নুরুল ইসলাম ছিলেন অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার
jugantor
নুরুল ইসলাম ছিলেন অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার
সফল ও সাহসী উদ্যোক্তার প্রতিচ্ছবি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। দেশের শিল্প খাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যার চিন্তা-চেতনায়ই ছিল দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সততা, মেধা, পরিশ্রম ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে একে একে ৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন দূরদর্শী এই ব্যবসায়ী। বিশ্বমানের এসব প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরছে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনও আপস করেননি। ব্যাংকে এক টাকাও খেলাপি ঋণ নেই, বিদেশে টাকা পাচারের নেই কোনো অভিযোগ। ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন। আজ তিনি বেঁচে নেই; কিন্তু তার উদ্যোগের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। পরিচ্ছন্ন এই উদ্যোক্তার স্মৃতিচারণায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা এসব মন্তব্য করেন

  ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ  

২২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ছিলেন দেশীয় শিল্প খাতের একজন অনন্য এবং সফল উদ্যোক্তা। গণমাধ্যম, পোশাক শিল্প, বিশ্বমানের শপিং মলসহ সব দিক বিবেচনায় তিনি সফল। তার সৃষ্টি যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন সব সময় অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা কেলেঙ্কারি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রকাশ ও প্রচার করে যাচ্ছে এ দুটি গণমাধ্যম।

ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন নুরুল ইসলাম। আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনেও তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। এ কারণে বাজারে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাননি নুরুল ইসলাম। বরং তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন ৪১টি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিত।

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন কিন্তু ঋণের অপব্যবহার করেননি। দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে তার অনেক অবদান। তিনি শ্রমঘন কারখানা গড়েছেন। দেশ নয় শুধু, এশিয়ার বৃহত্তম শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কে প্রচুর লোক কাজ করেন। গণমাধ্যমেও অনেক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। গার্মেন্ট কারখানায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। এর মাধ্যমে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন তিনি।

এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী বিদেশমুখী। টাকা-পয়সা বাইরে নিয়ে যান। বিদেশে অট্টালিকা গড়েন। অনেকের ব্যাপারে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি যা করেছেন দেশেই করেছেন। দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য করেছেন। তার অবদান কখনও ভোলা যাবে না। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। তার শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও তিনি দেশীয় উদ্যোক্তাদের ‘রোল মডেল’ হয়ে থাকবেন। তার চলে যাওয়াতে শিল্প খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

নুরুল ইসলাম ছিলেন অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার

সফল ও সাহসী উদ্যোক্তার প্রতিচ্ছবি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। দেশের শিল্প খাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যার চিন্তা-চেতনায়ই ছিল দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সততা, মেধা, পরিশ্রম ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে একে একে ৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন দূরদর্শী এই ব্যবসায়ী। বিশ্বমানের এসব প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরছে। অন্যায়ের সঙ্গে কখনও আপস করেননি। ব্যাংকে এক টাকাও খেলাপি ঋণ নেই, বিদেশে টাকা পাচারের নেই কোনো অভিযোগ। ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন। আজ তিনি বেঁচে নেই; কিন্তু তার উদ্যোগের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। পরিচ্ছন্ন এই উদ্যোক্তার স্মৃতিচারণায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা এসব মন্তব্য করেন
 ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ 
২২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ছিলেন দেশীয় শিল্প খাতের একজন অনন্য এবং সফল উদ্যোক্তা। গণমাধ্যম, পোশাক শিল্প, বিশ্বমানের শপিং মলসহ সব দিক বিবেচনায় তিনি সফল। তার সৃষ্টি যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন সব সময় অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা কেলেঙ্কারি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রকাশ ও প্রচার করে যাচ্ছে এ দুটি গণমাধ্যম।

ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন নুরুল ইসলাম। আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনেও তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। এ কারণে বাজারে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাননি নুরুল ইসলাম। বরং তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন ৪১টি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিত।

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন কিন্তু ঋণের অপব্যবহার করেননি। দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে তার অনেক অবদান। তিনি শ্রমঘন কারখানা গড়েছেন। দেশ নয় শুধু, এশিয়ার বৃহত্তম শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কে প্রচুর লোক কাজ করেন। গণমাধ্যমেও অনেক শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। গার্মেন্ট কারখানায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। এর মাধ্যমে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন তিনি।

এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী বিদেশমুখী। টাকা-পয়সা বাইরে নিয়ে যান। বিদেশে অট্টালিকা গড়েন। অনেকের ব্যাপারে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি যা করেছেন দেশেই করেছেন। দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য করেছেন। তার অবদান কখনও ভোলা যাবে না। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। তার শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও তিনি দেশীয় উদ্যোক্তাদের ‘রোল মডেল’ হয়ে থাকবেন। তার চলে যাওয়াতে শিল্প খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

 

ঘটনাপ্রবাহ : যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম