স্বদেশ ভাবনা

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় থেকেই গেল

  আবদুল লতিফ মন্ডল ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় থেকেই গেল
নির্বাচন কমিশন

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তার ওপর মতামত গ্রহণের জন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত বছর ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারীনেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। এসব সংলাপে উপস্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো সংকলন করে কমিশন রিপোর্ট আকারে মুদ্রণ করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সংলাপে উপস্থিত থাকার জন্য ওই রিপোর্টের একটি কপি আমি পেয়েছি। ‘নির্বাচনী সংলাপ-২০১৭’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই রিপোর্টের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবার নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা থাকার প্রয়োজন।’ আমাদের কথা হল- জনগণ নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতেই চান। তবে প্রশ্ন হল, দেশের আগের কমিশনগুলোর মধ্যে ক’টি জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছে? বর্তমান কমিশন গত প্রায় দু’বছরে জনগণের কতটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছে? অনেকে মনে করেন, স্বাধীনতার পর থেকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর নির্বাচন কমিশনের অভাব সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের এ ধারণা যে অমূলক নয়, মূলত তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

গত সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকে প্রবর্তিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত কয়েকটি সাধারণ নির্বাচন ছাড়া স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে অনুষ্ঠিত কোনো সাধারণ নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি এবং এ সময়কালে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কোনো দল নির্বাচনে পরাজিত হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও এবং তাদের বিজয় সম্পর্কে কোনো সন্দেহ না থাকলেও আওয়ামী লীগ ভয়ভীতির আশ্রয় গ্রহণ করে। নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় স্বার্থে পত্রপত্রিকা, রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন ও যানবাহনসহ পুরো প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে। কোনো কোনো আসনে বিরোধী প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করে। ফলে ১১টি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না (সূত্র : মওদুদ আহমদ, সাউথ এশিয়া ক্রাইসিস অব ডেভেলপমেন্ট : দ্য কেস অব বাংলাদেশ)। বিচারপতি মো. ইদ্রিসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে নিশ্চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করে। কমিশন জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের ২৯৩টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর দু’জন সামরিক শাসক সামরিক ও বেসামরিক পোশাকে প্রায় ১৫ বছর দেশ শাসন করেন। বেসামরিক পোশাকে রাজনৈতিক দল গঠন করে তারা যে তিনটি সাধারণ নির্বাচন (২য়, ৩য় ও ৪র্থ) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, সেসব নির্বাচনে জয়লাভের জন্য তারা মাঠ প্রশাসনসহ পুরো প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করেন। বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম (০৮ জুলাই ১৯৭৭-১৭ মে ১৯৮৫) এবং বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদের (১৭ মে ১৯৮৫-১৭ ফেব্র“য়ারি ১৯৯০) নেতৃত্বাধীন কমিশন দুটি তাদের সময়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধে নেয়নি কোনো পদক্ষেপ। জনগণ সহজেই বুঝতে পারেন, সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে পরিচালিত হচ্ছে নির্বাচন। ফলে এসব নির্বাচনের ফল ছিল পূর্বনির্ধারিত। নির্বাচনের ফল আগে থেকেই ছকে বাঁধা থাকায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তা কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। মানুষ নির্বাচনের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

রাজনীতিকদের মধ্যে সৃষ্ট পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রবর্তিত হয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। এই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে তিনটি (৭ম, ৮ম ও ৯ম) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনার নেতৃত্বাধীন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমএ সাঈদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পরিচালনায়। জনগণের দৃষ্টিতে এ দুটি নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও বড় দুটি দলের পরাজিত দলটি সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনে এবং নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বিএনপি কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ কর্তৃক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সৃষ্ট সংসদ বর্জনের ‘সংস্কৃতি’ অনুসরণ করে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ শাসনের এ মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) বিরোধী দল বিএনপি জাতীয়ভাবে ৪৫ দিন হরতাল পালন করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ‘বিরোধী দলে গেলে হরতাল না করার’ অঙ্গীকার করলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ১৩০ দিন হরতাল করে।

১৯৯৬ সালের মার্চে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালুর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন দুটিতে কমিশন নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে সমর্থ হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় নবম সংসদ নির্বাচন। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সরকারের সময় গঠিত নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করলে (আসলে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়) সাবেক সচিব ড. এটিএম শামসুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। দু’জন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সাবেক সচিব মুহম্মদ ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.)। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত হলেও ওই নির্বাচন কমিশন বিএনপিবিরোধী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সরকারের ইঙ্গিতে কমিশন বিএনপিকে ভাঙার কলকাঠি নাড়তে থাকে এবং সফলতা অর্জন করে। বিএনপির প্রতি হুদা কমিশনের বিমাতাসুলভ আচরণে দলটি ব্যাপক সাংগঠনিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের শোচনীয় পরাজয়ের জন্য বিএনপি মূলত হুদা কমিশনকে দায়ী করে আসছে।

হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত হয় নির্বাচন কমিশন। এ কমিশনে এমন দু’জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ পান, আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক হিসেবে যাদের পরিচিতি রয়েছে। গঠিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সরকারি দলের প্রতি এ কমিশনের দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়া শুরু হয়। সংবিধানের বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে যখন সমাজের বিভিন্ন স্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে, তখন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে কমিশনের এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং চলাকালে একজন কমিশনার বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী জাতি মেনে নিয়েছে। সুতরাং সে অনুযায়ী দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনারের ওই একপেশে মন্তব্যে দেশবাসীর অনেকে হতবাক হয়ে পড়েন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের সহযোগী ১৯টি দল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিলকৃত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে সরকারকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে এ কমিশন তাদের নির্বাচনে আনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনেকটা এককভাবে সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দশম সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে এ কমিশন সরকারি দল সমর্থিত/মনোনীত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উচ্ছৃঙ্খল কার্যকলাপ যথা- ভোট কেন্দ্র থেকে মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া, জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ব্যালটবাক্স ছিনতাই করার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে বিরত থাকে। ফলে সরকারি দল সমর্থিত/মনোনীত প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে একচেটিয়াভাবে জয়ী হন।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের মেয়াদ শেষ হলে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব নেয়ার পর সিইসি নুরুল হুদা বলেন, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক সরকারের অধীন হলেও যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত তারা। যে কোনো নির্বাচনে কোনো দল বা দলীয় নির্দেশনার কাছে মাথানত করবে না কমিশন। সাংবিধানিক এ দায়িত্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পালনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং গত বছর ডিসেম্বরে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে জনগণের প্রশংসা কুড়ায়। এর পরই কমিশন পথ হারিয়ে ফেলে। গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া, জোর করে ব্যালটবাক্সে সিল মারা, অনেক কেন্দ্রে নজিরবিহীন ভোট প্রদানসহ নানারকম অনিয়ম সংঘটিত হয়। জনগণ এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের চোখে এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও কমিশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে ভোট গ্রহণের পর ঘোষণা দেয়।

এখানেই শেষ নয়। সরকারি দলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে কমিশন আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা, ইভিএম ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের সন্দেহ ও অনভ্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও কমিশন বিভক্ত সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া করে ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

অনিয়মে ভরা গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা, সরকারি দলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে বিভক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করেছে। এ কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল ইতিমধ্যে যেসব দাবি তুলেছে, সেগুলোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন একটি। কিন্তু তাদের এ দাবি পূরণ সুদূরপরাহত। তাই বলা যায়, স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর নির্বাচন কমিশনের অভাব সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা হয়েই রইল।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter