টেক্সটাইল খাত অনুভব করছে তার শূন্যতা
jugantor
টেক্সটাইল খাত অনুভব করছে তার শূন্যতা

  মোহাম্মদ আলী খোকন  

২২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে অভিভাবক হারিয়েছে দেশের টেক্সটাইল খাত। কীভাবে দেশের টেক্সটাইল খাতকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়া যায় সব সময় তিনি সেই চিন্তা করতেন। এ শিল্পের প্রতি তার মায়া ছিল। আলাদা দরদ ছিল। এখন তার অনুপস্থিতি, তার শূন্যতা অনুভব করছে টেক্সটাইল খাত।

বাংলাদেশে যে ক’জন ব্যবসায়ী টেক্সটাইল শিল্পে বড় বিনিয়োগ করেছেন তার মধ্যে নুরুল ইসলাম অন্যতম। কোনো সমস্যায় পড়লে সব সময় তাকে ফোন দিতাম। তিনি বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে কার্পণ্য করতেন না। কোনো বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজন পড়লে তার মালিকানাধীন গণমাধ্যম- দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির মাধ্যমে সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেছে।

তিনি সব সময় একটাই কথা বলতেন, তা হল- ‘সব সময় সাহস নিয়ে সত্য কথা বলতে হবে। সেক্টরের সমস্যা সব মহলে তুলে ধরতে হবে। এতে কেউ মনোক্ষুণ্ন হলেও তা নিয়ে চিন্তা করবে না।’ আশা করছি, যুগান্তর ও যমুনা টিভি তার আদর্শকে ধারণ করে টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও বেশি করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবে।

বন্ডের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, মিথ্যা ঘোষণায় সুতা আমদানি, ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি ও ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে আজীবন সোচ্চার ছিলেন নুরুল ইসলাম। টেক্সটাইল শিল্পের বিকাশে এসব প্রতিবন্ধকতার কথা সবাই আগেও জানত, এখনও জানে। কিন্তু অহেতুক ঝামেলায় পড়ার ভয়ে কেউ সাহস করে সত্য কথা বলতে চাইত না বা চায় না।

কিন্তু নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি সাহস নিয়ে সব কথা আমৃত্যু বলে গেছেন। তিনি একাধারে সৎ ও সাহসী ছিলেন। বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তা সৎ থাকলেও সাহসী নয়। সত্য কথা বলতে চান না। আবার যাদের সাহস আছে তাদের মধ্যে সততা অনুপস্থিত। নুরুল ইসলাম ছিলেন ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’। তিনি নির্লোভ ছিলেন। আমরা এখন অনেককে দেখি যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেন না। এটা বিশাল লোভনীয় বিষয়, যা সংবরণ করা কঠিন। কিন্তু এই লোভ কখনও তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তার মতো গুণী উদ্যোক্তা আর হবে না। ব্যাংকের টাকা সঠিক ব্যবহার করে ৪১টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। কিন্তু কখনও ঋণখেলাপি হননি। নিয়মিত ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেছেন। অন্যদিকে সব সময় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতেন।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)

টেক্সটাইল খাত অনুভব করছে তার শূন্যতা

 মোহাম্মদ আলী খোকন 
২২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে অভিভাবক হারিয়েছে দেশের টেক্সটাইল খাত। কীভাবে দেশের টেক্সটাইল খাতকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়া যায় সব সময় তিনি সেই চিন্তা করতেন। এ শিল্পের প্রতি তার মায়া ছিল। আলাদা দরদ ছিল। এখন তার অনুপস্থিতি, তার শূন্যতা অনুভব করছে টেক্সটাইল খাত।

বাংলাদেশে যে ক’জন ব্যবসায়ী টেক্সটাইল শিল্পে বড় বিনিয়োগ করেছেন তার মধ্যে নুরুল ইসলাম অন্যতম। কোনো সমস্যায় পড়লে সব সময় তাকে ফোন দিতাম। তিনি বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে কার্পণ্য করতেন না। কোনো বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজন পড়লে তার মালিকানাধীন গণমাধ্যম- দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির মাধ্যমে সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেছে।

তিনি সব সময় একটাই কথা বলতেন, তা হল- ‘সব সময় সাহস নিয়ে সত্য কথা বলতে হবে। সেক্টরের সমস্যা সব মহলে তুলে ধরতে হবে। এতে কেউ মনোক্ষুণ্ন হলেও তা নিয়ে চিন্তা করবে না।’ আশা করছি, যুগান্তর ও যমুনা টিভি তার আদর্শকে ধারণ করে টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও বেশি করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবে।

বন্ডের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, মিথ্যা ঘোষণায় সুতা আমদানি, ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি ও ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে আজীবন সোচ্চার ছিলেন নুরুল ইসলাম। টেক্সটাইল শিল্পের বিকাশে এসব প্রতিবন্ধকতার কথা সবাই আগেও জানত, এখনও জানে। কিন্তু অহেতুক ঝামেলায় পড়ার ভয়ে কেউ সাহস করে সত্য কথা বলতে চাইত না বা চায় না।

কিন্তু নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি সাহস নিয়ে সব কথা আমৃত্যু বলে গেছেন। তিনি একাধারে সৎ ও সাহসী ছিলেন। বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তা সৎ থাকলেও সাহসী নয়। সত্য কথা বলতে চান না। আবার যাদের সাহস আছে তাদের মধ্যে সততা অনুপস্থিত। নুরুল ইসলাম ছিলেন ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’। তিনি নির্লোভ ছিলেন। আমরা এখন অনেককে দেখি যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেন না। এটা বিশাল লোভনীয় বিষয়, যা সংবরণ করা কঠিন। কিন্তু এই লোভ কখনও তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তার মতো গুণী উদ্যোক্তা আর হবে না। ব্যাংকের টাকা সঠিক ব্যবহার করে ৪১টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। কিন্তু কখনও ঋণখেলাপি হননি। নিয়মিত ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেছেন। অন্যদিকে সব সময় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতেন।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)

 

ঘটনাপ্রবাহ : যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম