Logo
Logo
×
   

এসি নিয়ে বিশেষ আয়োজন

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সেরা ‘গ্রী এরি’ এসি

মো. নুরুল আফছার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সেরা ‘গ্রী এরি’ এসি

যুগান্তর : তীব্র দাবদাহে মানুষ অস্থির। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসি সরবরাহে আপনাদের পদক্ষেপ কী?

নুরুল আফছার : গরমের শুরুর দিকেই অন্য সময়ের তুলনায় এসির ক্রেতার উপস্থিতি বেড়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরাও যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ক্রেতাকে যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ এবং সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি করেছি। এছাড়া দেশব্যাপী আমাদের পার্টনার ও ডিলারদের কাছেও যথেষ্ট পণ্য আছে। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই এসি তৈরি করছি। আমরা আশা করছি, গ্রাহকের অর্ডারপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পণ্য সরবরাহ ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গ্রাহদের নিরবচ্ছিন্ন পণ্য সরবরাহ ও সেবা প্রদানে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

যুগান্তর : দেশে বিক্রীত এসির কত শতাংশ এখন আমদানি করতে হয়? স্থানীয় উৎপাদনের অবস্থা কতটা সন্তোষজনক?

নুরুল আফছার : বাংলাদেশের এসি বাজারের ১০-১৫ শতাংশ এখন আমদানিনির্ভর। বর্তমানে এসির চাহিদার ৮৫-৯০ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। বিগত সময়ে ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপলায়েন্স খাতকে এগিয়ে নিতে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে শুল্ক, কর, ভ্যাট অব্যাহতিসহ নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে এই খাত এখনো পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কারণ, এর ৮০-৯০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এ শিল্প খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কাঁচামাল ও অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি পর্যায়ে দীর্ঘ মেয়াদে হ্রাসকৃত হারে ট্যারিফ সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে আরও নতুন বিনিয়োগকারী আসবে এবং দেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদী।

যুগান্তর : গত এক বছরে এসির ব্যবহার শতাংশ বেড়েছে? এ বৃদ্ধির পেছনে কী কী বিষয় কাজ করেছে?

নুরুল আফছার : বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে প্রতিবছরই আমাদের দেশে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ছে। যে কারণে দিনদিন এসির চাহিদা বাড়ছে। প্রতিবছর ৭-১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরাও সাশ্রয়ী মূল্যে আরও ভালো পণ্য ও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়িত হওয়া, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, নগরায়ণের ফলে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারও অনেক বেশি বিকশিত হচ্ছে।

যুগান্তর : আপনার কোম্পানির এসির বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বলুন।

নুরুল আফছার : ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপ ‘গ্রী’-এর সঙ্গে প্রযুক্তি শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছে। ফলে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই করে গ্রী এসি প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশের পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ মাত্রা শূন্য পর্যায়ে রাখতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনে গ্রীর উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রী প্রতিটি পণ্য উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করছে। এজন্য গ্রী বৈশ্বিকভাবে সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। ২০০১ থেকে বিশ্বে টানা নম্বর-১ এসির স্থান দখল করে আসছে গ্রী। গ্রী শূন্য কার্বন নিঃসরণ প্রযুক্তির জন্য গ্লোবাল কুলিং পুরস্কার জিতেছে। এছাড়া গ্রী টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের সুপার ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি আমরা দেশের বাজারে সংযোজন করছি গ্রী এসির সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ নতুন ‘এরি’ সিরিজ। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-এআই ইনভার্টার কম্প্রেসার, হাইব্রিড ডিফ্রস্টিং টেকনোলজি, অটো সেলফ ক্লিনিং সিস্টেম, স্মার্ট হিউমিডিফিকেশন, স্মার্ট ওয়াইফাই সিস্টেম এবং মিনি এনার্জি রিকভারি সিস্টেম, যা বর্তমান বিশ্বে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ। এআই ইনভার্টার কম্প্রেসার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা এবং বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নরমাল ইনভার্টার যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, তার চেয়ে ১৫ থেকে ২০% অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে গ্রী এরি এসি। এই সিরিজে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড এআই চিপ এবং জি-লার্নিং অ্যালগরিদম, যা ব্যবহারকারীর পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য রিড করে প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে দৈনন্দিন রুটিন ও পছন্দের তাপমাত্রা সেটিংস করে সর্বোচ্চ আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে। গ্রীতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ঘণ্টায় ৯৩% পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া দূর করে সম্পূর্ণ বাতাস পরিশোধন করতে সহায়তা করে। এসি বন্ধ করার পর অটোমেটিক ক্লিনিং সিস্টেম এসির ইনডোর এবং আউটডোর ক্লিন করে দেয়। ফলে পরবর্তী এসি ছাড়ার সময় বাতাস হয় সম্পূর্ণ ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। নতুন সিরিজের গ্রী ‘এরি’ এসিতে রয়েছে স্মার্ট ওয়াইফাই সিস্টেম।

যুগান্তর : কিস্তিতে আপনার কোম্পানির এসি কেনার সুবিধা আছে কি?

নুরুল আফছার : বর্তমানে গ্রী এসি কেনার ক্ষেত্রে এমওপি মূল্য থেকে সরাসরি ১০% ছাড়সহ ফ্রি ইনস্টলেশন সুবিধা রয়েছে। এছাড়া জিপি স্টার, রবি, বাংলালিংক এবং দেশের প্রায় সবকটি তফসিল ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা হলে ১২% ছাড় রয়েছে। প্রায় ৩৫টি ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডসহ নগদ এবং মাসিক ৩ থেকে ১৮ মাসের ইএমআই কিস্তিতে শোরুম, ডিসপ্লে সেন্টার, পার্টনার ও ডিলারদের মাধ্যমে আমাদের এসি ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের নিজেদের শোরুম থেকেও সহজলভ্য, সহজ কিস্তিতে এসি কেনার সুযোগ রয়েছে। আমাদের কাছ থেকে নিলে ১২ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে ক্রয়ের সুবিধা দিয়ে থাকি।

যুগান্তর : এসির বর্তমান দরদাম ও অফার থাকলে সে সম্পর্কে বলুন।

নুরুল আফছার : আমরা যে অফারটি চালু করেছি তাতে একজন ক্রেতা গ্রী এসি কেনার ক্ষেত্রে ১০% পর্যন্ত ফ্ল্যাট ডিসকাউন্ট পাবেন। গ্রী এসির দাম ক্যাপাসিটি, মডেল, ইনভার্টার, নন-ইনভার্টার ইত্যাদি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে স্পি­ট এয়ারকন্ডিশনারের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

যুগান্তর : আপনাদের বিক্রয়-পরবর্তী সেবা সম্পর্কে কিছু বলুন।

নুরুল আফছার : আমাদের ব্যবসার প্রথম এবং একমাত্র মূলমন্ত্র হচ্ছে গ্রাহকদের সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা। এজন্য সারা দেশে আমাদের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ দক্ষ টেকনিশিয়ান কাজ করছেন। আমরা ইনভার্টার এসির কম্প্রেসারে দিচ্ছি ১২ বছরের ওয়ারেন্টি এবং নন-ইনভার্টারের ক্ষেত্রে কম্প্রেসারে দিচ্ছি ৫ বছরের ওয়ারেন্টি। ইনভার্টার এসির স্পেয়ার পার্টসের ৫ বছর এবং নন-ইনভার্টার এসির স্পেয়ার পার্টসের ৩০ মাস ওয়ারেন্টি এবং ২ বছরের আফটার সেল সার্ভিস রয়েছে। ক্রয়ের এক বছরের মধ্যে আমরা গ্রাহককে একটি ফ্রি সার্ভিস দিয়ে থাকি। সেই সঙ্গে আমাদের রয়েছে হান্টিং নম্বর ‘১৬৬৪৯’ কল সেন্টার সেবা। যে কোনো সেবার জন্য গ্রাহকরা এই নম্বরে কল করলে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম