এসির স্থায়িত্ব বাড়াতে করণীয়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে এসির ঠান্ডা বাতাস আশীর্বাদের মতো। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দিনের দীর্ঘসময় এটি চালানো বেশ ব্যয়বহুল। তাই অনেকে ঘন ঘন এসি অন-অফ করেন। এতে এসির ক্ষতি হয়, দীর্ঘস্থায়িত্ব হ্রাস পায়।
মূলত গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা করতে এসি চালু করার পর অনেকেই কিছুক্ষণ পর বন্ধ করে দেন, আবার গরম লাগলে আবার চালান। এই অন-অফ চক্রটি এসির কম্প্রেসারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। একটি এসি চালু হওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, কারণ তখন কম্প্রেসারকে ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে বারবার চালু করলে বিদ্যুৎ খরচ কমার বদলে বরং বেড়ে যায়।
এসি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা চালিয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা এসির জন্য বেশি নিরাপদ। বারবার বন্ধ-চালু করলে কম্প্রেসারের যান্ত্রিক অংশ দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ হতে পারে। বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসটি উলটো প্রভাব ফেলে। অনেকে মনে করেন, মাঝে মাঝে এসি বন্ধ রাখলে বিল কমবে। কিন্তু বাস্তবে ঘর গরম হয়ে গেলে আবার ঠান্ডা করতে এসিকে বেশি সময় ও শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে যায় এবং মাস শেষে বিলও বেশি আসে।
তাদের মতে, ঘন ঘন এসি চালু ও বন্ধ করলে স্বাস্থ্যগত ক্ষতিও হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বারবার তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এমনকি শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। এছাড়া ঘরের আর্দ্রতার ভারসাম্যও নষ্ট হয় বারবার এসি অন-অফ করলে। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা অস্বস্তি অনুভব করা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।
অবশ্য কিছু নিয়ম মানলে-এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এতে এসির আয়ু বাড়বে, বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কমবে। যেমন-এসি একবার চালু করলে ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখা, এসি চলাকালীন দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং অপ্রয়োজনে অন-অফ না করা।
