Logo
Logo
×
   

বিএনপি সরকারের ১০০ দিন

সরকারের শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান

Icon

তারিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিপুল প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সক্রিয়তা বাড়ানো হয়। মনোযোগ দেওয়া হয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে। প্রতিশ্রুতিগুলো সরকারের প্রথম একশ দিনেই দৃশ্যমান হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড চালু, ধর্মীয় সেবকদের সম্মানিভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন ও বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে।

এছাড়া ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি এবং নারীর নিরাপত্তা ও তাদের জন্য পিংক বাস চালু ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদে ত্রাণ বরাদ্দ, বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা, ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস, বাজার মনিটরিং, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিজ দলীয় এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল, পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসাকেন্দ্র চালুর মতো ব্যাপক প্রশংসনীয় পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের উদ্যোগও দৃশ্যমান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী মানেই তার আঙুলের ইশারায় চলবে রাষ্ট্র, কোনো নিয়ম-নীতি থাকবে না; এ রকম একটা ধারণা কাজ করে অনেকের মনে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর সরকার পরিচালনার সেই ধারায় পরিবর্তন এনেছেন। মানুষ এখন দেখছেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসককে। তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এখন আর বছরের পর বছর আয়নাঘরে থাকার ভয় কাউকে তাড়িত করছে না। নেই গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এছাড়া বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক গতি সঞ্চার, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা এবং জনগণের আস্থা দৃঢ় করার লক্ষ্যে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাজের এমন দৃষ্টান্ত ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপিত হবে। তবে তারা আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনাও আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নতি হয়নি, সেদিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। কয়েকটি সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে যে সমালোচনা, তা দূর করতে হবে।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা একে একে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং অন্যান্য যেসব কার্ডের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। এই ১০০ দিনে যা যা করা সম্ভব তা সরকার করছে। অন্যদিকে হামের সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা সমস্যা সেগুলোও যথাসাধ্য সরকার মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। কাজেই আমি সরকারের প্রয়াস ও চেষ্টার মধ্যে কোনো ঘাটতি বা আন্তরিকতার অভাব দেখি না। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। অর্থনৈতিক কাঠামোসহ সবক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটিকে পুনর্গঠন করতে কিছু সময় লাগবে। তবে সরকারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, সরকার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে। সরকারকে সময় দিতে হবে এবং সরকারের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

জানা গেছে, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৭টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এসব মন্ত্রিসভা বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যা গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণে কী কী ভূমিকা রাখা উচিত, তা তিনি আগেই বলেছেন। ক্ষমতায় আসার আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেসব বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি ছুটছেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং পূরণ করার মধ্যে বড় ঘাটতি এ দেশে দেখা গিয়েছিল আগে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি ঠিক সেটা করছেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। একের পর এক তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন যুগান্তরকে বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখছি। অত্যন্ত প্রাণবন্ত সংসদ দেখলাম, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের ভেতর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক সমালোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। দেশের প্রান্তিক এলাকায় তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে চলেছেন।

তিনি বলেন, ১৮০ দিনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য প্রতিটি সেক্টর, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মকাণ্ড চলছে। সরকার গঠনের পর থেকে জনকল্যাণ, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা দেখলাম যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অশালীন আচরণ করা হচ্ছে বাক স্বাধীনতার নামে, কিন্তু কোনো আইনি পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। সুতরাং দেশে বাক স্বাধীনতা আছে, আইনের অনুশাসন আছে। দেশে সর্বোচ্চ মানবাধিকার আছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা পুনঃস্থাপিত হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম