নির্বাচন এবং রাজনীতির খেরোখাতা

  এ কে এম শাহনাওয়াজ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন এবং রাজনীতির খেরোখাতা

ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের মাঠ সরগরম। নির্বাচন সব দলের কাছেই চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন সামনে রেখে এর মধ্যে একটি নতুন মোর্চা গঠন করা হয়েছে।

১৯৫৪ সালের তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনী জোটের নামের মতো করে নবগঠিত জোটের নাম দেয়া হয়েছে ‘যুক্তফ্রন্ট’। অনেক বিলম্বে হলেও বিএনপি নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা শুরু করেছে। রাজনীতির মাঠে অনেকদিন প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকার পর বিএনপির জন্য একটি সুযোগ এনেছিল দলটির চল্লিশ বছর পূর্তি আয়োজন। বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে অন্তরীণ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশান্তরে।

এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপরও ১ সেপ্টেম্বর অনেকটা সফলভাবেই রাজধানীতে দীর্ঘ খরার পর একটি বড় জনসভা করল বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব এ সভা থেকে সরকারের কাছে নির্বাচনপূর্ব দশ দফা দাবি পেশ করলেন।

যদিও নির্বাচনের যেটুকু সময় বাকি তাতে এতসব দাবি পূরণের পক্ষে কাজ করা কঠিন। তারপরও একটি প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এসব দাবি পূরণের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সময় বেঁধে দেয়া নেই। আবার নির্বাচনের আগে দাবি পূরণ না হলে বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেবে সে সম্পর্কেও কোনো আলোকপাত ছিল না। অর্থাৎ আমাদের মনে হয়েছে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এখনও বোধহয় তাদের লক্ষ্য স্থির করতে পারেননি।

এ দুর্বলতা তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের কতটা উজ্জীবিত করবে বলা মুশকিল। উপরন্তু অনেক বছর ধরে দল সুগঠিত করার তেমন উদ্যোগ আমরা লক্ষ করিনি।

জন্ম যেভাবেই হোক জিয়াউর রহমান বিএনপি নামের দলটিকে একটি শক্ত ভিত দিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী পরিচালকরা শুদ্ধমন ও প্রজ্ঞার পরিচয় না দিতে পারলেও আওয়ামী লীগের ক্রমাগত রাজনৈতিক ব্যর্থতার সুযোগে দলটির শক্তিবৃদ্ধি ঘটে।

এভাবে বিএনপি অল্প সময়ের ব্যবধানেই এদেশের একটি বড় দলে পরিণত হয়। একইভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব পরস্পরের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে গিয়ে ক্রমাগতভাবে আত্মবিশ্বাস হারাতে থাকে। তাই উভয়পক্ষই সুস্থ রাজনীতির পথে না হেঁটে নানা অলিগলি খুঁজতে থাকে। সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করার পরও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারেনি তারা। এর নগদ প্রমাণ ছিল ২০০৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিএনপি-শাসনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ প্রায় পূর্ণ সমর্থন জানায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মহাজোটকে। অমন জনসমর্থন অনেক বেশি সাহসী করে তুলতে পারে একটি রাজনৈতিক দলকে। সেবারেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সুযোগ ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। দিন বদলে দেয়ার স্লোগানকে ঠিকই বাস্তব রূপ দিয়ে আওয়ামী লীগ নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারত।

খেরোখাতা খুলে আমরা আরেকটু পেছনে তাকাতে পারি। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন পাওয়া ও সরকার গঠন করার বিষয়টি নিশ্চয় অনেকের স্মরণে আছে। শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনায় খুব যে খারাপ ভূমিকা রেখেছিলেন তা বলা যাবে না।

কিন্তু দলীয় সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ না করতে পারায় শেষ দিকে জনআস্থা থেকে অনেকটা সরে যান। দলীয় গডফাদারদের প্রশ্রয় দিয়ে মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল সরকার। ফলে সাধারণ ভোটার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিতে কিছুমাত্র দ্বিধা করেনি। সরকার গঠন করার পর বিএনপি-জামায়াত জোট আওয়ামী লীগকে দেখে কোনো শিক্ষা নেয়নি সে সময়। ক্ষমতার মায়াজালে বন্দি হয়ে সতর্ক জনগণের কথা ভুলে যায়। মনোযোগ দেয়নি সুশাসন প্রতিষ্ঠায়। দলীয় সন্ত্রাসের লাগাম টেনে ধরা যায়নি।

দুর্নীতির থাবা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। হাওয়া ভবন নামে নতুন উৎপাত বিষণ্ণ করে তুলেছিল সাধারণ মানুষকে। ফলে খাদের শেষ কিনারায় দাঁড়িয়ে অন্ধকার পথে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরি করে তখন। বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন দিয়ে লক্ষ্য পূরণ করতে চেয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক সংকট ভয়ানক জটিল আকার ধারণ করে।

প্রতিফল হিসেবে বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে চলে যায় দেশ। প্রায় দু’বছর প্রলম্বিত হয় এ সরকারের কালপরিসর। বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নেতাদের অনেকে কারারুদ্ধ হন। দুর্নীতির দায়ে ধরাশায়ী হন বিএনপির অনেক রাঘব বোয়াল। এসব বিচারে আশাবাদী মানুষের আশা ছিল ১/১১ থেকে সব অঞ্চলের রাজনীতিকরা শিক্ষা নেবেন। নতুন আলোর প্রক্ষেপণ আসবে রাজনীতিতে।

দেশপ্রেমের শক্তিতে পুনর্জাগরণ ঘটবে। সন্ত্রাস-দুর্নীতি তেমন ঠাঁই পাবে না দলগুলোতে। সুস্থ রাজনীতি ফিরে আসায় বাংলাদেশ এবার সাফল্যের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বোঝা যাচ্ছিল কৃতকর্মের কারণেই নির্বাচনে বিএনপি অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যাবে। এগিয়ে আসবে আওয়ামী লীগ।

মহাজোট গঠন করে নির্বাচনী শক্তি অনেকটা বৃদ্ধি করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ। তার মধ্যে দিন বদলের স্লোগান যুতসই কাজে লাগে। একদিকে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতি ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্বের গাঁটছড়া বাঁধা, অন্যদিকে মহাজোটের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্র“তি আওয়ামী লীগকে অনেকটা এগিয়ে রাখে। নতুন স্বচ্ছ ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অনেক ভোটার যুক্ত হয়। এরা প্রধানত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বেড়ে উঠতে চায়। এসব ভোটারের আস্থা চলে আসে আওয়ামী লীগের দিকে। এসবের যোগফল ঠিক মিলে যায়। বিপুল বিজয় আসে মহাজোটের পক্ষে। যে প্রসঙ্গের আলোকপাত আছে ওপরের আলোচনায়।

নানা ঘাটের মিলনমেলায় সুবিধাবাদী রাজনীতিকদের সমাবেশ সবচেয়ে বেশি বিএনপিতে। নিয়মতান্ত্রিক সুস্থ রাজনীতি নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভেতর আশা করা যায় না। বিএনপি নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসের জায়গাতে ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। এ কারণে বিএনপি সুস্থধারার রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার পথে হাঁটতে পারেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে প্রথমে একটি হীনম্মন্যতা গ্রাস করে।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধস্নাত একটি দেশ। তাই স্বাভাবিকভাবেই এদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ বড় জায়গা নিয়ে থাকবে। বিএনপি নেতৃত্বের হতাশার কারণ এখানেই। যেহেতু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্ব দেয়া দল, তাই এদিক থেকে আওয়ামী লীগকে টপকানো দরকার হয়ে পড়ল বিএনপির। বিএনপির জন্ম ১৯৭৮-এ হলেও বিএনপি মুক্তিযুদ্ধবিচ্ছিন্ন দল নয়। এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। এখান থেকেই বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায় তৈরি হতে পারত।

কিন্তু আত্মবিশ্বাস হারানো বিএনপি নেতৃত্ব মনে করল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান যেন অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে। তাই ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করে স্বয়ং জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় যে দাবি করেননি, তার উত্তরসূরিরা সে দাবি করে হতবাক করলেন শুধু দেশবাসীকেই নয়- জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মাকেও। এক সুন্দর (!) সকালে বিএনপি নতুন তথ্য নিয়ে হাজির হল।

বলা হল জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক। পাঠ্যবইতে লেখা হল জিয়াউর রহমান ঘোষণা না দিলে পাকিস্তানি আক্রমণে হতাশ বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আমি আঁতকে উঠলাম। বিএনপি নেতৃত্বের এ কেমন হঠকারী আচরণ! সাময়িক রাজনৈতিক লাভের জন্য বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকদের মাথা হেট করে দিলেন। ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন পুরো দলটিকে।

এসবেও স্বস্তি পেলেন না বিএনপি নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ আছে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। এর সত্যমিথ্যা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কিন্তু কেন যেন অভিযোগটি অস্বস্তি তৈরি করে বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে। বিএনপি নেতৃত্ব যেন আতঙ্কের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করতে থাকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনকে। যেন মনে করতে থাকে জাতীয় শোক দিবস নতুন প্রজন্মকে একটি কালো অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

তাই খালেদা জিয়া যখন বিএনপির হাল ধরেছেন, তারই একটি পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসহীন বিএনপি নেতানেত্রীরা কাঁঠাল ভাঙলেন স্বয়ং নেত্রীর মাথাতে। গিনিপিগ হতে হল বেগম জিয়াকেই। ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়া হল তাকে। হঠাৎ করে আরও এক সুন্দর (!) সকালে জাতি জানলেন খালেদা জিয়া জন্মেছিলেন ১৫ আগস্ট।

আর এভাবেই শোক দিবসকে চাপা দিয়ে ‘সুখ দিবস’ অর্থাৎ ঘটা করে নেত্রীর জন্মদিবস পালন করার আয়োজন শুরু হল। আমি ইতিহাসের ছাত্র। ইতিহাস গবেষণায় সামান্য যুক্ত থাকি। তাই গবেষণা পদ্ধতি অবলম্বন করে বেগম জিয়ার জন্ম উৎসব পালনের ‘ঐতিহাসিকতা’ খোঁজার চেষ্টা করেছি। দেখা গেল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ফার্স্ট লেডি হিসেবে ১৫ আগস্টে কখনও খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালিত হয়নি। বিএনপি সভাপতি হওয়ার পরপরও নয়।

রাজনীতির এসব নিুমানের আচরণ নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বও এখন আর এ দুই বক্তব্যে কণ্ঠ আগের মতো উচ্চকিত করেন না। কিন্তু এসব কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই বিএনপি নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা এখন আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভুগছেন।

আওয়ামী লীগ গত দুই পর্বের শাসনে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে, যেখানে বিএনপির অতীত ভাণ্ডার অনেকটা শূন্য। সেই বিচারে আওয়ামী লীগের আসন্ন নির্বাচনের আগে যতটা নিঃশঙ্কচিত্ত থাকার কথা, নেতানেত্রীদের চলনে-বলনে যতটা ফুরফুরে হওয়ার কথা, বাস্তব ক্ষেত্রে ততটা দেখা যাচ্ছে না

। বক্তৃতায় ও আচরণে খবরদারি ভাব না দেখিয়ে এই অল্পসময়েও মানুষকে বিশ্বাস করানো উচিত যে, সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুর্নীতি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার সদিচ্ছা নিয়ে এগোচ্ছে।

সরকারি দলের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি। এই দলের নেতৃত্বেরও ফাঁকা বাগাড়ম্বরে আটকে না থেকে কর্মী-সমর্থকদের মাঠের রাজনীতিতে কীভাবে সক্রিয় করা যায় তা জরুরি বিবেচনায় ভাবা প্রয়োজন।

এনপি নেতাদের বুঝতে হবে তারা কী দশায় নিয়ে এসেছেন দলটিকে! আজ যুক্তফ্রন্ট নেতারা বিএনপি নেতাদের তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। আসন ভাগাভাগির কর্তৃত্ব থাকছে যেন ফ্রন্ট নেতাদের হাতে। আমাদের তো মনে হয় বাগাড়ম্বর আর ষড়যন্ত্র কোনো পথেই সরকার হঠানো কঠিন হবে। রাতারাতি কিছু হবে না। ভবিষ্যতে দলকে শক্তিশালী দেখতে হলে নির্বাচনকে উপলক্ষ করে দল পুনর্গঠনটিই এখন বিএনপির জন্য জরুরি।

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter