লালমোহনে বিএডিসির সেচ প্রকল্প দখলের অভিযোগ
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একসময় যৌথভাবে শুরু করেছিলেন সেচ প্রকল্প, তারপর বিএনপি ক্ষমতায় না থাকায় বেদখল হয়ে যায়। এবার সময় আসায় সুযোগ পেয়ে সেই সেচ প্রকল্পটি পুনর্দখলে নিয়েছেন লালমোহনের কালমা ইউনিয়নের লেজছকিনা গ্রামের নাগর মাতাব্বর। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় সেচ প্রকল্পটি পরিচালনা করা মো. ইউসুফ অভিযোগ করেন, ‘নাগর মাতাব্বর সেচ প্রকল্পটি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। এটি ২০০১ সাল থেকে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের জমিতে ন্যায্যমূল্যে পানি সরবরাহ করে আসছি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প থেকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় থানায়ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’ সেচ প্রকল্প জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিন স্থানীয়দের কাছে জানা গেছে, এটি বেপারীবাড়ির মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. ইউসুফ পরিচালনা করে আসছেন। ওই এলাকার আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, মো. এরশাদ ও মো. মোস্তফাসহ আরও কয়েক কৃষক বলেন, ‘এতদিন ইউসুফের নেতৃত্বে এ সেচ প্রকল্প চলেছে। এ সেচ প্রকল্পের আওতায় ৫০ একরের বেশি জমি রয়েছে। হঠাৎ নির্বাচনের পর নাগর মাতাব্বর এটি জোরপূর্বব দখল করেন। এখন আমরা জমিতে ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। তা না হলে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হবে।’ সেচ প্রকল্প দখলের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষকদের ধানখেত শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ধান আবাদে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। মো. ইউসুফ জানান, ‘আমি ২০০১ সাল থেকে এখানে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের জমিতে ন্যায্যমূল্যে পানি দিয়ে আসছি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সেচ প্রকল্প থেকে আমাদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। তবে গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই স্থানীয় নাগর মাতাব্বরের নেতৃত্বে তার ছেলেরা জোরপূর্বক সেচ প্রকল্পের পাম্পের ঘরের ভেতর থেকে আমাকে বের করে দিয়ে চাবি নিয়ে তারা দখল করে নেন। যার কারণে আমি ঘরটি খুলতে না পেরে পানি সেচ দিতে পারছি না।’ তিনি আরও জানান, ‘ঘটনাটি আমি স্থানীয় অনেককেই জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে কোনো ফয়সালা না পেয়ে ন্যায়বিচার পেতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। দ্রুত যদি সেচ প্রকল্পটি চালুর ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে ২০০ কৃষকের অন্তত ৫০ একর জমির ধান রোপণে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত সেচ প্রকল্পটি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’ সেচ প্রকল্প দখলের ব্যাপারে নাগর মাতাব্বর বলেন, ‘২০০১ সালে আমি ও ইউসুফের ভাই আইয়ুব আলী মিলে এ সেচ প্রকল্প শুরু করি। এরপর যৌথভাবে প্রকল্পটি আমরা পরিচালনা করি। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউসুফ সেচ প্রকল্পটি তার দখলে নিয়ে যান। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা সেচ প্রকল্পটি দখল করেছি।’ থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত০সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
