Logo
Logo
×
   

এসি নিয়ে বিশেষ আয়োজন

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসির জনপ্রিয়তা বাড়ছে

ইনভার্টার এসি ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসির জনপ্রিয়তা বাড়ছে

যমুনা ইলেকট্রনিক্সের শোরুমে এসি দেখছেন ক্রেতারা -যুগান্তর

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস জনজীবনে ভরসা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি। দেশীয় ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কল্যাণে এখন দাম নিম্ন-মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে আসায় বাজারে এসির চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসির জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ছে।

এসি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে আবাসিক বাসা-বাড়িতে এক টন ও দেড় টন এসি বেশি ব্যবহৃত হয়। দুই টন এসিও ব্যবহৃত হয়, তবে সংখ্যা কম। ব্র্যান্ড ভেদে এক টন এসি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় এক থেকে ১ দশমিক ২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। আর দেড় টন এসি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় থেকে ২ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ প্রতিদিন যদি গড়ে ৮ ঘণ্টা করে একটি দেড় টন এসি চালান হয়, তাহলে দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৬ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। ৩০ দিনে এ খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৬০ থেকে ৪৮০ ইউনিটে। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ৮ থেকে ১১ টাকার মধ্যে হলে শুধু এসি চালানোর কারণেই মাসে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত বিল আসতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে এসির ক্ষমতা, ব্যবহারের সময় এবং বাসার অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর।

পুরোনো নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় নতুন ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ইনভার্টার এসি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইনভার্টার এসি একই সময় চালালে নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। তাই বর্তমানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসির বিক্রি বেড়েছে।

এসি নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। ফিল্টার বা কয়েল ময়লা হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং কম্প্রেসারকে বেশি চাপ নিতে হয়। ফলে একই ঠান্ডা পেতে বেশি বিদ্যুৎ লাগে। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রতি এক থেকে দুই মাস পরপর এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা উচিত বলে মনে করেন।

এ ছাড়া ঘরের তাপমাত্রা কত রাখা হচ্ছে, সেটিও বিদ্যুৎ খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অনেকেই এসি চালিয়ে ১৮ বা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে দেন, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসি চালালে আরামও পাওয়া যায় এবং বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়। তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, কম্প্রেসারকে তত বেশি কাজ করতে হবে, ফলে ইউনিট খরচও বাড়বে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘরের পরিবেশ। যদি দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ না থাকে বা ঘরে তাপ ঢোকার সুযোগ থাকে, তাহলে এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, পর্দা ব্যবহার করা এবং ঘরের ফাঁকফোকর বন্ধ রাখা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাহায্য করে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম