Logo
Logo
×
   

বিএনপি সরকারের ১০০ দিন

মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পদক্ষেপ সীমিত

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করে মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নতুন সরকার। কিন্তু প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির খুব সামান্যই বাস্তবে রূপ পেয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ তলানিতে, চড়া মূল্যস্ফীতির পারদ ঊর্ধ্বমুখী এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি একেবারেই মন্থর। তবে বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও রিজার্ভ না ভেঙে ঋণ পরিশোধ, ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০০ দিনে বড় কোনো ফল আশা করা না গেলেও মানুষকে আশাবাদী করার মতো স্পষ্ট কোনো অর্থনৈতিক রূপরেখা বা দৃশ্যমান স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ নিতে পারেনি সরকার।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে দুই বছর লাগবে। অর্থনীতির ক্ষতগুলো সারাতে ব্যাপক বিনিয়োগ দরকার।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে. মুজেরী বলেছেন, ১০০ দিনে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু ফল পাওয়ার আশা করা যায় না। তবে মানুষকে আশাবাদী করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়। যেগুলো পরবর্তী সময়ে সুফল বয়ে আনবে। সেরকম বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি সরকার।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল ক্ষমতায় বসেই কতদিনের মধ্যে কী করবে, এর একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নে কঠোরভাবে মনোনিবেশ করা। সরকার ১০০ দিনের মধ্যেই বেশকিছু ভালো পদক্ষেপ নিতে পারত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির হার বার্ষিক ভিত্তিতে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৩৫ বছরের ইতিহাসে সর্বনিু। এ খাতে ঋণের প্রবাহ কমায় বিকাশ যেমন কম হয়েছে, তেমনই কর্মসংস্থানের গতি হয়েছে মন্থর। সরকার ক্ষমতায় এসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

২০২২ সালের আগস্ট থেকে মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এ হার বেড়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে গিয়েছিল। এরপর থেকে কিছুটা কমলেও গত এপ্রিল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনে তা আরও পড়তে পারে।

সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে ব্যবসায় খরচ কমানো এবং ঋণের সুদহার যৌক্তিককরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ঋণের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ঋণের সুদহার কমালে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে। তখন মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত তহবিলের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এসব তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা কম সুদে ঋণ নিতে পারছেন। নির্বাচনি ইশতেহারে নানা খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেই গতি স্তিমিতই রয়ে গেছে।

সাফল্য : সরকার বেশকিছু খাতে সফলতার নজির দেখাতেও সক্ষম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। বিগত সরকারের নেওয়া বৈদেশিক ঋণও শোধ করছে। তারপরও এ সরকারকে রিজার্ভে হাত দিতে হচ্ছে না। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের অর্থ থেকেই ওই দায় শোধ করছে। ফলে রিজার্ভ এখনো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেও টাকার বিপরীতে ডলারের দাম খুব একটা বাড়েনি। আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে। তবে ব্যাংকগুলোয় প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরেও বিক্রি হচ্ছে। এরপর থেকে ডলারের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

সংকটের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। রপ্তানি আয় টানা আট মাস পর এপ্রিলে ৩৩ শতাংশ বাড়লেও জুলাই-এপ্রিলের হিসাবে ২ শতাংশ কম। নির্বাচনের পর তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানির আদেশ বাড়ায় এখন আয়ও বাড়ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম