, মাস, বছর অতিক্রম করে যুদ্ধ দ্বিতীয় বছরে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধের আগুনে আমেরিকার মতো পরাশক্তি ঘি ঢালা অব্যাহত রাখায় যুদ্ধ যে দীর্ঘায়িত হবে, সে কথাটি সবারই জানা।

কারণ, একই সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমেরিকার দোসর ইংল্যান্ডসহ কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্রও পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে এবং ইউরোপ-আমেরিকা মিলেমিশে তাদের অর্থ ও সমরাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠিয়ে ইউক্রেনের ভূমি, সেনাবাহিনী ও জনগণকে ব্যবহার করার মাধ্যমে রাশিয়াকে শায়েস্তা করতে চাচ্ছে। এ অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন আমেরিকা ও রাশিয়ার মর্যাদা রক্ষার যুদ্ধে পরিণত হওয়ায় দুই পরাশক্তির যুদ্ধ সহসা থেমে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। আর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ যেভাবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, তার ঢেউ আমাদের দেশেও পৌঁছে গেছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বা ঠিক রাখতে আইএমএফ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে এবং সেই ঋণের প্রথম কিস্তি গ্রহণ করতে আইএমএফের কিছু কঠোর শর্ত পালন করতে বাধ্য হওয়ায় সাধারণ আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এর বিরূপ প্রভাবও পড়েছে। আবার চীন, ভারত ইত্যাদি রাষ্ট্রসহ আইএমএফ থেকে গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চীন, ভারত ইত্যাদি রাষ্ট্র থেকে গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধের তারিখও ঘনিয়ে এসেছে। জানা গেছে, আগামী নভেম্বর থেকেই কোনো কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে।

এ অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকটের মধ্যে দেশের জনগণের ঘাড়ে চেপে থাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়ভার পালন করার সময়কালেই যদি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের মতো দেশের জন্য তা বোঝার উপরে শাকের আঁটি হয়ে দাঁড়াবে। সুতরাং এ মুহূর্তে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত জরুরি ও অপরিহার্য।

আর যেহেতু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই, তাই দেশের স্বার্থে জেদাজেদি বা গোঁয়ার্তুমি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করাই হবে এখন সময়ের কাজ। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গের চিন্তাধারা বাদ দিয়ে সুষ্ঠুভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামাও বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতেও আমাদের দেশের মতো এত ভয়ংকর রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা দেখতে পাওয়া যায় না। আমাদের দেশের মতো যাত্রীসহ বাসে আগুন দেওয়া হয় না সেখানে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এসব করা হয়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মূলোৎপাটন করতে পারাটাই এখন সময়ের কাজ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। আর সে কাজটি করতে হলে সরকারি দল, বিরোধী দল, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে বলিষ্ঠ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

মুখে এক কথা আর মনে এক কথা, এমন অবস্থান গ্রহণ করলে কারও পক্ষেই তা সুফল বয়ে আনবে না। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুষ্ঠু ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে, ‘সালিশ মানি, তবে তালগাছটি আমার’ এমন মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধসহকারে আলোচনার টেবিলে বসে দেশের মানুষ যাতে নিজেদের ইচ্ছামতো স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং এ ধরনের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যাতে সরকার গঠন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, দেশের মানুষ কিন্তু সবকিছুই বোঝেন। সুতরাং সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছু করতে গেলে কোনো দল বা গোষ্ঠীর পক্ষেই তা সুখদায়ক হবে বলে মনে হয় না।

পরিশেষে বলতে চাই, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সংশিষ্ট সবাইকে সে কথাটি সম্যকভাবে অনুধাবন করে সঠিক পথে পা ফেলতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ কিন্তু ছেড়ে কথা বলবে না। তাছাড়া নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে বা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে তার সুযোগ গ্রহণ করতে বিদেশি শক্তিও বসে থাকবে না। আর এ ক্ষেত্রে আমেরিকার মতো মতলববাজ, যারা সারা পৃথিবীতে মতলববাজি করে চলেছে, তারা তো ওঁৎ পেতে বসেই আছে। সময়-সুযোগ পেলে তারা জনসাধারণকে উসকে দেওয়ার মতো কাজটিও করতে পারে। সিরিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই তাদের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এমন অঘটন ঘটানোর ক্ষেত্রে পারদর্শিতাও দেখিয়েছে।

এবারের নির্বাচন সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করতে না পারলে দেশে অশান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির সমূহ আশঙ্কা থেকেই উপরের কথাগুলো বললাম। আর দেশের সাধারণ মানুষ বা আমজনতা, যারা কাজকর্ম করে খেতে চায়, ঝুটঝামেলা পছন্দ করে না, বিশেষ করে তাদের কথা চিন্তাভাবনা করেই এসব কথা বলেছি। আশা করি, কেউ ভুল বুঝবেন না। এখানে এ কথাটিও বলে রাখা উচিত, সাধারণ মানুষের কাজকর্ম করে খাওয়ার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা মতলববাজি ও স্বার্থসিদ্ধির রাজনৈতিক অভিলাষ দূর করতে পারলে রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনাও প্রশমিত হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে; ফলস্বরূপ রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা বন্ধ হয়ে দেশের মানুষের মনেও স্বস্তি ফিরে আসবে। আর আমরাও তেমনটিই প্রত্যাশা করি।

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

মিঠে কড়া সংলাপ

রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হোক

 ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন 
০৪ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় নির্বাচনের দিন-তারিখ যতটা ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনাও ততটা বেড়ে চলেছে এবং বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় সাংগঠনিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের দিকে পা বাড়াচ্ছে। বিএনপিকে এতদিন বলা হচ্ছিল, তাদের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করা সম্ভব নয়; আন্দোলনের ক্ষমতা বিএনপির নেই।

কিন্তু সেই বিএনপিই এখন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে নেমেছে এবং তাদের আন্দোলনকে রুখে দিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও কম কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে না। বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠ গরম বা মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কখনো কখনো উভয় দলের মধ্যে মারামারি, হানাহানি, ধাওয়াধায়ির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আর এসব নিয়ে বিএনপি অভিযোগ করে চলেছে যে, ইচ্ছা করে সরকারি দল একই দিনে একই স্থানে কর্মসূচি দিয়ে তাদের আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করায় সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে।

সম্প্রতি বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির দিন সিরাজগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি। সেদিনও সরকারি দল কর্মসূচি ঘোষণা করে রাস্তায় থাকায় তাদের লোকজনের ১৫-২০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আর এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি দলের সংসদ-সদস্য একই কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, ‘কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতি অল্প সময়ের মধ্যে ঝটিকা গতিতে বিএনপির লোকজন এসে মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে সটকে পড়েছে।’

উল্লেখ্য, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে সেসবের মাশুলও গুনতে হয়েছে। আর এ পদশে যুগ যুগ ধরে এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক কালচারে পরিণত হওয়ায় রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় গাড়ি-বাড়ি, দোকানপাট, বাস, ট্রেন ইত্যাদি জ্বালানো-পোড়ানো হয়ে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব নিয়ে হাজার হাজার মামলা করা হলেও দীর্ঘদিনেও সেসবের সুরাহা হয় না; অধিকাংশ মামলাই বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

কারণ, রাস্তাঘাটে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করে অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। মাঝখানে পুলিশি ঝামেলায় পড়ে অনেক নিরীহ মানুষকেও আদালত ও পুলিশের শরণাপন্ন হতে হয় এবং এতে করে তাদের পরিবার-পরিজনকেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কারণ, এসব মামলায় গণহারে আসামি দেওয়ায় অকুস্থলে যিনি ছিলেন না তাকেও আসামি করায়, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দেওয়ায় দোষী অপেক্ষা নির্দোষ ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারই বেশি দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হন। কারণ, আসল অপরাধীরা ঘাগু রাজনৈতিক ক্যাডার হওয়ায় তাদের অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। মাঝখানে অনেক নিরীহ-নিরপরাধ মানুষ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ায় একশ্রেণির পুলিশের ফায়দা লোটার রাস্তা প্রশস্ত হয়।

এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুর মেঘ দেখে ভয় পায়’ প্রবচনটি সামনে এসে যাচ্ছে। কারণ, আমাদের দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন মানে কী, তা আমরা সবাই জানি। আর এজন্যই বোধহয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, ‘বিএনপি পুনরায় আগুন-সন্ত্রাসের পথে পা বাড়াচ্ছে।’ তবে দেশের সাধারণ মানুষ যে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না, সে কথাটি বলাই বাহুল্য। দোকানপাট, ঘরবাড়ি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ তো নয়ই। কিন্তু দেশের মানুষ যা চান, তারা কি সবসময় তা পান?

প্রশ্নটির সোজা উত্তর হলো-না, পান না। কারণ, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এবং দেশের মানুষের চিন্তাধারা এক নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা-চিন্তা একদেশদর্শী; তারা ক্ষমতা ছাড়া কিছুই বোঝে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অপেক্ষা ক্ষমতাপ্রাপ্তিকেই তারা সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। তাদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো, ক্ষমতা দখল করে স্বার্থ উদ্ধার, তারপর জনগণ। মুখে তারা ‘জনগণই ক্ষমতার উৎস’ কথাটি বললেও মনেপ্রাণে তা ধারণ করেন না; বরং ভোটের সময় কারচুপির মাধ্যমে কী করে জনগণের ভোট চুরি করা যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভোট ডাকাতি করা যায়, সে চেষ্টাটিই করে থাকেন। ফলে একেকটি নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয় এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়।

এভাবে এ দেশে বেশ কয়েকটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে বা কোন পথে জনগণ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, দেশ ও জাতির সামনে সে বিষয়টি আক্ষরিক অর্থেই একটি জাজ্বল্যমান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চাইছে, নির্বাচনের সময় আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি ফিরিয়ে এনে নির্বাচন দেওয়া হোক। অন্যদিকে সরকারি দল বলছে, সংবিধান অনুযায়ী তা সম্ভব নয়। কারণ, সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতির বিলোপ করা হয়েছে; কস্মিনকালেও আবার তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে, সহসা তা মিটবে বলে মনে হয় না। নির্বাচন নিয়ে একটা সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আর সংঘাতের আগাম বার্তা হিসাবে বর্তমানে আমরা নিয়মিতভাবে বিরোধী দলের বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি সরকারি দলের শান্তি মিছিল প্রত্যক্ষ করে চলেছি, যা দেশের মানুষের কাছে একটি নতুন রাজনৈতিক কালচার বলেই মনে হচ্ছে।

সারা বিশ্ব করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের কুফল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। ‘ইউরোপের রুটির ঝুড়িখ্যাত ইউক্রেন পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। দিন, মাস, বছর অতিক্রম করে যুদ্ধ দ্বিতীয় বছরে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধের আগুনে আমেরিকার মতো পরাশক্তি ঘি ঢালা অব্যাহত রাখায় যুদ্ধ যে দীর্ঘায়িত হবে, সে কথাটি সবারই জানা।

কারণ, একই সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমেরিকার দোসর ইংল্যান্ডসহ কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্রও পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে এবং ইউরোপ-আমেরিকা মিলেমিশে তাদের অর্থ ও সমরাস্ত্র ইউক্রেনে পাঠিয়ে ইউক্রেনের ভূমি, সেনাবাহিনী ও জনগণকে ব্যবহার করার মাধ্যমে রাশিয়াকে শায়েস্তা করতে চাচ্ছে। এ অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন আমেরিকা ও রাশিয়ার মর্যাদা রক্ষার যুদ্ধে পরিণত হওয়ায় দুই পরাশক্তির যুদ্ধ সহসা থেমে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। আর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ যেভাবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, তার ঢেউ আমাদের দেশেও পৌঁছে গেছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বা ঠিক রাখতে আইএমএফ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে এবং সেই ঋণের প্রথম কিস্তি গ্রহণ করতে আইএমএফের কিছু কঠোর শর্ত পালন করতে বাধ্য হওয়ায় সাধারণ আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এর বিরূপ প্রভাবও পড়েছে। আবার চীন, ভারত ইত্যাদি রাষ্ট্রসহ আইএমএফ থেকে গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চীন, ভারত ইত্যাদি রাষ্ট্র থেকে গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধের তারিখও ঘনিয়ে এসেছে। জানা গেছে, আগামী নভেম্বর থেকেই কোনো কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে।

এ অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকটের মধ্যে দেশের জনগণের ঘাড়ে চেপে থাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়ভার পালন করার সময়কালেই যদি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের মতো দেশের জন্য তা বোঝার উপরে শাকের আঁটি হয়ে দাঁড়াবে। সুতরাং এ মুহূর্তে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত জরুরি ও অপরিহার্য।

আর যেহেতু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই, তাই দেশের স্বার্থে জেদাজেদি বা গোঁয়ার্তুমি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করাই হবে এখন সময়ের কাজ। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গের চিন্তাধারা বাদ দিয়ে সুষ্ঠুভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামাও বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতেও আমাদের দেশের মতো এত ভয়ংকর রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা দেখতে পাওয়া যায় না। আমাদের দেশের মতো যাত্রীসহ বাসে আগুন দেওয়া হয় না সেখানে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এসব করা হয়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মূলোৎপাটন করতে পারাটাই এখন সময়ের কাজ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। আর সে কাজটি করতে হলে সরকারি দল, বিরোধী দল, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে বলিষ্ঠ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

মুখে এক কথা আর মনে এক কথা, এমন অবস্থান গ্রহণ করলে কারও পক্ষেই তা সুফল বয়ে আনবে না। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুষ্ঠু ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে, ‘সালিশ মানি, তবে তালগাছটি আমার’ এমন মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধসহকারে আলোচনার টেবিলে বসে দেশের মানুষ যাতে নিজেদের ইচ্ছামতো স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং এ ধরনের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যাতে সরকার গঠন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, দেশের মানুষ কিন্তু সবকিছুই বোঝেন। সুতরাং সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছু করতে গেলে কোনো দল বা গোষ্ঠীর পক্ষেই তা সুখদায়ক হবে বলে মনে হয় না।

পরিশেষে বলতে চাই, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সংশিষ্ট সবাইকে সে কথাটি সম্যকভাবে অনুধাবন করে সঠিক পথে পা ফেলতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ কিন্তু ছেড়ে কথা বলবে না। তাছাড়া নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে বা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে তার সুযোগ গ্রহণ করতে বিদেশি শক্তিও বসে থাকবে না। আর এ ক্ষেত্রে আমেরিকার মতো মতলববাজ, যারা সারা পৃথিবীতে মতলববাজি করে চলেছে, তারা তো ওঁৎ পেতে বসেই আছে। সময়-সুযোগ পেলে তারা জনসাধারণকে উসকে দেওয়ার মতো কাজটিও করতে পারে। সিরিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই তাদের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এমন অঘটন ঘটানোর ক্ষেত্রে পারদর্শিতাও দেখিয়েছে।

এবারের নির্বাচন সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করতে না পারলে দেশে অশান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির সমূহ আশঙ্কা থেকেই উপরের কথাগুলো বললাম। আর দেশের সাধারণ মানুষ বা আমজনতা, যারা কাজকর্ম করে খেতে চায়, ঝুটঝামেলা পছন্দ করে না, বিশেষ করে তাদের কথা চিন্তাভাবনা করেই এসব কথা বলেছি। আশা করি, কেউ ভুল বুঝবেন না। এখানে এ কথাটিও বলে রাখা উচিত, সাধারণ মানুষের কাজকর্ম করে খাওয়ার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা মতলববাজি ও স্বার্থসিদ্ধির রাজনৈতিক অভিলাষ দূর করতে পারলে রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনাও প্রশমিত হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে; ফলস্বরূপ রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা বন্ধ হয়ে দেশের মানুষের মনেও স্বস্তি ফিরে আসবে। আর আমরাও তেমনটিই প্রত্যাশা করি।

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন