Logo
Logo
×

আনন্দ নগর

হলিউডের নজরে মরক্কো

বিশ্ববাজারে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশটির সিনেমা

Icon

আনন্দনগর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মরক্কো, মরুভূমি ও প্রাচীন ইতিহাসসমৃদ্ধ একটি দেশ। এখানেই এখন হলিউডের বেশির ভাগ সিনেমার শুটিং হয়। আর এ সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে দেশটির সংস্কৃতি অঙ্গন। হলিউডের বড় বড় প্রযোজনা যখন মরক্কোর মরুভূমি আর ঐতিহাসিক নগরীগুলোকে শুটিং লোকেশন হিসাবে বেছে নিচ্ছে, তখন একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে দেশটির স্থানীয় সিনেমা শিল্পও। মরক্কো এখন শুধু বিদেশি সিনেমার শুটিং স্পট নয়; বরং নিজস্ব গল্প নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে নামা এক দেশের নাম।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত অবকাঠামো ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে দেশটি বিদেশি নির্মাতাদের পছন্দের তালিকায় ছিল। তবে ২০১৮ সালে দেশটির সরকার কর্তৃক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স রিবেট চালু হওয়ার পর চিত্রনাট্য বদলে যায়। এ প্রণোদনা বিদেশি প্রযোজকদের আরও বেশি করে আকৃষ্ট করে। একই বছর মারাকেশ চলচ্চিত্র উৎসব চালু করে ‘অ্যাটলাস ওয়ার্কশপস’। এটি হচ্ছে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক প্রযোজক ও সেলস এজেন্টদের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

এর সুফল এখন স্পষ্ট। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরক্কোতে বিদেশি প্রযোজনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই মরক্কোর সিনেমাটোগ্রাফিক সেন্টার (সিসিএম) ২৩টি বিদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমাকে প্রণোদনা দিয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে ১৬৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ। একইসঙ্গে দেশীয় সিনেমা প্রযোজনাও বেড়েছে। গত বছর দেশটিতে ৫৪টি সিনেমা নির্মিত হয়েছে, যেখানে সহস্রাব্দের শুরুতে বছরে মাত্র চারটি সিনেমা তৈরি হতো।

তবে মরক্কোর লক্ষ্য শুধু শুটিং লোকেশন হওয়া নয়। তারা চায় নিজেদের গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে। সিসিএম-এর পরিচালক মোহাম্মদ রেদা বেনজেল্লনের এ প্রসঙ্গে ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘গল্পের প্রাচুর্যে দেশ আমাদের। কিন্তু এখন চ্যালেঞ্জ হলো পরিসর বাড়ানো। বছরে এক-দুটি নয়, পাঁচ-দশটি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিতে হবে।’ জানা গেছে, এ লক্ষ্য পূরণে মরক্কো এবার বার্লিনের ইউরোপিয়ান ফিল্ম মার্কেটে (ইএফএম) ১০ জন প্রযোজকের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। লিঙ্গ সমতা ও আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় বাছাই করা হয়েছে তাদের। একইসঙ্গে লায়লা মারাকেশির নতুন সিনেমা ‘স্ট্রবেরিজ’-এর প্রোমো প্রদর্শনীর আয়োজনও থাকছে।

এ ছাড়া সিনেমার ক্ষেত্র বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের ভেতরেও চলছে প্রস্তুতি। সিনেমা বিষয় আমরা স্কুল ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো হচ্ছে। মারাকেশের ইএসএভি ফিল্ম স্কুল এখন নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের গড়ে তুলছে নিয়মিত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী এখানে চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, পরিচালনা ও চিত্রনাট্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে ভিএফএক্স ও অ্যানিমেশন সুবিধাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গক্রমে মরক্কোরর প্রযোজক লামিয়া শ্রাইবি মনে করেন, “নিজেদের গল্প নিজেরাই না বললে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রাধান্য পাবে। তাই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্থানীয় গল্প বলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ‘কে-১’ নামের একটি পুলিশ সিরিজ ইতোমধ্যে বার্লিনালে সিরিজ মার্কেটে জায়গা করে নিয়েছে, যা এ নতুন আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ।’

সব মিলিয়ে মরক্কোর সিনেমা শিল্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিদেশি প্রযোজনার অর্থনৈতিক সুবিধা যেমন কাজে লাগানো হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে সমানতালে। মরক্কো বুঝিয়ে দিচ্ছে, তারা শুধু শুটিংয়ের লোকেশন নয়, বরং সত্যিকারের এক ‘গল্পের দেশ’ও বটে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম