অর্থনীতির উজ্জ্বল তারকা
jugantor
অর্থনীতির উজ্জ্বল তারকা

  আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)  

২২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো জায়গা থেকে শুরু করব এখনও ভাবছি। অনেক স্মৃতি আর বেদনাবিধুর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কয়েকটি কথা বলতে চাই। নুরুল ইসলাম- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন সফল মানুষ, সফল শিল্পোদ্যোক্তা। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান খ্যাতিমান ও দেশ বরেণ্য এ ব্যবসায়ী সম্পর্কে এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির একজন উজ্জ্বল তারকা, অপ্রতিরোধ্য শিল্পোদ্যোক্তা। একজন সার্থক স্বপ্নদ্রষ্টা।

অস্ত্র হাতে সরাসরি অংশ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার ৩ বছর পরেই অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে তার দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে ১৯৭৪ সালে বেসরকারি খাতে গড়ে তোলেন যমুনা ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। আর এ কোম্পানির মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় যমুনা গ্রুপের। যাত্রার শুরুতে বেশ চড়াই-উতরাই পার হলেও পেছন ফিরে তাকাননি এ স্বপ্নচারী।

লক্ষ্য অর্জনে সাহসী সিদ্ধান্ত, উদ্যমী মনোভাব আর কঠোর পরিশ্রমে পৌঁছে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। শুরুতে ছোট্ট করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে যমুনা গ্রুপ নামে মহীরুহে। তার প্রতিষ্ঠিত যমুনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ একটি জায়ান্ট গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। গড়ে তুলেছেন ৪১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের।

অনেক নতুন খাতেও তিনি ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করেছেন। সততা, নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের কারণে তিনি যেখানেই বিনিয়োগ করেছেন, সেখানেই সফলতা পেয়েছেন। এত স্বল্প সময়ে এত বড় টেকসই ও প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপ গড়ে তোলা খুব একটা সহজ কথা নয়। মেধা এবং দক্ষতার মাধ্যমে সেটা তিনি করে দেখিয়েছেন। নুরুল ইসলাম দেশ ও দেশের মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছেন। সাড়ে ৪ দশকে তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

শিল্প খাতের পাশাপাশি নুরুল ইসলাম দেশের গণমাধ্যমের বিকাশে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে নির্মাণ এবং আবাসন খাতে রয়েছে তার অসামান্য অবদান। যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেড নামের কোম্পানির মাধ্যমে নির্মাণ এবং আবাসন শিল্পে তিনি বিশাল বিনিয়োগ করেন। এছাড়া যমুনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আয়রন অ্যান্ড স্টিল মিলস লিমিটেড, যমুনা গ্যাস ইন্ডাস্ট্রিজ, যমুনা পাওয়ার লিমিটেডসহ আরও বেশ কয়েকটি লিংকেজ শিল্পের মাধ্যমে আবাসন এবং নির্মাণ খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।

আবাসন সংক্রান্ত লিংকেজ শিল্পের বেশ কয়েকটি আমদানির বিকল্প পণ্য তৈরি শুরু করেন নুরুল ইসলাম। যা দেশের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করেছে। চাপ কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আমদানির বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য দেশীয় শিল্প বিকাশে সহায়ক হয়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার ভূমিকা মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।

যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেডের মাধ্যমে তার সৃষ্টিশীল চিন্তা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্মাণ হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। স্থাপত্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করেছেন তার নির্মাণকৃত স্থাপনায়। দূরদর্শী চিন্তা নিয়ে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইকনিক শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্ক।

এছাড়া বাসস্থানের জন্য ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে তার প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার নিউ উত্তরা মডেল টাউন ও যমুনা সিটি তারই সৃষ্টিশীল দুটি বড় আবাসন প্রকল্প। আবাসন খাতে অবদান রাখায় ‘বেটার বিল্ডিং বেটার উইনিং কম্পিটিশন ২০০২’ জিতে নেয় তার প্রতিষ্ঠিত যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেড।

বাংলাদেশে যে কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা কর্মসংস্থানে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম। অপ্রতিরোধ্য এ শিল্পোদ্যোক্তার ব্যবসায়িক জীবনে স্বপ্ন ছিল মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে নুরুল ইসলামের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে কৃতিত্ব রেখেছেন, পাশাপাশি বহুমুখী শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

করোনা সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার মতো উদ্যোক্তার খুবই প্রয়োজন ছিল। অসময়ে তার এ চলে যাওয়া শিল্প খাতে বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তবে বাংলাদেশের শিল্প বিকাশে এবং অগ্রগতিতে তার অবদান অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে কর্মরত কর্মজীবী ও দেশের মেহনতি মানুষের মধ্যে।

একজন বিনয়ী মানুষ হিসেবে বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী নুরুল ইসলাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মনিষ্ঠা, একাগ্রতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার কর্মের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। আশা করি পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং সমৃদ্ধ করবে দেশের অর্থনীতি।

লেখক : প্রেসিডেন্ট, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)

অর্থনীতির উজ্জ্বল তারকা

 আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) 
২২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো জায়গা থেকে শুরু করব এখনও ভাবছি। অনেক স্মৃতি আর বেদনাবিধুর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কয়েকটি কথা বলতে চাই। নুরুল ইসলাম- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন সফল মানুষ, সফল শিল্পোদ্যোক্তা। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান খ্যাতিমান ও দেশ বরেণ্য এ ব্যবসায়ী সম্পর্কে এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির একজন উজ্জ্বল তারকা, অপ্রতিরোধ্য শিল্পোদ্যোক্তা। একজন সার্থক স্বপ্নদ্রষ্টা।

অস্ত্র হাতে সরাসরি অংশ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার ৩ বছর পরেই অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে তার দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে ১৯৭৪ সালে বেসরকারি খাতে গড়ে তোলেন যমুনা ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। আর এ কোম্পানির মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় যমুনা গ্রুপের। যাত্রার শুরুতে বেশ চড়াই-উতরাই পার হলেও পেছন ফিরে তাকাননি এ স্বপ্নচারী।

লক্ষ্য অর্জনে সাহসী সিদ্ধান্ত, উদ্যমী মনোভাব আর কঠোর পরিশ্রমে পৌঁছে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। শুরুতে ছোট্ট করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে যমুনা গ্রুপ নামে মহীরুহে। তার প্রতিষ্ঠিত যমুনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ একটি জায়ান্ট গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। গড়ে তুলেছেন ৪১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের।

অনেক নতুন খাতেও তিনি ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করেছেন। সততা, নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের কারণে তিনি যেখানেই বিনিয়োগ করেছেন, সেখানেই সফলতা পেয়েছেন। এত স্বল্প সময়ে এত বড় টেকসই ও প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপ গড়ে তোলা খুব একটা সহজ কথা নয়। মেধা এবং দক্ষতার মাধ্যমে সেটা তিনি করে দেখিয়েছেন। নুরুল ইসলাম দেশ ও দেশের মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছেন। সাড়ে ৪ দশকে তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

শিল্প খাতের পাশাপাশি নুরুল ইসলাম দেশের গণমাধ্যমের বিকাশে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে নির্মাণ এবং আবাসন খাতে রয়েছে তার অসামান্য অবদান। যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেড নামের কোম্পানির মাধ্যমে নির্মাণ এবং আবাসন শিল্পে তিনি বিশাল বিনিয়োগ করেন। এছাড়া যমুনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আয়রন অ্যান্ড স্টিল মিলস লিমিটেড, যমুনা গ্যাস ইন্ডাস্ট্রিজ, যমুনা পাওয়ার লিমিটেডসহ আরও বেশ কয়েকটি লিংকেজ শিল্পের মাধ্যমে আবাসন এবং নির্মাণ খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।

আবাসন সংক্রান্ত লিংকেজ শিল্পের বেশ কয়েকটি আমদানির বিকল্প পণ্য তৈরি শুরু করেন নুরুল ইসলাম। যা দেশের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করেছে। চাপ কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর। প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আমদানির বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য দেশীয় শিল্প বিকাশে সহায়ক হয়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার ভূমিকা মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।

যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেডের মাধ্যমে তার সৃষ্টিশীল চিন্তা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্মাণ হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। স্থাপত্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করেছেন তার নির্মাণকৃত স্থাপনায়। দূরদর্শী চিন্তা নিয়ে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইকনিক শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্ক।

এছাড়া বাসস্থানের জন্য ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে তার প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার নিউ উত্তরা মডেল টাউন ও যমুনা সিটি তারই সৃষ্টিশীল দুটি বড় আবাসন প্রকল্প। আবাসন খাতে অবদান রাখায় ‘বেটার বিল্ডিং বেটার উইনিং কম্পিটিশন ২০০২’ জিতে নেয় তার প্রতিষ্ঠিত যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেড।

বাংলাদেশে যে কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা কর্মসংস্থানে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম। অপ্রতিরোধ্য এ শিল্পোদ্যোক্তার ব্যবসায়িক জীবনে স্বপ্ন ছিল মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে নুরুল ইসলামের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে কৃতিত্ব রেখেছেন, পাশাপাশি বহুমুখী শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

করোনা সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার মতো উদ্যোক্তার খুবই প্রয়োজন ছিল। অসময়ে তার এ চলে যাওয়া শিল্প খাতে বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তবে বাংলাদেশের শিল্প বিকাশে এবং অগ্রগতিতে তার অবদান অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে কর্মরত কর্মজীবী ও দেশের মেহনতি মানুষের মধ্যে।

একজন বিনয়ী মানুষ হিসেবে বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী নুরুল ইসলাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মনিষ্ঠা, একাগ্রতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার কর্মের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। আশা করি পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং সমৃদ্ধ করবে দেশের অর্থনীতি।

লেখক : প্রেসিডেন্ট, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)

 

ঘটনাপ্রবাহ : যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম