Logo
Logo
×
   

এসি নিয়ে বিশেষ আয়োজন

পছন্দের শীর্ষে ফাইভ ডি এআই ইনভার্টার প্রযুক্তির যমুনা এসি

সেলিম উল্ল্যা সেলিম, পরিচালক, বিপণন, যমুনা ইলেকট্রনিক্স

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পছন্দের শীর্ষে ফাইভ ডি এআই ইনভার্টার প্রযুক্তির যমুনা এসি

যুগান্তর : দেশে এখন তীব্র গরম। মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে জুন পর্যন্ত এসি বিক্রির মৌসুম। মার্চ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং এপ্রিল, মে ও জুন-এই তিন মাসেই বছরের মোট বিক্রির প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ হয়। এই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় যমুনা এসি ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে যমুনা প্লাজাসহ দেশের সব ডিলার পয়েন্টে আন্তর্জাতিক মানের যমুনা এসি সহজলভ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ডেলিভারি ও বিক্রয়োত্তর সেবার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা এই তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে পারেন।

যুগান্তর : গত এক বছরে এসির ব্যবহার কেমন বৃদ্ধি পেয়েছে? এর পেছনে কী কী বিষয় কাজ করেছে?

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : এসির ব্যবহার গত এক বছরে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগে যেখানে এসি ছিল বিলাসপণ্য, এখন তা অনেকাংশে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যে পরিণত হয়েছে। ব্যবহার বৃদ্ধির কারণ-প্রথমত, জীবনযাত্রার মানের উন্নতি। মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা আরামদায়ক জীবনযাপনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। দ্বিতীয়ত, সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার উন্নতি। গ্রাম থেকে শহর কিংবা শহরতলি, বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল এবং স্থিতিশীল হওয়ায় এসি ব্যবহার সহজ হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। বিশেষ করে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি বিদ্যুৎ কম খরচ করে। ফলে বিদ্যুৎ বিল কম আসে। চতুর্থত, মূল্য ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের মধ্যে এসি চলে এসেছে। পঞ্চমত, ভৌগোলিক বিস্তার। আগে যেখানে শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট) বিক্রি ছিল, এখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দ্রুত বাড়ছে।

যুগান্তর : আপনার কোম্পানির এসির কী কী বৈশিষ্ট্য এবং সুযোগ-সুবিধা রয়েছে?

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : যমুনা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নানা সুবিধাসংবলিত এসি বাজারে এনেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত কাঁচামাল আর প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনী উৎকর্ষ সাধনের ফলে যমুনা এসি আজ দেশের মানুষের প্রথম পছন্দ। আমাদের এসির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য : ১. 5D AI Inverter Technology : স্মার্টভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে কম বিদ্যুতে বেশি কুলিং পাওয়া যায়। ২. Smart Inverter System : সাধারণ এসির তুলনায় প্রায় ৭০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। ৩. 0.5W Standby Power Consumption : স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় খুবই কম বিদ্যুৎ খরচ করে।

এছাড়াও রয়েছে উন্নত এয়ার ফিল্টার ও বিশুদ্ধতা। যেমন-১. PM 2.5 Filter : 2.5 মাইক্রনের নিচের সূক্ষ্ম ধুলিকণা দূর করে। ফলে বাতাস থাকে পরিষ্কার। ২. Nano Cold Catalyst + High Pressure Ionization : দূষিত কণা ও গন্ধ কমাতে সাহায্য করে। ৩. Cold Plasma Technology : বাতাসকে আয়নাইজ করে, মানসিক সতেজতা বাড়ায় ও সংক্রমণ কমাতে সহায়ক। ৪. Silver Ion & Degerming Filter : ব্যাকটেরিয়া ও দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করে। ৪. Anti-Virus Filter + Built-in UVC Light : প্রায় ৯৯% ভাইরাস ধ্বংসে কার্যকর বলে দাবি করা হয়।

আছে স্বাস্থ্য ও ত্বক সুরক্ষার ব্যবস্থা। যেমন-Vitamin C Filter : ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে সতেজ।

এটির ব্যবহারিক সুবিধাও রয়েছে। যেমন-Self-Cleaning Technology : রিমোটের এক ক্লিকে evaporator পরিষ্কার করা যায়। এতে ধুলা ও দুর্গন্ধ দূর হয় সহজে।

এছাড়াও রয়েছে-১. ঘরের বাতাসকে প্রায় ৯৯% পর্যন্ত বিশুদ্ধ রাখার লক্ষ্য। ২. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কম ৩. স্বাস্থ্য, আরাম ও সহজ ব্যবহারের সমন্বয়।

যুগান্তর : কিস্তিতে আপনার কোম্পানির এসি ক্রয়ের কোনো সুবিধা আছে? এছাড়া আর কী কী সুবিধা আছে?

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : আমাদের রয়েছে মাত্র ২০% ডাউন পেমেন্টে সহজ কিস্তি সুবিধা। ভোক্তারা আমাদের যমুনা প্লাজা শোরুম থেকে ৬, ৯ অথবা ১২ মাস মেয়াদে এসিসহ সব ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিস্তিতে ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়াও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ০% ইন্টারেস্টে ব্যাংক ইএমআই সুবিধা। ক্রেতা তার প্রয়োজন অনুসারে এক টন, দেড় টন কিংবা দুই টন এসি আমাদের কাছ থেকে কিনতে পারবেন। আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টে নগদে কিংবা সহজ কিস্তিতে যমুনা এসি কেনা যাবে।

যুগান্তর : আমদানি বিকল্প শিল্প হিসাবে স্থানীয় এসি প্রস্তুতকারকরা কেমন করছেন? পণ্যের মান বৃদ্ধি নিয়ে আপনাদের কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে?

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : স্থানীয় এসি প্রস্তুতকারকরা আমদানি বিকল্প শিল্প হিসাবে বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এক সময় এই খাত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল, কিন্তু এখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বাজার দখল করেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়ছে।

যমুনা ইলেকট্রনিক্স নিজেদের এই খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা ক্রেতার চাহিদা ও সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত পণ্য উন্নয়নে কাজ করছি। পণ্যের মান বৃদ্ধির জন্য যমুনা এসি যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ করে, সেগুলো হলো-আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা, গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা, শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার, কঠোর কোয়ালিটি কন্ট্রোল সিস্টেম, দক্ষ জনবল ও প্রশিক্ষণ।

যুগান্তর : ক্রেতারা এসি কেনার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দেয়?

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : সঠিক এসি বেছে নিতে কয়েকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ-যেমন ক্যাপাসিটি, মূল্য, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বাতাসের গুণগত মান, দ্রুত ঠান্ডা করার ক্ষমতা, ওয়ারেন্টি, ইনস্টলেশন ও সার্ভিসিং সুবিধা। এসব দিক বিবেচনায় রেখে যমুনা ইলেকট্রনিক্স উন্নত মানের এসি তৈরি করছে।

যুগান্তর : আপনাদের বিক্রয় পরবর্তী সেবা সম্পর্কে কিছু বলুন।

সেলিম উল্ল্যা সেলিম : সাধারণভাবে হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনে ৭%-১০% পর্যন্ত ত্রুটি থাকতে পারে। তবে যমুনা ইলেকট্রনিক্সে উৎপাদনজনিত ত্রুটির হার ১% এর নিচে রাখা হয়। ফলে গ্রাহকের হাতে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন পণ্য পৌঁছে দেওয়া যায়। বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে যমুনা ইলেকট্রনিক্স সারা দেশে বিস্তৃত সার্ভিস সেন্টার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যেখানে গ্রাহকরা সহজেই দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা পেতে পারেন। এছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ডেডিকেটেড কল সেন্টারের মাধ্যমে বিক্রয়-পরবর্তী সেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যে কোনো সমস্যায় সহজেই সহায়তা পেতে পারেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম