বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর পাল্টে গেল চেহারা!
কনে বদলের অভিযোগ দিয়ে কারাগারে বর
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন হাসিমুখে। কিন্তু বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বর দাবি করেন, যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে বসে থাকা নববধূ সেই নারী নন। পাত্রী বদলের এই অভিযোগ রূপ নেয় উত্তেজনা ও মামলার জটিলতায়। সোমবার পাত্রী পক্ষের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় শ্রীঘরে যেতে হলো বর রায়হান কবিরকে।
ঘটনার সূত্রপাত জুলাই মাসের শেষে। পীরগঞ্জের চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবিরের জন্য পাত্রী খুঁজছিল তার পরিবার। ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে দেখা হয় রাণীশংকৈলের জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারকে। রায়হানের পরিবারের দাবি, শিবদিঘী এলাকার এক চায়ের দোকানে প্রথম বার পাত্রী দেখানো হয়েছিল। সেই তরুণীকে পছন্দ হওয়ায় ১ আগস্ট হয় বিয়ে। তবে বিপত্তি বাধে বাসর রাতে। রায়হানের দাবি, কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, তিনি এই তরুণীকে দেখেননি। মেকআপের আড়ালে অন্য কাউকে তার ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রায়হানের মামা বাদল মিঞার অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের রাতে আমরা বিষয়টি ধরতে পারিনি। প্রতারণার অভিযোগে পরদিনই কনেকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে কনের বাবা জিয়ারুল হকের দাবি, পুরোটাই সাজানো নাটক। ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হল, তখন কেউ চিনতে পারল না? আসলে বিয়ের পরেই ওরা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চেয়ে সময় চেয়েছিলাম। ওরা সময় দেয়নি বলেই এখন আমার মেয়ের নামে অপবাদ দিচ্ছে। এই টানাপোড়েন গড়ায় আদালতে, হয় পালটাপালটি মামলা। সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবিরের জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
