Logo
Logo
×

বাংলার মুখ

আগৈলঝাড়ার মোহনকাঠী স্কুল ও কলেজ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

Icon

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আগৈলঝাড়ায় মোহনকাঠী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ও ৬ নভেম্বর স্থানীয়রা অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে স্থানীয়দের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের মোহনকাঠী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জগলুল ফারুক সরকারি বরাদ্দের টিউশন ফি কলেজের শিক্ষকদের না দিয়ে আত্মাসাৎ করেন। এছাড়াও কলেজের পুকুরের লিজের টাকা কলেজ ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের হাতে রাখেন। কলেজের ভেতরে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দের প্রায় ২ লাখ ৮০ টাকার কাজের কোনো হিসাব নেই কলেজে কর্তৃপক্ষের কাছে। কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬৫ হাজার টাকা তুলে নিজে খরচ করে কোনো হিসাব দেননি কলেজের অ্যাডহক কমিটির কাছে। কলেজে ডিজিটাল হাজিরা ও সিসি ক্যামেরা ক্রয় করার জন্য কলেজ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হলে তার কোনো হিসাব নেই। প্রতিবছর কলেজ নবায়নের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে বাকি টাকার কোনো হিসাব দেননি অধ্যক্ষ। ডিজিটাল ল্যাবের বরাদ্দের টাকার কোনো হিসাব নেই কলেজে। অধ্যক্ষ মো. জগলুল ফারুক নিয়মিত কলেজে না এসে একসঙ্গে ৮-১০ দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ওই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শ্যামল কান্তি কর গুপ্ত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কলেজ থেকে অবসরে গেলে এখনো তার ছাড়পত্র দেননি ওই কলেজের অধ্যক্ষ। ওই কলেজের হিসাব সহকারী মো. সামচুল হককে দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য ওই অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষকের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন অধ্যক্ষ। টাকা না দেওয়ার কারণে ওই প্রভাষক এখনো ছাড়পত্র নিতে পারেননি।

কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ওই কলেজের অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. নাজমুল হুদা ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজে কলেজের ওই সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিকের কাছে লিখিতভাবে জানান। কলেজের সভাপতি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুনরায় ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. নাজমুল হুদাসহ স্থানীয় ১২ জন শিক্ষার্থী অভিভাবকরা অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দুমাস পেরিয়ে গেলেও অ্যাডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ব্যাপারে ওই কলেজের অধ্যক্ষ মো. জগলুল ফারুক তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা লিখিত দিয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি লিখন বণিক মোহনকাঠী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম