বড় করে চিন্তা করতে পারতেন
jugantor
বড় করে চিন্তা করতে পারতেন

  ড. জায়েদ বখত  

২২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ছিলেন অসাধারণ শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন বড় মনের মানুষ। বড় করে চিন্তা করতে পারতেন। সে কারণে তার প্রতিটা শিল্পকর্মে বড় ধরনের ছাপ দেখতে পাই। যমুনা ফিউচার পার্ক তার উজ্জ্বল প্রমাণ। এছাড়া যুগান্তর, যমুনা টেলিভিশনসহ ৪১টি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে গেছেন তিনি।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিত। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ জীবন নির্বাহ করছেন। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। দেশের উন্নয়নে এসব উদ্যোগ তাকে স্মরণীয় করে রাখবে।

অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সুবাদে তার সঙ্গে সরাসরি পরিচয় ঘটে আমার। এর আগে দূর থেকে জানতাম কিন্তু কাছ থেকে দেখা হয়নি। তিনি প্রবল আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ঋণ দিয়ে তার ওপর ভরসা রাখা যেত। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতেন। ব্যক্তি জীবনে নুরুল ইসলাম নিজে ব্যাংকের ঋণখেলাপি ছিলেন না, অন্য কাউকে ঋণখেলাপি দেখলে বিরোধিতা করতেন।

বলা যায়, তিনি ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। অর্থ পাচারের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এছাড়া যমুনা গ্রুপ থেকে কখনও তিনি সুদ মওকুফ চাননি। এটা তার বড় ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। বিশাল শিল্প-কারখানা চালাতে কখনও কখনও বিপদে পড়েছেন কিন্তু হার মানেননি।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করেছেন, একইভাবে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনেও যুদ্ধ করেছেন তিনি। মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকেই প্রেরণা নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার যুদ্ধে অবতীর্ণ হন নুরুল ইসলাম। একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া সহজ কথা নয়। এর পেছনে অজস্র শ্রম, ঘাম এবং চিন্তা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কত বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে। বহু হোঁচট খাওয়ার পর একদিন ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

অর্থ থাকলেই উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। উদ্যোক্তা হতে আলাদা যোগ্যতা প্রয়োজন। যা তার মধ্যে ছিল। কারণ প্রতিটি উদ্যোগে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। হাজারও উদ্যোক্তার মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হওয়া অনেক কঠিন। কঠিনকে তিনি সহজ করেছেন। পাহাড়সম আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগকে করেছেন লাভজনক উপার্জনের মাধ্যম। এভাবেই তিলে তিলে গড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেখেছেন দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান। তার মতো শিল্পপতিরাই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়েছেন। তাকে হারানোর মাধ্যমে দেশ একজন বীর শিল্পোদ্যোক্তাকে হারাল।

দেশের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবদান অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে বড় গ্রুপগুলো বড় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সে গ্রুপগুলোর অন্যতম একটি হল- যমুনা গ্রুপ। দেশের শিল্পায়নে অবদান রাখা এ গ্রুপটির জন্ম এবং বেড়ে উঠা- সবই নুরুল ইসলামের হাত ধরে। তাকে ছাড়া এ গ্রুপ কল্পনাও করা যায় না। আশা করি নুরুল ইসলামের রেখে যাওয়া নীতি-আদর্শ ধরেই পথ চলবে যমুনা গ্রুপের উত্তরসূরিরা।

লেখক : চেয়ারম্যান, অগ্রণী ব্যাংক

বড় করে চিন্তা করতে পারতেন

 ড. জায়েদ বখত 
২২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ছিলেন অসাধারণ শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন বড় মনের মানুষ। বড় করে চিন্তা করতে পারতেন। সে কারণে তার প্রতিটা শিল্পকর্মে বড় ধরনের ছাপ দেখতে পাই। যমুনা ফিউচার পার্ক তার উজ্জ্বল প্রমাণ। এছাড়া যুগান্তর, যমুনা টেলিভিশনসহ ৪১টি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে গেছেন তিনি।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিত। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ জীবন নির্বাহ করছেন। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। দেশের উন্নয়নে এসব উদ্যোগ তাকে স্মরণীয় করে রাখবে।

অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সুবাদে তার সঙ্গে সরাসরি পরিচয় ঘটে আমার। এর আগে দূর থেকে জানতাম কিন্তু কাছ থেকে দেখা হয়নি। তিনি প্রবল আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ঋণ দিয়ে তার ওপর ভরসা রাখা যেত। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতেন। ব্যক্তি জীবনে নুরুল ইসলাম নিজে ব্যাংকের ঋণখেলাপি ছিলেন না, অন্য কাউকে ঋণখেলাপি দেখলে বিরোধিতা করতেন।

বলা যায়, তিনি ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। অর্থ পাচারের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এছাড়া যমুনা গ্রুপ থেকে কখনও তিনি সুদ মওকুফ চাননি। এটা তার বড় ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। বিশাল শিল্প-কারখানা চালাতে কখনও কখনও বিপদে পড়েছেন কিন্তু হার মানেননি।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করেছেন, একইভাবে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনেও যুদ্ধ করেছেন তিনি। মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকেই প্রেরণা নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার যুদ্ধে অবতীর্ণ হন নুরুল ইসলাম। একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া সহজ কথা নয়। এর পেছনে অজস্র শ্রম, ঘাম এবং চিন্তা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কত বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে। বহু হোঁচট খাওয়ার পর একদিন ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

অর্থ থাকলেই উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। উদ্যোক্তা হতে আলাদা যোগ্যতা প্রয়োজন। যা তার মধ্যে ছিল। কারণ প্রতিটি উদ্যোগে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। হাজারও উদ্যোক্তার মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হওয়া অনেক কঠিন। কঠিনকে তিনি সহজ করেছেন। পাহাড়সম আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগকে করেছেন লাভজনক উপার্জনের মাধ্যম। এভাবেই তিলে তিলে গড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেখেছেন দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান। তার মতো শিল্পপতিরাই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়েছেন। তাকে হারানোর মাধ্যমে দেশ একজন বীর শিল্পোদ্যোক্তাকে হারাল।

দেশের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবদান অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে বড় গ্রুপগুলো বড় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সে গ্রুপগুলোর অন্যতম একটি হল- যমুনা গ্রুপ। দেশের শিল্পায়নে অবদান রাখা এ গ্রুপটির জন্ম এবং বেড়ে উঠা- সবই নুরুল ইসলামের হাত ধরে। তাকে ছাড়া এ গ্রুপ কল্পনাও করা যায় না। আশা করি নুরুল ইসলামের রেখে যাওয়া নীতি-আদর্শ ধরেই পথ চলবে যমুনা গ্রুপের উত্তরসূরিরা।

লেখক : চেয়ারম্যান, অগ্রণী ব্যাংক

 

ঘটনাপ্রবাহ : যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম