Logo
Logo
×

বাংলার মুখ

ইউএনও-পিআইওর যোগসাজশ

বরাদ্দের অর্ধকোটি টাকা লোপাট

কুতুবদিয়ায় নামে-বেনামে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

Icon

মো. শাহ জামাল, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার)

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বরাদ্দের অর্ধকোটি টাকা লোপাট

বামদিক থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ ও ইউএনও ক্যথোয়াইপ্রু মারমা। ছবি: যুগান্তর

কুতুবদিয়ায় গ্রামীণ আবকাঠামো (কাবিটা) উন্নয়ন প্রকল্পের ৫০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দে নজিরবিহীন লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যথোয়াইপ্রু মারমা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাউছার আহমেদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ইউএনও এবং পিআইওর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ লুটপাটের অহরহ অভিযোগ রয়েছে। ইউএনও এবং পিআইওর স্বাক্ষরিত বরাদ্দের কাগজে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) সাধারণ তৃতীয় পর্যায়ে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুতুবদিয়া উপজেলার ছয় ইউনিয়নের জন্য ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

এসব প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তবে অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দের কাগজে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। মূলত জুন ক্লোজিংয়ের আগে তড়িঘড়ি করে নামে-বেনামে এসব প্রকল্প অনুমোদন নিয়েছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব তেলিয়াকাটা মনজুরের বাড়ি থেকে নূর ছালামের বাড়ি পর্যন্ত মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ এবং গাইডওয়াল নির্মাণ কাজের প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে খুবই নিম্নমানের ইট এবং বালু দিয়ে দায়সারাভাবে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যা পানির ঢেউয়ের ধাক্কায় খুব সহজে ভেঙে যাবে। এছাড়া এ রাস্তায় অল্প কিছু মাটি দিয়ে প্রায় ১০ লাখ বরাদ্দ থেকে সবমিলিয়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ধুরুং বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কার ও মাটি দিয়ে ভরাটের কোনো কাজ না করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। লেমশিখালী এ হকপাড়া শরীফ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তার জন্য ছয় লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে অল্পস্বল্প মাটি এবং নিম্নমানের ইট বিছিয়ে অধিকাংশ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। আশপাশে অনেক গ্রামীণ সড়ক চলাচল অনুপযোগী রয়ে গেছে কিন্তু একমাত্র চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন চলাচলের রাস্তায় প্রায় সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা আনসার ক্যাম্প থেকে অফিসার্স কোয়ার্টরের শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা মাটি দিয়ে উন্নয়ন ও আরসিসিকরণের জন্য ১০ লাখ ১৩ হাজার ১০২ টাকা বরাদ্দ নিয়ে পুরোনো ইট বিছানো রাস্তার ওপর পলিথিন এবং নয় ইঞ্চি পর পর লোহার রড দিয়ে মাটি ভরাট না করে দায়সারাভাবে রাস্তাটি আরসিসির কাজ শেষ করা হয়েছে।

তবে কয়েকজন পেশাদার ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ রাস্তায় যে পরিমাণ কাজ করা হয়েছে তাতে চার লাখ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। বাকি টাকা নিঃসন্দেহে লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব আলী আকবর ডেইল নয়াহাটখোলা রাস্তা থেকে মশরফ আলী সিকদারপাড়া পুকুর পর্যন্ত মাটি ও আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন, সাতঘরপাড়া রাস্তায় স্ল্যাবসহ ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা আরসিসি এবং মাটি দ্বারা উন্নয়ন (এহছানুল হকের বাড়ি থেকে নেছারের রাস্তা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ, আবদুল করিমের বাড়ি থেকে মোকতারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি এবং জসিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ড্রেন স্ল্যাব) নির্মাণের জন্য আট লাখ ৩০ হাজার ৬০২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এসব প্রকল্পে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সংস্কার করা হয়েছে আরও দুই থেকে তিন বছর আগে। জেলা পরিষদের পুরোনো প্রকল্পকে নতুন প্রকল্প দেখিয়ে পুরো বরাদ্দ তারা লুটপাট করেছেন। আজমকলোনি ব্র্যাক সেন্টার রাস্তাসংলগ্ন মেইন রাস্তা থেকে মহিলা মেম্বারের বাড়িসংলগ্ন রাস্তার গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের টাকা দিয়ে মহিলা মেম্বারের নিজস্ব চলাচলের রাস্তায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে নামে-বেনামে প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করেছেন এ দুই কর্মকর্তা। এ ব্যাপরে পিআইও কাউছার আহমেদ বলেন, আমরা কিছু পে-অর্ডার করে রেখেছি, কাজ হওয়ার পরে বিল দেওয়া হবে।

পুরাতন প্রকল্পের ওপর নতুন প্রকল্প দেখানো হয়েছে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো গ্রহণ করার পর আমি কুতুবদিয়ার দায়িত্ব নিয়েছি। কারও ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তায় সরকারি বরাদ্দ দেওয়া উচিত হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে পিআইও বলেন, এটা তো আমি জানি না, প্রকল্পগুলো পুনরায় তদন্ত করা হবে। ইউএনও ক্যথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কাজ করা হয়। প্রতি প্রকল্পে একজন ট্যাগ অফিসার থাকেন। পুরাতন প্রকল্পকে নতুন দেখানো এবং তার বিল দেওয়া হয়েছে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগের এবং পরের ছবি দেওয়ার পরই আমরা বিল দেই।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম