সড়কের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও সচেতনতা চাই

  অমিত রায় চৌধুরী ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও সচেতনতা চাই
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি দৃশ্য

কিশোর বসন্ত বা সবুজের দ্রোহ- যে নামেই ডাকি না কেন নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন নাগরিক মানসে যে ঢেউ তুলেছে, তা যথেষ্টই কৌতূহলোদ্দীপক। রাজনীতি নিরপেক্ষ এমন স্বতঃস্ফূর্ত, সাবলীল, সুশীল, প্রতিবাদ কর্মসূচির নজির শুধু দেশীয় পরিমণ্ডলে নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও বড় একটা দেখা যায় না।

অত্যন্ত স্বল্পসময়ে দৃশ্যমান বিক্ষোভের এ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এক লহমায় গোটা সমাজকে আত্মবীক্ষণের মুখে দাঁড় করিয়েছে, অভূতপূর্ব এ বিদ্রোহের গতিপথ, প্রকৃতি, সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া- চুলচেরা বিশ্লেষণ এসেছে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণে, নানা মাত্রিকতায়।

‘দ্য স্টেইট ইজ আন্ডার রিপেয়্যার’- প্রতীকী বাক্যবন্ধে বেদনার্ত তারুণ্যের এ মুষ্টিবদ্ধ অঙ্গীকার গাঙ্গেয় সমতটের চেতনা প্রবাহে এক অপরিমেয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৪৭ বছর আগে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষায় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপরিপন্থী জটিল আর্থ-সামাজিক ঘূর্ণাবর্তে নিক্ষিপ্ত হয়। দীর্ঘ সামরিক শাসন একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমেই দুর্বল করে ফেলে।

জনমানসে ভোগ, কপটতা, সুবিধাবাদ, বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার আধিপত্য বিস্তৃত হতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিধৌত ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মতো উচ্চ নৈতিক আদর্শ নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমলাতন্ত্র ও রাজনীতিতে সুবিধাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতির সংক্রমণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে আমলা ও রাজনীতিকদের একটি অংশ জনগণের সেবক না হয়ে সামন্তপ্রভু বনে যান। সত্যি সতিই সর্বত্যাগী রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতির পরিসর কঠিন ও জটিল হয়ে উঠতে থাকে।

‘স্বল্পতম সময়ে ন্যূনতম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা’- যখন বিদ্যমান ব্যবস্থায় জনপ্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণী মন্ত্র, তখন গন্তব্যই পথকে নির্দেশ করে। বিভিন্ন সেবা খাতে রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব কমে আসায় নব্য সুবিধাভোগী একটি শ্রেণী রাতারাতি মুনাফার লোভে বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ফলে একদিকে যেমন ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ক্রমাগত বেড়ে চলে, অন্যদিকে মুষ্টিমেয় মানুষের কাছে সম্পদ কুক্ষিগত হওয়ায় পরিবহনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা খাতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতে চলে যায়। যে সমাজে নীতিবোধ ও বিবেকের দায় ক্রমাগত শিথিল হয়ে আসে, মুনাফাতাড়িত সংস্কৃতি যখন অধিকাংশের কাছে গ্রাহ্য হয়ে যায়, তখন আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

কিশোর আন্দোলন চলাকালীন নগরজীবনের প্রতিনিধিত্বশীল যে শিক্ষার্থী ট্রাফিক আইনের বিচ্যুতি অনুসন্ধান করেছে সে কি বলতে পারে এ সমাজে তারই বৃত্তে অবস্থানরত কোনো নিকটজন, বন্ধু-পরিজন সড়কে চলাচলকারী দামি পরিবহনের কত অংশের মালিক, তাদের আয়ের উৎস কী কিংবা মালিকানা লাভের প্রক্রিয়া নিয়মসিদ্ধ ছিল কিনা, তার মতো এদেশের কোনো সন্তান কখনও ড্রাইভারের পেছনে বসে অগ্রগামী গাড়িকে ওভারটেক করতে বা আইন অমান্যে প্ররোচিত করেছে কিনা বা ফুটওভার ব্রিজ এড়িয়ে রাস্তা পারাপার করেছে কিনা।

সে কি বলতে পারে একজন ড্রাইভারকে বা গাড়ির মালিককে তারই পরিচিত সমাজের অন্য একজন অবৈধ পথে লাইসেন্স পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছে কিনা। সে কি লক্ষ্য করেছে তার মতো কোনো শিক্ষার্থী বিপুল অর্থ ব্যয়ে কোচিং সেন্টারে শিক্ষাপণ্য ক্রয় করছে বা অন্যকে পেছনে ফেলে ভালো ফলাফল আদায় করার দৌড়ে অনুচিত কোনো পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছে।

সে কি বলতে পারে কোনো নিরপরাধ যাত্রী নিগ্রহে বা পরিবহন ভাংচুরে তার জানাশোনা কোনো কিশোর অংশ নিয়েছে কিনা বা তার মনে তখন কোনো দুঃখবোধ বা অনুশোচনা জাগ্রত হয়েছিল কিনা।

নবপ্রজন্মের এ শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চোখে কি ধরা পড়েছে এ সমাজেরই কিছু মানুষের সীমাহীন লোভের শিকার হয়ে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে আমাদের জীবনরেখা নদী, রুগ্ন হচ্ছে সড়ক ও নিঃস্ব হচ্ছে রেলের জমি। দেখা যাবে এ সমাজের বৃহৎ একটি অংশ কোনো না কোনোভাবে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেছে বা করতে হচ্ছে।

প্রজাতন্ত্রের পদস্থ কর্মকর্তা, ডাকসাইটে রাজনীতিক, পেশাজীবী- সবাই শিশু-কিশোরদের কাছে অবনত হয়েছেন আইন ভাঙার লজ্জায়। আইন অমান্য করার এ লক্ষণটি পরিস্থিতির গাম্ভীর্য অনুধাবনে সাহায্য করে।

এরা দেখিয়ে দিয়েছে সমাজের ক্ষত কত গভীরে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় ঐতিহাসিক জাগরণ আমাদের বিবেককে কতটা নাড়া দিতে পেরেছে, আমরা কী এমন পাহাড় প্রমাণ বিচ্যুতি থেকে নিজেদের এতটুকু মুক্ত করতে পেরেছি।

এবারের ঈদযাত্রায় পাঁচদিনে দুর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ির সংখ্যা কমলেও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল থেমে থাকেনি।

এমন দুর্ঘটনার দায় কার- শুধু চালক, আরোহী, শ্রমিক, পথচারী, রাষ্ট্রের কর্মচারী নাকি সড়ক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কারিগর, ঠিকাদার, পরিকল্পনাবিদ বা তত্ত্বাবধানকারী অথবা বৃহত্তর কোনো মানসিক প্রবণতা। সরলভাবে যদি এ ক্ষোভের অন্তরালে সমাজে অস্তিত্বশীল প্রচ্ছন্ন নেতিবাচকতাকে বৃহত্তর পর্দায় প্রক্ষিপ্ত করা যায়, তবে রূঢ় বাস্তবের মুখে আমাদের আত্মশ্লাঘার পরিসর ক্রমাগত সংকীর্ণই হবে। সামাজিক বা অর্থনৈতিক সূচকে চোখ ধাঁধানো সাফল্যের ঝলকানিতে সমাজের অভ্যন্তরে ঘনীভূত কোনো গলদ ঢাকা পড়ছে কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে।

জাতীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের ঐকমত্য পোষণ করতে দেখা যায় না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা, আইনি সংস্কার বা সে ফ সর্বগ্রাসী দুর্নীতি রোধে আমরা একমত হতে পারি না।

শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনমত সংগঠনে উদ্যোগী হয়েছে- এমন নজির দেখা যায় না। যোগাযোগ অবকাঠামো বা রাষ্ট্রীয় স্থাপনা নির্মাণ, সেবা, ভূমি, শুল্ক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে দুর্নীতির কথা শোনা যায় বা এর সঙ্গে দলমত নির্বিশেষে কথিত রাজনৈতিক যোগসূত্রের যে অভিযোগ ওঠে তা অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য সামাজিক চাপ বা ঐকমত্যের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। দুর্নীতির এসব ছিদ্রপথকে চিরতরে বন্ধ করতে সদিচ্ছা বা আন্তরিকতার অভাব আছে।

বিভিন্ন সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর এ নেক্সাস নির্মুল করতে যে সম্মিলিত সামাজিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন তা যথেষ্ট মাত্রায় আছে কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে।

রাজনৈতিক আদর্শ বা কৌশলগত অবস্থান অনুযায়ী আমরা অনেক ক্ষেত্রেই কায়েমী স্বার্থগত লাভ-ক্ষতি বিবেচনায় কোনো ঘটনাকে বিশ্লেষণ করি। সে ক্ষেত্রে ন্যায় অন্যায়ের বোধ আমাদের ধারণা গঠনে ভূমিকা পালন করে না। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে পরিবহন মালিক, শ্রমিক বা উপকারভোগী জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্টভাবে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ঘরানার অন্তর্ভুক্ত।

শুধু তাই নয়, বিষয়টির জনগুরুত্ব বিবেচনা করে গণসচেতনতা সৃষ্টি অথবা ব্যবস্থাপনায় সময়োপযোগী সংস্কারের জন্য ইতিপূর্বে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা নেই। কিন্তু তাৎক্ষণিক ফায়দা নেয়ার লোভে রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণে উৎসাহী তৎপরতা চোখে পড়ে। সর্বত্রই আমরা রাজনীতির উপাদান খুঁজে ফিরি।

সামান্য সুযোগও তখন অসামান্য হয়ে ধরা দেয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের দুর্লভ মুহূর্তটি যেন সহসা হাতছাড়া না হয়, সে জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার প্রহর গুনি। আর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম-অব্যবস্থা হতে মুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক অবকাশটিও পঙ্কিল স্বার্থদ্বন্দ্বের আবর্তে পড়ে চিরতরে পথ হারায়। যে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও আমাদের অবস্থান স্ববিরোধিতার ইঙ্গিতবাহী।

রাষ্ট্রনৈতিক দর্শন, গণতন্ত্রের অনুশীলন, মানবাধিকার, ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক, উদ্বাস্তু সমস্যা- সব বিষয়েই আমরা নিজের প্রেক্ষাপটে যে দৃষ্টিকোণে কোনো ঘটনার বিশ্লেষণ করি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিন্ন পটভূমিতে একই বিষয়কে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। আদর্শ, বিশ্বাস ও যুক্তির কাছে অনুগত থাকা, অন্যের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া বা অপরের বিশ্বাসের প্রতি সহ্যশীল থাকা আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই প্রয়োজন।

আমরা প্রত্যেকেই সভ্যতার বিকাশে অবদান রেখেছি। শুধু ব্যক্তির নয়, সমষ্টির স্বার্থে। ছোট ছোট বিচ্যুতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া যায়। সমষ্টির তাতে বৃহৎ কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু যখন অন্যায়ের গরিষ্ঠতা ন্যায়কে বিপন্ন করে, সভ্যতার জন্য তখন সংকট সৃষ্টি হয়।

প্রকৃতির বিরুদ্ধে নিপীড়ন যখন তীব্র হয়ে ওঠে, প্রকৃতিও তখন রুষ্ট হয়ে প্রবল পরাক্রমে প্রতিশোধ নেয়। একজন ব্যক্তি যখন ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালিয়ে মুনাফা লাভ করেন, তখন তিনি ভাবেন না এমনই এক সমাজে লাইসেন্সবিহীন অন্য কোন গাড়ি তার সন্তানকেও পিষ্ট করতে পারে।

শৃঙ্খলা, নিয়ম ও অনুশাসন সমাজের জন্য বৃহদার্থে মঙ্গলই বয়ে আনে। দেশের কোনো নাগরিক যখন বিদেশে অবস্থান করে, তখন সে দেশের যাবতীয় আইন-কানুন অনুগত ও সভ্য নাগরিকের মত মেনে চলতে সে অভ্যস্ত হয়। কিন্তু দেশের মাটিতে একই ব্যক্তি আইন না মানার সংস্কৃতিতে আবার ফিরে যায়। তবে সেটি কি ব্যক্তির ব্যর্থতা বা সমষ্টিগত অক্ষমতা না মনোভূমিতে পুষে রাখা কোনো এক রহস্যময় আচরণগত বৈকল্য- তা ভাবতে হবে।

সমাজের অদৃশ্য শক্তির নিহিত থাকে ঐতিহ্যঋদ্ধ সংস্কৃতিতে, ন্যায়-অন্যায়ের শতাব্দী লালিত বোধে; যা চেতনার অন্তসলিলে প্রবহমান। বাস্তবের কপট মুখ আচরণে দ্ব্যর্থকতা সৃষ্টি করে; কিন্তু সভ্যতার নিয়মে তারুণ্যের বিধ্বংসী প্লাবন সমাজের দুর্নীতি সহিষ্ণু স্থবিরতা ভাসিয়ে নিয়ে যায় বিপ্লবের উচ্ছ্বাসে।

কোনো সন্দেহ নেই কিশোর জাগরণের দার্শনিক বার্তা পরিবর্তনের। উত্থানের তাৎক্ষণিকতার নেপথ্যে ন্যায়ের সহজাত আকাঙ্ক্ষা প্রবল, ঋজু ও সরল। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা প্রতিকারহীন এমন মৃত্যুর মিছিল প্রাত্যহিকতায় মগ্ন নগরবাসীকে বিচলিত করেনি। তবে তারুণ্যের ঝড়ে এ স্থবির জনপদ প্রকম্পিত হয়েছে। পরিবার হতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে পর্যন্ত বিবেক, নৈতিকতা ও আদর্শের কাঠগড়ায় হাজির করেছে। এ তারুণ্য প্লাবিত মিছিলে সদর্পে শোভা পেয়েছে পোস্টারে- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

রাষ্ট্রের উপরি কাঠামো মেরামতের দাবি তুললেই চলবে না, সমাজ মননের অদৃশ্য পরিকাঠামোরও পুনর্বিন্যাস জরুরি। ট্রাফিক আইনকে মান্যতা দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। তবে সমস্যার নাভিমূলকে স্পর্শ করতে হবে।

শুধু সড়ক, রেল বা নদীতে নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা জনপ্রশাসন- সর্বত্রই দুর্বলতাগুলোকে শনাক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সেবার পরিধি সম্প্রসারণ ও সেবার মান বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্বিন্যাস করাও জরুরি। দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার পথে আমরা অনেকটা এগিয়ে। নাগরিক জীবনকে নিরাপদ, মানসম্মত ও অর্থবহ রাখাও সামাজিক ন্যায্যতার দায়।

শুধু দক্ষ মানবসম্পদ নয়, ব্যক্তির মানবিক সত্তা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমকে জাগ্রত করতে হবে। দেশ যখন সমৃদ্ধির পথে দৃপ্ত পদবিক্ষেপে আগুয়ান, বিশ্বের কাছে নানা মানদণ্ডে আমরা যখন রোল মডেল, ঠিক সে মুহূর্তে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির যে ভয়ঙ্কর চিত্র আমাদের মনকে ভারাক্রান্ত করে, তা কখনই আমাদের খ্যাতির সঙ্গে মানানসই নয়। যে কোনো মূল্যে এ মৃত্যুর মিছিল থামাতে হবে। সড়ককে নিরাপদ রাখতে হবে।

আশার কথা, সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ চোখে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবককে যুক্ত করে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির সফল রূপায়ণ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাকৃতিক কিংবা মনুষ্যসৃষ্ট যে কোনো বিপর্যয় রোধে উপকূলবর্তী এ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা কালোত্তীর্ণ, ভরসা রাখা যায়, সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আমরা ভাবনায়, বিশ্বাসে, মননে যে প্রগতির সৌধ নির্মাণ করেছি তা বাস্তবায়নের পথ কিছুতেই অবরুদ্ধ হবে না। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ রেখে যাওয়াই হবে সময়ের শ্রেষ্ঠ অঙ্গীকার।

অমিত রায় চৌধুরী : অধ্যক্ষ, সরকারি ফকিরহাট ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, ফকিরহাট, বাগেরহাট

[email protected]

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.