ন্যায়কণ্ঠ

ইসি সচিব ও অর্থমন্ত্রীর অতিউৎসাহ

  ইকতেদার আহমেদ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসি সচিব ও অর্থমন্ত্রীর অতিউৎসাহ
অর্থমন্ত্রী ও ইসি সচিব। ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা শপথের অধীন। শপথ গ্রহণ ব্যতিরেকে তারা পদে আসীন হন না।

শপথ গ্রহণের সময় একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের অপরাপর বিষয়ের পাশাপাশি ঘোষণা করতে হয়- তারা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন; তারা সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করবেন এবং তাদের সরকারি কার্য ও সরকারি সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হতে দেবেন না।

নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা হল- ১. রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান; ২. জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান; ৩. সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং ৪. রাষ্ট্রপতি পদের এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ।

তাছাড়া সংবিধান বা অপর কোনো আইনের অধীন নির্বাচন কমিশনকে উপরোক্ত দায়িত্বের অতিরিক্ত অপর কোনো নির্বাচন বিষয়ক দায়িত্ব দেয়া হলে নির্বাচন কমিশনকে সেসব দায়িত্ব পালন করতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার জন্য এর একটি সচিবালয় রয়েছে। সচিবালয়ের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের সচিব। সচিবকে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, সহকারী সচিব, গবেষণা কর্মকর্তা, গণসংযোগ কর্মকর্তা প্রভৃতি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।

তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পাদনের জন্য অঞ্চল পর্যায়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা; বৃহত্তর জেলা পর্যায়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা; নব সৃষ্ট জেলা পর্যায়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদধারীরা রয়েছেন।

জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্বাচন কমিশন প্রতিটি জেলার জন্য একজন রিটার্নিং অফিসার; প্রতিটি উপজেলার জন্য একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার; প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন পোলিং অফিসার ও দু’জন সহকারী পোলিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে থাকে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা সীমিত বিধায় নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তা গ্রহণ করতে হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদটিতে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়েছে- নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।

এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন কখনও কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অপর একটি অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে।

সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হয়।

দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের তারিখ থেকে ৫ বছর। সে নিরিখে বর্তমান সংসদের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি পাঁচ বছর পূর্ণ হবে।

সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যবর্তী ৯০ দিনের যে কোনো দিন একাদশ সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে হবে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। এ দায়িত্বটি নির্বাচন কমিশনকে এককভাবে সমাধা করতে হয়। তফসিল ঘোষণার অন্যতম হল, সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে? ইতঃপূর্বে আমাদের দেশের দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট তারিখে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অতীতের জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে অনুধাবন করা যায়- একটি নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অতীতে সব সময় নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল।

এবারই সর্বপ্রথম দেখা গেল, সুনির্দিষ্টভাবে না হলেও নির্বাচন কমিশনের সচিব কমিশনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করেছেন- আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর পেছনে তিনি যে যুক্তি দেন তা হল, জানুয়ারির ১ তারিখে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুস্তক বিতরণ করা হয়; অপরদিকে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের আগেই স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা সমাপ্ত হয়।

নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোট গ্রহণে স্কুলগুলো ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে এবং উল্লিখিত সময়ে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় ভোট গ্রহণ সংশ্লেষে শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো ধরনের ব্যাঘাত হবে না মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত একজন কর্মচারী। তার দায়িত্ব ও কর্তব্য আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তার সংবিধান ও আইন মেনে চলা আবশ্যিক কর্তব্য।

সংবিধান ও আইন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে যে ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন সে ক্ষমতা অপর কারও কাছে অর্পণের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সম্ভাব্য সময় ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব বিধায় কমিশনের দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবিধানিক পদধারী ব্যতীত অপর কেউ এ দায়িত্ব পালন করলে সংবিধানের লঙ্ঘন ও অবমাননা হয়।

নির্বাচন কমিশনের সচিবের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত বয়সের ভারে ন্যুব্জ অশীতিপর সদা হাস্যতামাশা সৃষ্টিতে পারঙ্গম অর্থমন্ত্রী অকস্মাৎ ঘোষণা দিলেন- একাদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর।

মন্ত্রীর এ ঘোষণাটিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভুল হিসেবে আখ্যা দিলেও এতদবিষয়ে তার সচিবের ঘোষণাটিকে তিনি ভুল হিসেবে দেখেন না। এটি তার চরিত্রের দ্বৈততার বহিঃপ্রকাশ। এমন দ্বৈততা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতো গুরুদায়িত্ব পালন তার পক্ষে কি সম্ভব?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। এ বিষয়ে কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় এবং কমিশন বলতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অপর নির্বাচন কমিশনারদের বোঝায়।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা বিষয়ে কমিশনের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কোনো নির্বাচন কমিশনার এ ধরনের আলোচনায় উদ্যোগী হলে তা সুস্পষ্টভাবে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর যে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, তার লঙ্ঘন।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো নির্বাচন কমিশন এ ধরনের লঙ্ঘনের কবলে পতিত হলে তা কমিশনের জন্য অবমাননা বয়ে আনে এবং জনমনে কমিশন বিষয়ে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়।

আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীন যেসব নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, এর মধ্যে একমাত্র আবু সাঈদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ব্যতীত অপর সব নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেছে; ক্ষমতাসীনদের বিজয় অর্জনের কুশীলব হিসেবে কাজ করেছে।

আবু সাঈদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন যে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিল, নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন সে ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন থাকার কারণে তাদের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়েছিল।

ক্ষমতাসীন সরকারবহির্ভূত অস্থায়ী সরকার, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন যেসব নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল, এর প্রতিটির ক্ষেত্রে দেখা গেছে- নির্বাচন পূর্ববর্তী যে দল ক্ষমতাসীন ছিল, নির্বাচনে তারা পরাভূত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন সরকারের অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশকে দেখা যায়, কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই ক্ষমতাসীনদের স্বার্থের অনুকূলে কাজ করে তাদের আস্থাভাজন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস নেন।

যেসব ব্যক্তির সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত, তারা সততা এবং নীতি, নৈতিকতা ও বিবেকবোধের আদর্শে দীক্ষিত হলে তাদের পক্ষে ন্যায়ের বিপরীতে অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ কখনোই সম্ভব নয়। এ কথাগুলো সমভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ও মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের যেসব কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

যে কোনো সাংবিধানিক পদধারী অথবা সরকারি পদে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী সংবিধান ও আইন তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সুচারুরূপে সম্পন্ন করলে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়েছে মর্মে জনমানুষের মধ্যে এরূপ বিশ্বাস জন্মে।

নির্বাচন কমিশনের সচিব একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি যেভাবে কমিশনকে প্রদত্ত ক্ষমতার প্রয়োগ দেখানোর প্রয়াস নিয়েছেন, তা সরকারের কর্মে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তার অতি উৎসাহী অযাচিত কর্ম। এ ধরনের কর্ম কর্মকর্তাটিকে যতটুকু না বিতর্কিত করেছে, তার চেয়ে অধিক বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।

ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×