দেশপ্রেমের চশমা

দুই ফাইনাল খেলার প্রাথমিক বিশ্লেষণ

  মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ১৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবল
ফাইল ছবি

আজ রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। এ খেলায় কারা হবেন পরবর্তী চার বছরের জন্য ফুটবল চ্যাম্পিয়ন, তা নিয়ে চলছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা।

তবে ফুটবল জগতের দুই বিখ্যাত উত্তেজনা সৃষ্টিকারী লাতিন আমেরিকান দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এবার চ্যাম্পিয়ন দৌড় থেকে বিদায় নেয়ায় রাশিয়ার স্টেডিয়ামগুলোয় এবং দেশে দেশে ফুটবল উত্তেজনায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।

কারণ বিশ্বব্যাপী এ দুই দলের সমর্থন সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশেও ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এ দুই দলেরই সমর্থক প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ।

এ দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার শেষ নেই। বিতর্ক দলের খেলা নিয়ে, বিতর্ক তাদের স্টার খেলোয়াড়দের নিয়ে, বিতর্ক আরও অনেক কিছু নিয়ে। সে জন্য সাধারণ সময়ে ফুটবলের জাতীয় লীগ খেলাগুলোতে গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও বিশ্বকাপ এলেই বাড়ে উত্তেজনা।

তখন দেখা যায় নিজ সমর্থকদের সাপোর্ট দিতে সে দেশের পতাকা উড়িয়ে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোনোর আগেই এ দুই ফুটবল দল খেলা থেকে বিদায় নেয়ায় বাংলাদেশের স্পোর্টসসামগ্রী বিক্রেতা দোকানদার এবং পতাকা ফেরিওয়ালাদের খুবই মন খারাপ।

কারণ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা যদি অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্তও উঠতে পারত, তাহলে তাদের ফ্ল্যাগ ও জার্সি বিক্রির ব্যবসা ভালো হতো। এটা একদিক দিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য ভালো হয়েছে।

দেশের আকাশি আর হলুদ জার্সি এবং উল্লিখিত রঙের কাপড় অনেক বেঁচে গেছে। এ কাপড় যদি দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা যায়, তাহলে ২০৬ দেশের মধ্যে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৯তম স্থানে থাকা (ভারত, মালদ্বীপ, ভুটানের চেয়েও নিচে) বাংলাদেশের ক্রেজি ফুটবলফ্যানদের মধ্যে অসুস্থ বিতর্ক হ্রাস পাবে।

অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে এ অসুস্থতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ। কারণ অন্যবারের তুলনায় এবার পতাকা উড়েছে অনেক কম।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের একটা অবস্থান আছে। আমাদের দেশ অনেক বছর হল তিন ফরম্যাটেই (টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টি) ক্রিকেট খেলছে। মেয়েদের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় প্রমীলা ক্রিকেট দল সিরিজ জিতছে। সামনের বিশ্বকাপও হয়তো তারা খেলবে। এ দেশের ক্রিকেট স্টারদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তারা বিদেশে খেলেও সুনাম অর্জন করছে।

এমন রাইজিং অবস্থায় থাকার কারণে কিন্তু ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপের সময় বাংলাদেশের খেলাপ্রেমীরা অন্য কোনো দেশকে সমর্থন করে একটিও পতাকা ওড়ায় না। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে এ দেশের অবস্থানও মন্দ নয়। এ দেশের হুজুগে খেলাপ্রেমী নাগরিকদের মনস্তত্ত্ব বোঝা সত্যিই কঠিন।

ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সাউথ আফ্রিকার ফ্ল্যাগ তৈরি বা বিক্রি হয় না। জার্সির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অথচ নিজ দেশের ফুটবলে দেশ যখন ১৯৪তম স্থানে তখন তা নিয়ে কী মতামাতি। এই মাতামাতি অনেক ক্ষেত্রেই হাতাহাতিতে রূপান্তরিত হতে দেখা যায়।

কাজেই হুজুগে বাংলাদেশিদের সমর্থন যৌক্তিক ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে না। এখন মাতামাতি অনেকটাই কমে গেছে। কারণ ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা নেই।

কাজেই কে হবে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন; ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, নাকি প্রথববার ফাইনালে ওঠা ক্রেয়েশিয়া? এতে এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল থাকলেও মাতামাতি নেই।

কাজেই যেই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়াখায়ি বা হাতাহাতি যে হবে না তা বলা যায়।

খেলার ফলাফল আগে থেকে বলা যায় না। তবে ফাইনালে মেসি আর নেইমারের অনুপস্থিতি যে বাংলাদেশে রাতের শব্দদূষণ কমাবে, তা বলা যায়। সে দিক দিয়ে এটা ভালো হয়েছে।

ফুটবল টাকার খেলা। ফাইনালে যে দল জিতবে তারা পাবে ২৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর হারলে তারা পাবে ১৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দল দুটি যথাক্রমে পাবে ১৬৪ ও ১৫০ কোটি টাকা।

কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া চার দল প্রত্যেকে পাবে ১০৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। নকআউট পর্ব থেকে বাদ পড়া প্রতিটি দল পাবে ৮২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কোনো খেলায় না জিতলেও খেলার সুযোগ পাওয়া প্রতি দল দলীয় খরচ হিসেবে পাবে ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

