গ্রাহকসেবা দিতে মিনিস্টার মাইওয়ানের সমন্বিত পদক্ষেপ
মো. জুয়েল রানা, ম্যানেজার, ব্র্যান্ড মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন, মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুগান্তর : দাবদাহের যন্ত্রণায় দেশ অস্থির। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
জুয়েল রানা : বর্তমান তীব্র দাবদাহের প্রেক্ষাপটে ভোক্তাদের এসির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী আমাদের উৎপাদন, সরবরাহ ও ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত স্টক মজুত রাখা, দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করা এবং শোরুম ও ডিলার পয়েন্টগুলোয় পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহের জন্য আমরা সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি ইনস্টলেশন ও বিক্রয়োত্তর সেবা টিমকে আরও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
যুগান্তর : গত এক বছরে এসির ব্যবহার কেমন (কত শতাংশ পর্যন্ত) বৃদ্ধি পেয়েছে? ব্যবহার বৃদ্ধির পেছনে কী কী বিষয় কাজ করেছে?
জুয়েল রানা : আবাসিক ও বাণিজ্যিক-উভয় খাত মিলিয়ে চাহিদা ও ব্যবহারে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে এ প্রবণতা আরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। দাবদাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণ আবহাওয়া এ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ব্যবহার বৃদ্ধির পেছনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত, শহর ও জেলা পর্যায়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে এসি এখন আর বিলাসপণ্য নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ইনভার্টার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা গ্রাহকদের আস্থা বাড়িয়েছে। কারণ, এখন তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি সহজ ইএমআই সুবিধা, আকর্ষণীয় অফার, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবার উন্নয়নও এই প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
যুগান্তর : আপনার কোম্পানির এসির কী কী বৈশিষ্ট্য এবং সুযোগ-সুবিধা রয়েছে?
জুয়েল রানা : মিনিস্টার সব সময় গ্রাহকের আধুনিক প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমাদের এসিগুলো আধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি, দ্রুত কুলিং পারফরম্যান্স এবং এনার্জি-এফিশিয়েন্ট অপারেশন সমৃদ্ধ, যা বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন ইনভার্টার মডেলে Smart Wi-Fi Control সুবিধাও রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই তাপমাত্রা ও অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এছাড়া Minister AC-তে রয়েছে টার্বো কুলিং, সেলফ ক্লিনিং সিস্টেম, ইকো মোড এবং এনার্জি সেভার সিস্টেম, যা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর আরামকে আরও উন্নত করে। আমাদের বেশকিছু মডেলে Cold Plasma Purifier এর Anti-bacterial Air Filter প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাতাসকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সহায়তা করে।
যুগান্তর : আমদানি বিকল্প শিল্প হিসাবে স্থানীয় এসি প্রস্তুতকারকরা কেমন করছেন? পণ্যের মান বৃদ্ধি নিয়ে আপনাদের কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে?
জুয়েল রানা : একসময় বাংলাদেশের এসির বাজার ছিল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র আমূল বদলে গেছে। বর্তমানে আমদানি বিকল্প শিল্প হিসাবে স্থানীয় এসি প্রস্তুতকারকরা অসাধারণ সাফল্য দেখাচ্ছেন। বর্তমানে দেশের এসির চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত এসির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদনের ফলে উচ্চ আমদানি শুল্ক এড়ানো সম্ভব হচ্ছে, যার সুফল পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এখন অনেক কম মূল্যে মানুষ উচ্চমানের এসি কিনতে পারছেন। এই শিল্পের প্রসারের ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।
যুগান্তর : এসির বর্তমান দাম, কিস্তিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বলুন।
জুয়েল রানা : বর্তমান বাজারে এসির মূল্য মূলত টন ক্যাপাসিটি, ইনভার্টার প্রযুক্তি এবং ফিচারের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হচ্ছে। Minister-এর ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ টন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্প্লিট AC রয়েছে। সাধারণভাবে ১ টন মডেল প্রায় ৫০ হাজার টাকার পরিসর থেকে শুরু করে ১.৫ টন ও ২ টন ইনভার্টার এবং নন ইনভার্টার মডেল ৬০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফিচারভেদে বিভিন্ন মডেলে দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। গ্রাহকদের ক্রয়কে আরও সহজ করতে আমরা বিশেষ মূল্যছাড়, গিফট বক্স, সহজ কিস্তি ও শূন্য শতাংশ EMI, ফ্রি এবং দ্রুত ইনস্টলেশন সুবিধা প্রদান করছি।
যুগান্তর : আপনাদের বিক্রয়-পরবর্তী সেবা সম্পর্কে কিছু বলুন...
জুয়েল রানা : দেশব্যাপী আমাদের শক্তিশালী after-sales service network গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে গ্রাহক দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত সেবা পান। আমাদের AC গ্রাহকদের জন্য রয়েছে দ্রুত ইনস্টলেশন সাপোর্ট, রুটিন সার্ভিসিং, রিপেয়ার ও মেইনটেন্যান্স, ওয়ারেন্টি সেবা এবং জেনুইন স্পেয়ার পার্টস সাপোর্ট। প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত টেকনিশিয়ান টিম গ্রাহকের বাসা বা অফিসে গিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করে। এছাড়া আমাদের এসিতে দীর্ঘমেয়াদি কম্প্রেসার ওয়ারেন্টি, স্পেয়ার পার্টসে আলাদা ওয়ারেন্টি সুবিধা এবং নিরবচ্ছিন্ন কাস্টমার কেয়ার সাপোর্ট রয়েছে। গ্রাহক যেন নিশ্চিন্তে পণ্য ব্যবহার করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা বিক্রয়-পরবর্তী সেবা আরও সহজলভ্য করছি।
