স্বদেশ ভাবনা

আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার প্রস্তাবের পর্যালোচনা

  আবদুল লতিফ মন্ডল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার প্রস্তাবের পর্যালোচনা

‘আরপিওতে ১৭ সংশোধনী প্রস্তাব : আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার’- ১১ সেপ্টেম্বরের যুগান্তরের হেডলাইন ছিল।

এতে বলা হয়েছে, ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) যে ১৭টি সংশোধনী আনার প্রস্তাব অনুমোদন করে, সেগুলোর মধ্যে একটি হল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আসনভিত্তিক তদারকির ক্ষমতা দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারের হাতে দেয়াই এ প্রস্তাবটির লক্ষ্য। সংসদ সচিবালয় এ প্রস্তাবটিসহ অন্যসব অনুমোদিত প্রস্তাব ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে সহায়ক হবে কিনা, তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং কমিশন সংবিধান ও আইনানুযায়ী সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে [অনুচ্ছেদ ১১৯(১)]।

সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনাসহ কমিশনের অন্যসব দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে। আরপিও’র ৫(২) ধারায় সংবিধানের এ নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটেছে।

এ ধারায় বলা হয়েছে, সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে নির্বাচন কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা এবং সংবিধানের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করবেন।

সংবিধান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করলেও কমিশনের পক্ষে এ নির্বাচন পরিচালনা করে মূলত মাঠ প্রশাসন। আর নির্বাচন পরিচালনার মূল ক্ষমতা থাকে রিটার্নিং অফিসারের হাতে।

রিটার্নিং অফিসারের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে আরপিও’র ২ ধারায় বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যাকে আরপিও’র ৭ ধারা মোতাবেক ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনকারী একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসারও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন।

উল্লেখ্য, আরপিও অনুযায়ী একটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা প্রদানের জন্য একাধিক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। তবে একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে একাধিক সংসদীয় এলাকার জন্য নিয়োগ দেয়া যাবে না। রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ প্রসঙ্গে আরপিও’র ৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘The Commission shall appoint a Returning Officer for each constituency for the purpose of election of a member for that constituency; and a person may be appointed as Returning Officer for two or more constituencies,’ যার অর্থ দাঁড়ায়,

প্রত্যেক সংসদীয় আসনে (constituency) একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশন একজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেবে; তবে কোনো ব্যক্তিকে দুই বা ততোধিক সংসদীয় আসনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তা করবেন এবং রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণে থেকে তার ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পন্ন করবেন।

আরপিওতে রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল- ক. সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রিটার্নিং অফিসার আরপিও এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালায় প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কিছু করবেন।

খ. কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে রিটার্নিং অফিসার তার জেলায় নির্বাচন পরিচালনার কাজ তদারকি করবেন এবং কমিশন প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও কাজ সম্পাদন করবেন।

গ. তার জেলার সরকারি ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা কর্তৃক সরবরাহকৃত অফিসার ও কর্মচারীদের নামের তালিকা থেকে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের প্যানেল প্রস্তুত করবেন এবং সে প্যানেল থেকে প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের জন্য একজন প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেবেন।

তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করে যে কোনো ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসারকে সাময়িকভাবে কর্মচ্যুত করতে এবং কর্মচ্যুত কর্মকর্তার কার্যাবলী সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

ঘ. রিটার্নিং অফিসার কমিশন নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠেয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই করবেন। তিনি যৌক্তিক কারণে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারবেন।

যে কোনো একজন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করতে পারবেন এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। ঙ. মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত তারিখের পরদিন রিটার্নিং অফিসার তার জেলার সংসদীয় আসনগুলোর প্রত্যেক আসনের বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করবেন।

চ. আরপিও এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুসরণে রিটার্নিং অফিসার বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করবেন। ছ. তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর ও অন্যান্য প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং নির্ধারিত ফরমে কমিশনের কাছে সমন্বিত বিবরণী প্রেরণের ব্যবস্থা নেবেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা না থাকলেও কমিশন কর্তৃক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ প্রদান একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাই এ দায়িত্ব পালনে তাদের অনেকটা অপরিহার্য করে তুলেছে। প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিবদের মধ্য থেকে ডিসি এবং সিনিয়র স্কেলপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইউএনও হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

তবে এ ব্যবস্থায় সংশোধন আনার জন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের একটি অংশ ইতোমধ্যে প্রস্তাব করেছে। গত বছর ৩১ জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারীনেত্রী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সংলাপে দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের একটি- বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার প্রস্তাব করে।

অন্যদিকে খেলাফত মজলিস, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব করে। যেহেতু নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে, সেহেতু কমিশনের নিজস্ব জনবল দিয়ে নির্বাচন করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখতে কমিশনকে অনুরোধ জানায় জাতীয় পার্টি।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা কিছু স্থানে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করেন (সূত্র : নির্বাচনী সংলাপ ২০১৭)। আমন্ত্রিত হয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে আমি অংশগ্রহণ করি।

আমার যতদূর মনে পড়ে, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপকালে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে বেশ কিছুসংখ্যক সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব করেন।

নব্বইয়ের দশকে দেশের দুটি বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রশাসনকে দলীয়করণের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, গত দশ বছরে তা চরম আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রায় দশ বছরের একটানা শাসনামলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বেসামরিক প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি বিপুল অংশ সরকারের আনুকূল্যে অপ্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে দলটির অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন।

যারা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে এবং সচিবালয়ের বাইরে সমমানের পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের অনুগত। এসব কর্মকর্তার মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং মাঠ প্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি অব পুলিশ, জেলা প্রশাসক (ডিসি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভৃতি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। এ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে সরকারই তাদের রক্ষা করাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।

তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের সহযোগী ১৯টি দল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিলকৃত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আওয়ামী লীগ সরকারকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেকটা একক অংশগ্রহণে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে মাঠ প্রশাসনকে তেমন বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিতে হয়নি।

তবে দশম সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পারেনি। সরকারি দল সমর্থিত বা মনোনীত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উচ্ছৃঙ্খল কার্যকলাপ যথা- ভোট কেন্দ্র থেকে মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ব্যালটবক্স ছিনতাই করার বিরুদ্ধে মাঠ প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সমর্থ হয়নি।

তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনায় উপর্যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোসহ অনেকে মাঠ প্রশাসন তথা ডিসি ও ইউএনও’র ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। তারা কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্বাচন পরিচালনার অর্থাৎ কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন। কমিশনের কর্মকর্তাদেরও দাবি রয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে তাদের জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিতে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাবের ওপর এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল মতামত ব্যক্ত করেনি। সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য এসেছে বলে মনে পড়ে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কয়েকজন সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে দু’রকম মতামত পাওয় যায়। একটি অংশ মনে করে, বিরাজমান অবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন হলে এ ধরনের ‘কসমেটিক চেঞ্জ’ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।

উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা ও গণবিজ্ঞপ্তি জারিতে ক্ষমতাসীন দলের চাপের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হবেন। অন্য অংশ মনে করে, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক জেলার সংসদীয় আসনগুলোর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও গণবিজ্ঞপ্তি জারির যে নিয়ম রয়েছে, তাতে অতীতে মিডিয়া ক্যু হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হলে এসব কার্যক্রমে মিডিয়া ক্যু হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

সবশেষে বলতে চাই, আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হলে তার কর্মক্ষেত্র অনেকটা ছোট হয়ে আসবে, যা তার নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকি জোরদারে সহায়তা করবে। বর্তমানে নির্বাচনী কার্যক্রম, বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্বাচনের ফলাফল গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ নিয়ে জনমনে বড় ধরনের অবিশ্বাস কাজ করে। তাই গত বছর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপের সময় একটি রাজনৈতিক দল ভোটের ফলাফল ভোট কেন্দ্রেই ঘোষণার দাবি জানায়।

আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হলে তা নির্বাচনী কার্যক্রমে, বিশেষ করে ভোটের ফলাফল ঘোষণা ও গণবিজ্ঞপ্তি জারিতে জনগণের অবিশ্বাস পুরোপুরি না হলেও কিছুটা দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে। তাই কেউ কেউ আসনভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে কমিশনের প্রস্তাবকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে পাস হবে- এ প্রত্যাশা রইল।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter