শেকড়ে হাত দিতে হবে

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. এম এ মাননান

কচি মুখ, মায়া মায়া চেহারা। বয়স কতই বা হবে? বড়জোর ১৩-১৪ বছর। দাঁড়িয়ে আছে একটি প্লাকার্ড হাতে নিয়ে আগারগাঁও শিশু হাসপাতালের সামনে। প্লাকার্ডে লেখা : ‘বিবেক তবে কবে ফিরবে’। তার পেছনে আরও অনেক কিশোর-কিশোরী, তারই বয়সী। সবাই নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে।

তারা কেন রাস্তায় নেমে এসেছে? হয়তো তারা এটুকু বুঝেছে যে, ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা ফ্লাইওভারের ঢালে দুই বাসের রেষারেষিতে দেয়ালের সঙ্গে থেঁতলে যাওয়া ছাত্রছাত্রী দিয়া ও রাজিবের মতো তারাও একদিন অঘোরে মারা পড়তে পারে বেপরোয়া অদক্ষ ভাড়ালোভী গাড়িচালকের হাতে।

দিয়া-রাজিব তাদের পরিচিত কেউ নয়, তবুও ভীত কিশোর-কিশোরীরা ‘আতঙ্কিত ভবিষ্যতের’ কথা চিন্তা করে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়। মনেপ্রাণে কামনা করছে, হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের টনক নড়বে কিংবা মাদকাশক্ত, উচ্ছৃঙ্খল বেপরোয়া চালকদের বিবেক জেগে উঠবে।

তারা দল বেঁধে গাড়ির ফিটনেস, চালকের লাইসেন্সসহ কাগজপত্র দেখছে ভদ্রভাবে; কাগজ ঠিক না থাকলে গাড়ির চাবি নিয়ে তুলে দিচ্ছে পুলিশের হাতে- সেই পুলিশের হাতে, যার কাজই ছিল এসব কাগজ চেক করা। তাদের নির্দেশনায় লাইন ধরে চলছে সব গাড়ি।

কোনো বিশৃঙ্খলা নেই রাস্তায়। বাংলার সবুজেরা রোদে-গরমে-ঘামে-বৃষ্টিতে একাকার হয়ে ওই কাজটিই করছে, যা করার কথা তার বাবা-চাচার বয়সী কর্তাব্যক্তিদের, যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে হয়তো পান চিবুচ্ছেন। বয়সীদের লজ্জা রাখার জায়গা আছে কি?

কয়েক যুগ ধরে চলা সড়কের নৈরাজ্য ক্রমান্বয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। এখন চালকদের কাছে যাত্রী-পথচারীরা পক্ষীতুল্য। তারা খালি রাস্তায় পথচারীদের চাপা দিচ্ছে, দেয়ালে পিষে মারছে, ফুটপাত ধরে হাঁটা মানুষের আচমকা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, রাস্তার পাশের দোকানপাটে গাড়ি তুলে দিচ্ছে, গাড়ির ভেতর থেকে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে, পানিতে ফেলে দিচ্ছে, নারী লাঞ্ছনার উন্মত্ততায় মেতে উঠছে, আর যাত্রী হয়রানি তো তাদের কাছে ওয়ান-টু’র ব্যাপার।

চালকরা এসব করছে আর মালিকরা তা দেখে ভ্রুটা পর্যন্ত কুঁচকাচ্ছে না। মালিকরা অদক্ষ ও মাদকাশক্ত চালকের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দিচ্ছে নির্দ্বিধায়। তাদের গাড়ির ফিটনেস আছে কি না, চালকের সঠিক লাইসেন্স আছে কি না, গাড়ির বডির রং ঠিক আছে কি না- এসব নিয়ে তাদের কোনো ভাবনাই নেই। থাকার দরকারই বা কী? কে তাদের কী করবে? করার কেউ আছে কি?

১৯৮২ সালে প্রণীত একটা আইনে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ-মারা চালকদের অজামিনযোগ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল; কিন্তু পরে মালিক-শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করে যাবজ্জীবন করা হয়। চমকে যাওয়ার বিষয় হল, পরবর্তীকালে একই স্বার্থান্বেষী গ্রুপের আন্দোলন-লবিংয়ের কারণে সাজার সময় ১৪ থেকে ৭-এ এবং আরও পরে ৩ বছরে নামিয়ে আনা হয় এবং নরহত্যার অপরাধকে জামিনযোগ্য করা হয়।

ব্যস, আর যায় কোথায়? বেপরোয়া চালকরা রাস্তায় মানুষ খুন করে ধরা পড়লে কোর্টে গিয়ে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে মহাআনন্দে আবার মানুষ মারার মিছিলে যোগ দেয়। পেছনে তো প্রভাবশালী পরিবহন-মাফিয়াদের সমর্থন আছেই।

২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর থেঁতলে যাওয়া মরদেহ পত্রিকায়-টিভিতে দেখে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত মনে রাস্তায় নেমে আসে বেপরোয়া চালকদের ধারাবাহিক নৈরাজ্যসহ গণপরিবহনে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করার লক্ষ্যে। এ আন্দোলন এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, এটি নৈরাজ্যের হাত থেকে নিজেদের বাঁচার জন্য এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের নাগরিকদের বাঁচানোর জন্য।

৪ আগস্ট দুপুরে যখন এ নিবন্ধটি লিখছি, তখনও খবর পেলাম গাজীপুরের বড়বাড়ির কাছে এক কলেজছাত্রীকে কাভার্ডভ্যান চাপা দিয়ে মেরেই ফেলেছে। আগের দিনও অন্তত ১০ জনকে চাপা দিয়ে মেরেছে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই। আরও ভয়ংকর বিষয় হল, পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলেছে এবং নাস্তানাবুদ করতে পিছপা হচ্ছে না। বেপরোয়া হওয়ার সীমা পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এরা চালক নয়, চালক নামের দুর্বৃত্ত। এদের সঙ্গে সঙ্গে যারা এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও কঠিন বিচার হওয়া জরুরি। এদের হাতে কেউ নিরাপদ নয়। এমনকি কর্তাব্যক্তিরাও নয়। সাবধান হওয়ার সময় কি পার হয়ে যাচ্ছে না? আমরা চাই, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে তো নয়ই, এমনকি প্রকাশ্যেও যেন কোনোভাবেই না কেঁদে মরে।

শহরে যারা বসবাস করেন তারা কে না জানেন, চলাচলরত যানবাহনের অধিকাংশেরই লুকিং গ্লাস, ব্রেক লাইট ও সিগনাল লাইট নেই বা থাকলেও কাজ করে না। অসংখ্য গাড়ির অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক কোনো ফিটনেসই নেই। বাসগুলোর শরীরের দিকে তাকানো যায় না। মনে হয়, কোনো একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শহরের রাস্তায় বোমাক্রান্ত গাড়ি নামানো হয়েছে। কত দেশ ঘুরলাম, এমনটি কোথাও চোখে পড়েনি।

এমনকি আমাদের প্রায় সমতুল্য দেশ ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স বা ইন্দোনেশিয়ায়ও। একটি সভ্য দেশে এমনতরো ফিটনেসবিহীন বাস কেন রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে? ঘুমে ঢুলুঢুলু মাদকাশক্ত চালকদের কেন গাড়ি চালাতে দেয়া হবে? নীতিনির্ধারক আর কর্তাব্যক্তিদের মনটাও কি দিন দিন ময়লা হয়ে যাচ্ছে? নাকি সাময়িক লাভের আড়ালে লুকিয়ে থাকছে?

গণপরিবহন এখন হয়ে গেছে একটা প্রয়োজনীয় জঞ্জাল। এ জঞ্জাল চিরকালের জন্য ক্লিনও করা যাবে না, আবার ধরে রাখাও বিপজ্জনক। আনতে হবে শৃঙ্খলার কাঠামোতে। গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য মূলে হাত দিতে হবে : ১. স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তিকে পরিবহন খাতের নেতৃত্ব থেকে তুলে এনে দেশের নেতৃত্বে রাখা কিংবা পরিবহন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িত রাখা যাবে না। এরা সবসময় নৈরাজ্য জিইয়ে রাখতে চাইবে তাদের গোষ্ঠীস্বার্থে।

২. গণপরিবহন সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য তিনটি সরকারি সংস্থা- সড়ক ও সেতু বিভাগ, বিআরটিএ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিভাগ বিদ্যমান আইনকানুন আর বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করলে কোনো সমস্যা থাকারই কথা নয়। এগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করলে পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। বিরাজমান সমস্যার অনেক শেকড় এ সংস্থাগুলোর মধ্যেই নিহিত। শেকড়ে টান দিতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

৩. শুনতে ভয়ংকর মনে হলেও বাস্তবতা হল, দেশে ১৬ লাখ গাড়িতে লাইসেন্সধারী চালক নেই এবং লক্ষাধিক বাস-ট্রাকের ফিটনেস সনদ নেই (যুগান্তর, ৩ আগস্ট ২০১৮)। মানুষের জীবন-মরণের স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে চলে যে চালকেরা তাদের প্রশিক্ষিত করা সরকারের অবশ্য করণীয়র মধ্যে পড়ে।

সরকারি উদ্যোগে সব জেলায় প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে ড্রাইভিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ করে তুলতে হবে। চালক-নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করে নিশ্চিত করতে হবে কোনো চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা যেন অবশ্যই মাধ্যমিকের নিচে না হয় (হেলপারকেও কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী পাস হতে হবে)। যারা ইতিমধ্যে গাড়ি চালনা শিখেছে কিন্তু মাধ্যমিক পাস করেনি, তারা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী প্রায় সতেরশ’ স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে দূরশিক্ষণে (ফ্রি-পাঠ্যবই, ই-বুক, ই-প্লাটফর্ম, ওয়েভটিভি-রেডিও, মোবাইল এসডিকার্ডে ভিডিও লেকচার) লেখাপড়া করে মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে। প্রয়োজন শুধু ইচ্ছা আর আয়োজনের।

৪. গাড়িচালক নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় একটি সংস্থা তৈরি করতে হবে, যার দায়িত্ব হবে চালকদের দক্ষতা আর মাদকাশক্তির পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) করে ‘চালক-ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ইস্যু করা। এ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো যানবাহনের মালিক, এমনকি ব্যক্তিগত কারের মালিকও চালক নিয়োগ দিতে পারবেন না। ঠিক এনটিআরসির মতো। শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ সংস্থাটি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নিয়ে সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে, যার ভিত্তিতে একজন ব্যক্তি মাধ্যমিক স্কুলে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এ রকমটি করা হলে শৃঙ্খলা অনেকটা ফিরে আসবে।

৫. গাড়ির মালিকদেরও যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। তারা ফিটনেস সার্টিফিকেট (ওটি না হওয়া পর্যন্ত বৈধ লাইসেন্স) ছাড়া কাউকে চালক হিসেবে নিয়োগ দেবেন না; দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করে দিতে হবে।

৬. গণপরিবহন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস বিধায় মালিক বা শ্রমিক সংঘ সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো ছুতাতেই পরিবহন ধর্মঘট ডাকতে পারবে না। এক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান অপরিহার্য।

৭. শহরের রাস্তার পাশে ফুটপাত তৈরিসহ রক্ষণাবেক্ষণ সরকারের জনদায়িত্বের একটি অংশ।

৮. রাস্তায় চলাচলের নিয়মকানুন শিশুদের প্রাইমারি স্কুল থেকেই শিক্ষা দিতে হবে। শ্রীলংকায় দেখেছি, স্কুলের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন ট্র্যাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করে তাদের স্কুলের সামনের রাস্তায়।

৯. উল্টোপথে গাড়ি চালালে বা লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় গাড়ি নামালে চালক-মালিককে আইনের হাতে সোপর্দ করার ব্যাপারে কার্পণ্য করা যাবে না; কেউ তদবির করলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।

৯. নির্দিষ্ট বাসস্টপে গাড়ি থামানো নিশ্চিত করাসহ রাস্তায় যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা জরুরি।

১০. চালক ও হেলপারদের মাসিক ভিত্তিতে ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার জন্যও আইন প্রয়োজন। তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাসহ চাকরির নিশ্চয়তার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবীমা ও পেনশনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হোক। তারাও তো আমাদের দেশের সম্পদ।

১১. ট্রিপভিত্তিক মজুরি প্রথা আইন করে বন্ধ করতে হবে। না হলে চালকে চালকে প্রতিযোগিতার কারণে দিয়া আর রাজিবের মতো ছেলেমেয়েরা মরতেই থাকবে। ১২. সর্বোপরি, নিরাপদ সড়কের জন্য প্রয়োজন সুশাসন, যা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়। প্রতিটি জেলা শহর আর উপজেলায় জনসাধারণের প্রতিনিধি (সুশীলসমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থী) এবং সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘সড়ক পরিবহন শৃঙ্খলা কমিটি’ গঠন করে এ কমিটিকে সংসদের কাছে অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন জমাদানে দায়বদ্ধ করে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলে আশা করা যায় জনগণের অংশগ্রহণের কারণে এটি কার্যকর ফল দেবে।

আলো যখন নিজকে উজাড় করে দিয়ে চারদিক উদ্ভাসিত করে ছড়িয়ে পড়ে, তখন একধরনের পোকা হঠাৎ উড়ে এসে আলোর চারদিক বেষ্টন করে আলোর মাধুর্য মলিন করে দেয়। আমাদের অল্পবয়সী কিশোর-কিশোরীরা আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে সড়কের শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় যখন নিজেরা যুক্ত হয়ে কর্তাব্যক্তিদের চোখে আঙুল দিয়ে তাদের কর্তব্যে অবহেলার ঘোমটাটা খুলে দেখিয়ে দিচ্ছিল, তখন কোথা থেকে হঠাৎ পোকা এসে তাদের ভালো উদ্যোগ নস্যাৎ করে দেয়ার চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।

সাবধান না হলে অশুভের হাতে পড়ে শুভ হারিয়ে গিয়ে চলে যাবে নষ্টদের দখলে। সুবিধাবাদী অশুভরা সুযোগ নিতে পারে, গুজব ছড়িয়ে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় মেতে উঠতে পারে। স্কুল ড্রেস পরে শিক্ষার্থী সেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে স্যাবোটাজ ঘটাতে পারে। বহু বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে সম্বল করে ফায়দা লুটতে পারে। শুভের ওপর অশুভ ভর করে মহৎ উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। আমরা কামনা করি, পরিবহনসহ সর্বক্ষেত্রে হরেক রকমের নৈরাজ্য চিরতরে নির্মূল হোক, কৈশোরের আলোর মিছিল আরও উজ্জ্বল হোক, আলোয় আলোয় ভরে যাক সোনার বাংলা।

পরিশেষে, কচি মুখের মায়াবী চেহারার বিক্ষুব্ধ, শঙ্কিত শিক্ষার্থীদের বলছি, তোমাদের ‘একদম ক্লিয়ার মেসেজ’ যথাস্থানে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি সংস্থাগুলো তোমাদের সন্দেহাতীত ন্যায্য দাবিগুলোর বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। তোমরা সুশিক্ষিত মানুষ

হয়ে নিজের প্রিয় দেশটিকে মনের মতো করে গড়ে

তোলার দায়িত্ব নাও। তোমরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আলোর মশালবাহী।

ড. এম এ মাননান : শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট; উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়