শুধু টাকা আর টাকা। বিশ্বকাপে যেন টাকার ছড়াছড়ি। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা আছে; কিন্তু ক্রোয়েশিয়া এবারই প্রথম ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এরা লড়াকু দল।

অধিকাংশ খেলায় এরা প্রথমে গোল খায় এবং পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করে জেতে। এবারের বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। তারাও তাদের সব কলাকৌশল প্রয়োগ করবে ২০১৮-এর রাশিয়া বিশ্বকাপটি ঘরে নিতে।

এ প্রবন্ধের শিরোনামে দুই ফাইনাল বলতে আমি কিন্তু ফুটবল আর ক্রিকেটের ফাইনাল খেলার ফাইনালের কথা বুঝাইনি। আমি বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি ফুটবল আর রাজনীতির ফাইনাল খেলার কথা।

ফুটবল খেলার কথা তো এতক্ষণ বলা হল এবার রাজনীতির ফাইনালের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কিছু বলব। ফুটবল বিশ্বকাপ যেমন বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয়, তেমনি রাজনীতিও এ দেশের নাগরিকদের কাছে অধিকতর জনপ্রিয়।

বলা যেতে পারে ফুটবল বিশ্বকাপের চেয়ে রাজনীতির জাতীয় কাপ এ দেশবাসীর কাছে বেশি জনপ্রিয়। কারণ, ফুটবল বিশ্বকাপে জনগণ মাতামাতি করে, নিজ দলের পক্ষে গুণগান করে, দলীয় স্টারদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তর্ক-বিতর্কে নিয়োজিত হয়; কিন্তু তারা নিজেরা ওই খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

কিন্তু রাজনীতির জাতীয় কাপের খেলায় তারা কেবল মাতামাতি ও তর্কবিতর্কে জড়িতই হন না, তারা নিজেরাও এ খেলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তারাই ঠিক করে দেন কে হবেন চ্যাম্পিয়ন। সে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের কাজটি তারা ঠিক করেন একটি নির্বাচনী খেলায় অংশগ্রহণ করে ভোট প্রদানের মাধ্যমে।

আর এই চ্যাম্পিয়নরা ভোটার-খেলোয়াড়দের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে পাঁচ বছর দেশ পরিচালকের স্থান পান। তবে ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে বাংলাদেশি জাতীয় নির্বাচনী খেলার কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আছে।

বিশ্বকাপে যেমন টাকার ছড়াছড়ি, ঠিক তেমনি জাতীয় নির্বাচনের খেলায়ও টাকার ছড়াছড়ি। তবে বিশ্বকাপের টাকার অঙ্ক ফিফা উল্লেখ করে, কিন্তু বাংলাদেশি নির্বাচনের টাকা খেলোয়াড়রা কম করে মিথ্যা অঙ্ক উল্লেখ করে।

কিন্তু খরচ করে তার চেয়ে শতগুণ বেশি, যার বেশিরভাগ কালো টাকা। যার টাকা নেই, তিনি নির্বাচনে নমিনেশন পান না। মাতামাতির দিক থেকে ফুটবলের চেয়ে রাজনীতি অন্তত বাংলাদেশে এগিয়ে আছে।

আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে দুই খেলা পরিচালকদের ব্যাপারে। বিশ্বকাপ খেলা পরিচালকরা ফিফা ব্যাজধারী খ্যাতিমান রেফারি। তারা অন্যায়ভাবে কোনো রায় দেন না। কিন্তু নির্বাচনের পরিচালকরা কোনো বিশেষ ব্যাজধারী নন।

এ দেশে সরকার তাদের পছন্দমতো লোকদেরই নির্বাচন কমিশনের সিইসি এবং ইসি কমিশনার নিয়োগ করে। এ ব্যাপারে সংবিধানে আইন তৈরির সুযোগ থাকলেও তারা সে সুযোগ ব্যবহার করেন না।

পরিবর্তে লোক দেখানো অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেন। ফলে নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্বাচন পরিচালনা অধিকাংশ সময় নিরপেক্ষ হয় না।

সরকারি দলের পক্ষে নির্বাচনে দুর্নীতিকারীদের দুর্নীতি তারা না দেখার ভান করেন। তাদের দৃশ্যমান কোনোরকম শাস্তির ব্যবস্থা করেন না। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঠের রেফারিরা কোনো অন্যায় দেখলে ফাউল, হলুদ কার্ড, লাল কার্ড এবং পেনাল্টি ঘোষণা করতে দ্বিধা করেন না।

বিশ্বকাপে যেসব খেলা অনুষ্ঠিত হয় সে মাঠগুলো সুদৃশ্য ও সুন্দরভাবে তৈরি। মাঠগুলো উভয়পক্ষের খেলোয়াড়দের জন্য মসৃণ ও সমান। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠের অবস্থা খারাপ। এ মাঠ সমতল নয়। উঁচু-নিচু।

সব দলের খেলোয়াড়রা এ মাঠে একই রকমভাবে খেলতে পারেন না। সরকারি দলের খেলোয়াড়রা এ মাঠে বাধাহীনভাবে খেলতে পারেন। কিন্তু বিরোধী দলকে খেলায় অংশগ্রহণ করতে দিলেও তাদের ভালোভাবে খেলতে দেয়া হয় না।

তাদের জন্য মাঠ থাকে অসমতল। তাদের বিরুদ্ধে থাকেন লাইন্সম্যান, রেফারি ও অন্যান্য খেলা পরিচালকরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা ও হুমকি-ধমকি করে তাদের দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়।

সরকারি দলের খেলোয়াড়দের নেতাকর্মী-সমর্থকরা ফাউল করলেও রেফারি বাঁশি বাজান না। এমনকি বিরোধী খেলোয়াড়দের, বদলি খেলোয়াড়দের, কোচদের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী নেতাদের হয়রানি করা হয়।

তাদের অনেককে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খেলায় অযোগ্য ঘোষণার চক্রান্ত করা হয়। বিরোধীদলীয় খেলোয়াড়দের সমানভাবে প্রচারণার সুযোগ দেয়া হয় না। পেশিশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার রোধে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

সরকারি দলের খেলোয়াড়রা ডি বক্সের (নির্বাচন বুথের মধ্যে) মধ্যে ফাউল করলেও পেনাল্টি দেন না রেফারি। কাজেই মাঠের খেলায় বিশ্বকাপের খেলোয়াড় ও রেফারিদের এবং রাজনীতির মাঠের খেলোয়াড় ও রেফারিদের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষণীয়।

রাজনীতি ও বিশ্বকাপের খেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হল রাজনীতিতে খেলাশেষে পরিচালিত হয় ‘উইনার টেকস অল’ নীতি; কিন্তু বিশ্বকাপে তেমনটি হয় না।

ফুটবল বিশ্বকাপে যে দল হেরে যায়, তারাও সম্মান পায়। টাকা ও পুরস্কার এবং দলীয় খেলোয়াড়রা মেডেলও পান। এ কথা ঠিক যে, হেরে যাওয়া দলটি চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে কম টাকা-পুরস্কার পান, কিন্তু তাদেরও যথেষ্ট সম্মান দেয়া হয়।

পরাজিত হলেও তারা জয়ীদের কাছ থেকে সম্মান পান। অনেক সময় পরাজিতদের বিজয়ী খেলোয়াড়রা নিজের গায়ের জার্সি বদল করে সম্মান করেন। সবার সঙ্গে হাত মেলান। বুক মেলান।

আর দেশে পৌঁছলে পরাজিত হলেও তাদের দেয়া হয় রাজকীয় সম্মাননা। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠের খেলার চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে হেরে যাওয়া দল কিছুই পায় না। তারা নির্বাচনের পর পালিয়ে বেড়ায়।

অনেক খেলোয়াড়ই রাতে বাড়িতে ঘুমান না। তাদের কোনোরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা তো দেয়াই হয় না, পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা, নিপীড়ন ও নির্যাতন চলে। তাদের অনেককে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়।

অত্যাচারের ভয়ে অনেকে বিদেশে চলে যান। কাজেই বিশ্বকাপের খেলা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও রাজনীতির খেলা পরিচালকদের অনেক কিছু শেখার আছে।

শেখার আছে খেলার মাঠ সমতল করার কলাকৌশল, প্রতিপক্ষকে সম্মান দেয়ার রীতিনীতি এবং যোগ্যকে অভিনন্দন জানানোর ইচ্ছাশক্তি অর্জনের ক্ষমতা।

ফিফার বিশ্বকাপ তো শেষ হচ্ছে আজ। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা এ খেলা থেকে কিছু শিখে তা আমাদের রাজনীতির খেলার মাঠে চর্চা করবেন কিনা, সেটাই হল বড় প্রশ্ন।

কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরে। আর দেরি নেই। এখন যদি এই খেলার ফিফা, অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন, যদি খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমতল মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেয়, যদি সব দলের প্রতি সমান আচরণ করে, যদি সরকারদলীয় খেলোয়াড়রা ফাউল করলে রেফারি (ইসি) বাঁশি বাজান, হলুদ ও লাল কার্ডের ব্যবহার করেন, বিজয়ী দল যদি বিজিত দলকে সম্মান করেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান দেন, তাহলে আশা করা যায় বাংলাদেশে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ফাইনাল খেলাটি এ দেশের নাগরিকদের জন্য রাশিয়া বিশ্বকাপের চেয়ে উপভোগ্য হবে।

তবে রাজনীতির ফাইনাল খেলার আগে যে অনুশীলন ম্যাচগুলো হচ্ছে (স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো) তার লক্ষণ দেখে জনগণ হতাশ হয়ে পড়ছেন। সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবলের নিয়মনীতির চর্চা লক্ষিত হচ্ছে না।

আমাদের প্রত্যাশা জাতীয় রাজনীতির খেলার আয়োজকরা যেন সামনের তিনটি অনুশীলন ম্যাচ এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের রীতিনীতির চর্চা করেন, এ দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে ইনক্লুসিভ করেন এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেন।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter