মিঠে কড়া সংলাপ

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা

  মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন
ফাইল ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কে বা কোন দল সরকারের নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়ে সারা দেশে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও এসব নিয়ে দিনরাত টকশো চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেখানে সরব রয়েছেন দেশের নামিদামি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা।

এমন সব বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা বিশ্লেষণের মধ্যে এ বিষয়ে কিছু বলা বা লেখা কঠিন কাজই বটে; কিন্তু সেই পাকিস্তান আমল থেকেই নির্বাচনের আগে একটি সমীকরণ লিখে নির্বাচনের পরদিন তা মিলিয়ে দেখার অভ্যাস থেকেই আজকের লেখাটি সামনের নির্বাচন নিয়েই লিখতে বসেছি।

আজ থেকে প্রায় ষাট বছর আগে আইয়ুব খানের বুনিয়াদি গণতন্ত্রের সময় আমি হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম। তো সে সময় একবার আমার এক কাজিন ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বার পদে ভোটে লড়েছিলেন।

আবার আমাদের বাড়ির পাশের এক ব্যক্তিও সে ভোটে লড়াই করে প্রথমে মেম্বার এবং পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। বুনিয়াদি গণতন্ত্রের সেই আমলে কেউ সরাসরি ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচিত হতেন না।

মেম্বার নির্বাচিত হয়ে সেই মেম্বারদের ভেতর থেকে যারা প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতেন, অন্য মেম্বারদের ভোটে তাদের কেউ ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেন। আবার ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টরা ভোট দিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতেন। আইয়ুব খান এ পদ্ধতিতেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মা এবং নানির সঙ্গে গরুর গাড়িতে চড়ে আইয়ুব খানের বুনিয়াদি গণতন্ত্রে ভোট দিতে যাওয়ার কথা এখনও মনে উঠলে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হই। সেসময়ের গ্রামীণ পরিবেশে বাঁশঝাড় ও নারকেল বাগান পার হয়ে গরুর গাড়িতে চড়ার সে কথা এখনও ভুলতে পারি না।

আবার ভোট কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে ওই বয়সেই প্রচুর চিন্তাভাবনা করে ভোটের একটি ফল লিখে তা পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রেখে পরদিন খুলে বন্ধুবান্ধব এবং মুরুব্বিদের দেখালে তারা অবাক হয়ে যেতেন।

অতঃপর পাকিস্তান আমল এবং বাংলাদেশ আমলের প্রতিটি জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল নিয়ে আগাম ঘোষণা দেয়া আমার জন্য নেশায় পরিণত হয়েছে! যেমন ১৯৯১-এর নির্বাচনে আগাম ঘোষণা দিয়েছিলাম, ‘বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করবে।’ আর সে জয়ের ভিত্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বলেছিলাম, ‘দুই নেত্রীর টেলিভিশন বিতর্কই বিজয়ের পার্থক্য গড়ে দেবে।’

পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মনোনীত হয়ে একদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করে বলেছিলাম, ‘ক্ষেত্রবিশেষে তিনি যেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।’ যাক সে কথা।

সেসময় আর বর্তমান সময়ের বিস্তর পার্থক্য বিধায় সেসব কথা তুলে লাভ নেই। এখন ভবিষ্যতের কথা বলাই হবে সঠিক কাজ। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলব, বা ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে- তার মেরুকরণ বা সমীকরণ যে সহজসাধ্য নয়; সে কথাটিও অনস্বীকার্য।

কারণ বিএনপি তথা জোটের শরিকরা যা বলছে, তা যেমন ঠিক নয়; তেমনি আওয়ামী লীগ যা বলছে- তার সবটাও সঠিক নয়। বিএনপি একটি অগোছাল দলে পরিণত হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব এক ধরনের এলোমেলা চিন্তাভাবনা থেকে কথাবার্তা বলে চলেছে।

বাস্তবতা থেকে দূরে সরে ঘরে বসে শুধু বিবৃতি পাঠ করে চলেছে। আবার আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকায় এক ধরনের একদেশদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে কথাবার্তা বলে চলেছে।

আর এক্ষেত্রে উভয় দলই দেশের মানুষের চিন্তা, চেতনা, আশা, আকাক্সক্ষা, অনুভূতি থেকে এখনও দূরে অবস্থান করছে এবং এ দূরত্বের ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের চেয়ে সরকারি মহলের দূরত্বটা একটু বেশি বলেই মনে হচ্ছে।

সরকারি দল এবারে একটানা দশ বছর দেশ শাসন করে চলেছে। ইতঃপূর্বে এ দেশটিতে একমাত্র এরশাদ সরকারই একটানা নয় বছর শাসন ক্ষমতায় ছিল। সে দৃষ্টিকোণ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের বর্তমান শাসনকাল একটি রেকর্ডই বটে। তবে এ একটানা দশ বছর দেশ শাসন করতে গিয়ে সরকারি দলটির ভাবমূর্তিও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যার কারণ হল, একশ্রেণীর এমপি-মন্ত্রীর দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। তাদের অনেকেই ইতঃপূর্বে টেন্ডারবাজির মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থ ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। ফলে দেশের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গুণগত মান রক্ষিত হয়নি।

রাজধানীর ফ্লাইওভার নির্মাণ থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ গ্রামীণ জনপদে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেখানে সীমাহীন দুর্নীতির ফলে নির্মাণকৃত রাস্তাঘাট এরই মধ্যে ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

এমনকি এ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেসব প্রকল্পের রাস্তাঘাটও নষ্ট হয়ে গেছে। জনসাধারণ এসব রাস্তায় চলতে-ফিরতে সরকারের সমালোচনাও শুরু করে দিয়েছে। অথচ দলীয় লোকজন এক্ষেত্রে লোভ সংবরণ করতে পারলে এমনটি হতো না।

সারা দেশের ছোটবড় সব প্রকল্পের নির্মাণকাজ দলীয় লোকজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করানোর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ন্ত্রক সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে না পেরে বরং দলীয় লোকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থে ভাগ বসিয়েছে।

অথচ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত দলীয় লোকজন বা ঠিকাদাররা স্বাভাবিক মুনাফার বিনিময়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে পারলে এমনটি হতো না। বস্তুত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বাভাবিক মুনাফার পরিবর্তে এক ধরনের লুটপাট চালানো হয়েছে।

ফলে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে গত বছর যে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, এ বছরই তা ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। আর এসব কিছুরই সাক্ষী এখন দেশের সাধারণ মানুষ। একশ্রেণীর এমপি-মন্ত্রীর এসব লুটপাট বন্ধ করা যায়নি বলে তাদের বিরুদ্ধে জনগণ অত্যন্ত সমালোচনামুখর।

এরই মধ্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী সেই কথাটিই তার একটি লেখায় উল্লেখ করে বলেছেন, ‘একশ্রেণীর মন্ত্রী-এমপি ভুলে গেছেন, তারা নিজেদের যথেষ্ট লুটপাট এবং ক্ষমতার অপব্যবহার দ্বারা শেখ হাসিনার সব অর্জনকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের জন্য একটি কঠিন সতর্কতা শিরোনামে তার লেখাটিতে তিনি অনেক সাবধান বাণী এবং সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছেন; যা অত্যন্ত সঠিক এবং খাঁটি কথা বলেই মনে হয়েছে। অথচ ২০১৪ সালেই আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড উপরোক্ত শ্রেণীর মন্ত্রী-এমপিমুক্ত একটি সরকার গঠন করতে পারতেন।

সে সময়ে যদি রাজনীতির নামে লুটপাট করে খাওয়া ওইসব রাজনীতিককে বাদ দিয়ে দলের ভালো ভালো প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে সরকার গঠন করা হতো, তাহলে সরকারকে আজ এসব অপবাদ সহ্য করতে হতো না। কারণ আওয়ামী লীগে এমন সব বড় মাপের মানুষ আছেন, যারা দেশ ও জনগণের সম্পদের দিকে নজর দেন না বরং নিজের সম্পদ দিয়ে জনগণের সেবা করেন।

বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত এই দলে এখনও এমন সংসদ সদস্যকে দেখিয়ে দেয়া যাবে, যে পরপর দু’বার সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তার একটি গাড়ি নেই! আবার এমন সংসদ সদস্যও আছেন- অসুস্থ অবস্থায় এখন অন্যের আর্থিক সাহায্যে দিনাতিপাত করেন।

অথচ তার হাতে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও তিনি সেসবের কোনো সুযোগই গ্রহণ করেননি। টেন্ডারবাজির ধারে-কাছেও যাননি। সড়ক বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, এলজিইডি ইত্যাদি অফিসের কাউকে কোনোদিন তিনি একটি ফোন পর্যন্ত করেননি।

টেন্ডারবাজির কাজ ভাগাভাগি ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন তো দূরের কথা! এখানে তাদের কথা বলা হল এ কারণে যে, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে শত শত নিঃস্বার্থ এবং স্বার্থত্যাগী নেতা থাকতেও এখনও বেছে বেছে ‘গোলমাল আলীদের’ মনোনয়ন দেয়া হয়।

আর সময় হলে তাই দলটিকে তার খেসারতও গুনতে হয়। এসব ‘গোলমাল আলী’ পাঁচ-দশ বছরে টেন্ডারবাজি, দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেরা এবং তার চারপাশের লোকজনকে ধনবান বানাতে ব্যস্ত থাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেয়।

আমাদের দেশ ঘনবসতি হওয়ায় এসব খবর খুব তাড়াতাড়ি জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দলীয় প্রধানের পক্ষে তাদের চেনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তিনি যাদের মাধ্যমে এসব ঘটনা জানা বা শোনার চেষ্টা করেন, তারা পরস্পর অনেকটা একই ক্যাটাগরির বা সামান্য পার্থক্য থাকায় কোনোদিনই মাঠের সঠিক চিত্র দলীয় প্রধানের কাছে পৌঁছায় না।

পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও নীতিবোধে উদ্বুদ্ধ এসব নেতা মধ্যপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে নিজেদের দোষত্র“টি ধামাচাপা দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক। অতীতে যেমন বঙ্গবন্ধুকেও মাঠের আসল চিত্র জানতে, শুনতে এবং বুঝতে দেয়া হয়নি।

সে অবস্থায় দলীয় প্রধানকেও ওইসব রিপোর্ট গ্রহণ করে অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। অতীতের একটি অভিজ্ঞতায় দেখেছি- একজন অতি নিুমানের ব্যক্তি শিক্ষা-দীক্ষা-কৃষ্টি ইত্যাদিতে একদম পেছনের সারির হয়ে শুধু মাসলম্যান হিসেবে তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট করেছেন এবং যথারীতি হেরে গেছেন। দলীয় হাইকমান্ডের স্বজনপ্রীতি দেখে সেদিন যারপরনাই অবাক হয়েছিলাম।

অন্যদিকে মাঠ জরিপের ক্ষেত্রে অন্য যে অংশটি কাজ করে, তারা হলেন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন; যার মধ্যে এনএসআই, ডিজিএফআই এবং পুলিশ বিভাগের লোকজন জড়িত। এসব জরিপের ক্ষেত্রে যদি উপরোক্ত সংস্থাগুলো পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয় বা দিতে পারে, তাহলে এক কথা। আর তা না করে দু-একজন মতলববাজের কথা শুনে যদি সাফাইপত্র জারি করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রেও ভুলত্র“টি থেকে যাবে।

অর্থাৎ এলাকার লোকজনের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যে শ্রেণীর জনগোষ্ঠী মতলববাজ নন, তাদের জনমত জরিপ করে রিপোর্ট দিতে পারলেই তা কাজের কাজ হবে। যদিও এ প্রশ্ন থেকেই যায়- মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় জরিপকে গুরুত্ব দিয়ে এসব জরিপকে উপেক্ষা করা হয় কি না? তবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় জরিপ এবং সরকারি সংস্থার জরিপ উভয় ক্ষেত্রেই আন্তরিকতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজন- এ কথাটিও মনে রাখতে হবে।

এ স্বল্প পরিসরে যতটুকু আলোচনা সম্ভব তা শেষ করে এখন দেখার বিষয় হল, যেসব মার্কামারা এমপি-মন্ত্রী এবারও তাদের কূটনীতি, তদবির ও খুঁটির জোরে মনোনয়ন লাভ করে নির্বাচনী ময়দানে নামবেন; তাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দলটি কীভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়! বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তায় এবং গত দশ বছরে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি করায় দলটি যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, তেমনি একশ্রেণীর নেতার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখেও রয়েছে। তাছাড়া কোটা আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সমাপ্তি সুখকর হয়নি।

বিশেষ করে শহিদুল আলমের গ্রেফতার নিয়ে বিদেশেও সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের জন্য লাভের দিকটা হল, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভঙ্গুর অবস্থা। নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি এখন নাজুকভাবে টিকে আছে। দলটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্ষম নয় এবং তাদের প্রধান সহায়ক শক্তি জামায়াত-শিবিরও বলতে গেলে অস্তিত্বহীন।

অন্যথায় আওয়ামী লীগকে যে সামনের নির্বাচনে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতো, সে কথাটিও সত্য। কারণ এই দশ বছরে আসলেই অনেক এমপি-মন্ত্রী দেশের মানুষকে সাক্ষী রেখেই টেন্ডারবাজি-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাই জনগণও এসব প্রার্থীর বিকল্প খুঁজে নিতেন। আর বিকল্প দল বা প্রার্থী বলতে এখনও বিএনপিকেই বোঝায়। কিন্তু সেই বিএনপি এখন নিস্তেজ দলে পরিণত হয়েছে।

তাই নির্বাচনী ময়দানে আওয়ামী লীগ এবারও সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলেই মনে হয়। আর বিএনপি যদি দল গুছিয়ে সঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারে, তারাও যদি প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্ট দিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের নির্বাচনী কেন্দ্রে নিয়ে আসাসহ নিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে পারে, তাহলে তারাও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন লাভ করে পার্লামেন্টে যেতে পারবে। কারণ তাদের দলেও অনেক শক্তিশালী ও জনপ্রিয় নেতা আছেন। তাই এ মুহূর্তে দলকে শক্তিশালী করাই হবে বিএনপির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বুদ্ধিমানের কাজ।

উপসংহারে বলতে চাই- ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে না পেরে এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। তাই জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ধ্যানধারণা এবং কর্মকাণ্ডে সেই বিষয়টিই মূর্ত হয়ে ওঠা উচিত। আসন্ন নির্বাচনে যেন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের গায়ে কোনো কলঙ্ক না লাগে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ জানাই।

মুহম্মদ ইসমাইল হোসেন : লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter