Logo
Logo
×
   

এসি নিয়ে বিশেষ আয়োজন

ওয়ালটন এসিতে রয়েছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি

মো: তানভীর রহমান, চিফ বিজনেস অফিসার, ওয়ালটন এয়ার কন্ডিশনার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়ালটন এসিতে রয়েছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি

যুগান্তর : দাবদাহের যন্ত্রণায় দেশ অস্থির। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

তানভীর : আমরা উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছি এবং আমাদের কারখানায় ফুল-স্কেল অপারেশন চালু রেখেছি। পাশাপাশি দেশব্যাপী ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে পর্যাপ্ত স্টক নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্রুত ডেলিভারির জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট জোরদার করা হয়েছে এবং অনলাইন অর্ডার ও হোম ডেলিভারি ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা কম সময়েই পণ্য পাচ্ছেন।

যুগান্তর : আপনার কোম্পানির এসির বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা সম্পর্কে বলবেন...

তানভীর : ওয়ালটন এসি গ্রাহকের চাহিদা ও দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। কোটি মানুষের ভালোবাসায় পরপর দুবার দেশের নাম্বার ওয়ান এসি ব্র্যান্ড ওয়ালটন। আমাদের এসিতে প্রোজেন ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। ওয়ালটন এসি বিএসটিআই সার্টিফাইড ফাইভ প্লাস স্টার রেটিংপ্রাপ্ত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি। ওয়ালটন এসির চারটি প্যাটেন্টেড টেকনোলজি রয়েছে-স্মার্ট আইকনিক ডিসপ্লে, বাংলা ও ইংরেজি অফলাইন ভয়েস কন্ট্রোল টেকনোলজি এবং ব্লুটুথ টেকনোলজি। এ ছাড়া দ্রুত কুলিং সুবিধা, স্মার্ট এআই, এআই ডক্টর টেকনোলজি, ফ্রস্ট ক্লিন টেকনোলজি, অ্যান্টি করোসিভ সল্যুশন, সোলার হাইব্রিড টেকনোলজি, এয়ার প্লাজমা টেকনোলজি, কম শব্দে চলার ক্ষমতা ইত্যাদি আমাদের পণ্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া ওয়ালটন এসিতে পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি সুবিধাও দিয়ে থাকি, যা গ্রাহকদের আস্থা বাড়ায়।

বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক পরিবেশ বা আবহাওয়াগত পার্থক্য রয়েছে। তাই উপকূলবর্তী বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকাভিত্তিক পরিবেশ ও আবহাওয়া উপযোগী করে ওয়ালটন এসিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোটেক টেকনোলজি। এতে এসির কন্ডেন্সার ও ইভাপোরেটরের স্থায়িত্ব দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গ্রাহকের অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। কোটেক টেকনোলজির ওয়ালটন এসি ৩২ শতাংশ বেশি দীর্ঘস্থায়ী, যা বুয়েট কর্তৃক পরীক্ষিত।

বিদ্যুৎ সংকটে চমৎকার সমাধান ওয়ালটনের সুপার সেভিং মডেলের সোলার হাইব্রিড এসি যা দিনের বেলায় সোলার পাওয়ারের মাধ্যমে চলে। যদি সোলার পাওয়ার কম থাকে, তখন সোলার পাওয়ার থেকে আগে বিদ্যুৎ নিয়ে তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে হাইব্রিড পদ্ধতিতে চলে। এতে বিদ্যুৎ খরচ হয় অনেক কম। এ ছাড়া রাতের বেলায় সোলার পাওয়ার ব্যাটারির মাধ্যমে বা বৈদ্যুতিক লাইনেও চলে এ এসি।

যুগান্তর : স্থানীয় এসি পস্তুতকারকরা কেমন করছেন? পণ্যের মান বৃদ্ধি নিয়ে আপনারা কী করছেন?

তানভীর : স্থানীয় শিল্প হিসাবে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, বাংলাদেশে এসি উৎপাদনে ওয়ালটন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা নিজস্ব রিসার্চ ও ইনোভেশন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়িয়েছি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন করছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোয়ালিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি পণ্য আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার জন্য নাসদাত ল্যাব স্থাপন করেছি। ভবিষ্যতে আমরা রপ্তানি বাজারেও আরও বিস্তৃতি ঘটাতে চাই।

কমার্শিয়াল এয়ার কন্ডিশনারের (ভিআরএফ ও চিলার) ক্ষেত্রে আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিপুল অযৌক্তিক শুল্ক পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন এইচএস কোড না থাকায় মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য নির্ধারিত কোডে সম্পূর্ণ তৈরি ভিআরএফ ও চিলার মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করে বিক্রি করা হচ্ছে। বিপরীতে ভিআরএফ ও চিলার তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক এবং আরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় এসি প্রস্তুতকারকরা বিপুল বিনিয়োগ করেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া, সরকারি ক্রয়নীতিতে দেশীয় পণ্যকে বিবেচনা না করায় স্থানীয় এসি উৎপাদন শিল্প খাত হুমকির মুখে পড়ছে।

যুগান্তর : এসির দাম ও কিস্তিতে কেনা সম্পর্কে কিছু তথ্য দিন।

তানভীর : ওয়ালটন এসির দাম মডেল, ক্ষমতা (টন) এবং ফিচারের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত ৩৯ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা বা তার বেশি দামের এসিও রয়েছে। আমরা নিয়মিত ডিসকাউন্ট, এক্সচেঞ্জ অফার, সর্বাধিক সংখ্যক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ইএমআই সুবিধা দিয়ে থাকি। আমরা ১২ মাস পর্যন্ত সহজ কিস্তি সুবিধা দিচ্ছি। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ০% ইন্টারেস্টে ৩৬ মাস পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করা যায়। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি সুবিধা গ্রাহকদের জন্য বড় একটি সুবিধা হিসাবে কাজ করছে।

যুগান্তর : আপনাদের বিক্রয়পরবর্তী সেবা সম্পর্কে কিছু বলুন...

তানভীর : বিক্রয়পরবর্তী সেবাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সারা দেশে আমাদের বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক রয়েছে। ওয়ালটনের ৮০+ আইএসও সার্টিফাইড সার্ভিস সেন্টার ও ৪০০০+ সার্ভিস এক্সপার্ট বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছেন। ওয়ালটন এসি দিচ্ছে ১২ বছরের কস্প্রেসার গ্যারান্টি, ইনভার্টার পিসিবিতে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি, মাইক্রো চ্যানেল কনডেন্সারে ৫ বছর ওয়ারেন্টি, স্পেয়ার পার্টসে ৩ বছরের ওয়ারেন্টি, ২ বছরের আফটার সেলস সার্ভিস, ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি ও ফ্রি ইন্সটলেশন সুবিধা। এ ছাড়া হটলাইন ও অনলাইন কাস্টমার সাপোর্টের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে আমরা নিয়ে এসেছি এআই ডক্টর টেকনোলজি। এর মাধ্যমে এসিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এসি নিজেই নিকটবর্তী সার্ভিস সেন্টারে জানিয়ে দেয়। ফলে গ্রাহক জানার আগেই সার্ভিস সেন্টার জেনে যায় এসিতে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম