Logo
Logo
×
   

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭

শেয়ারবাজার

কথা বেশি পদক্ষেপ কম

মনির হোসেন

মনির হোসেন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কথা বেশি পদক্ষেপ কম

দুর্বল অস্তিত্বে টিকে আছে দেশের সম্ভাবনা শেয়ারবাজার। নানা সংকটে পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে। বছরের বেশির ভাগ সময়ই লেনদেনে খরা। নির্বাচিত সরকার এলেও বিনিয়োগকারীদের ভাগ্য বদলায়নি। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের ভরসা ছিল বাজেট।

শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অনেক কথা আছে। কিন্তু পদক্ষেপ খুবই কম। অর্থনৈতিক মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকারের শেয়ারবাজারের গুরুত্ব হারিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে মূলত তিন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সরাসরি বরাদ্দ, কর কমানো কিংবা বাড়ানো এবং সংস্কারের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু টানা কয়েক বছরের মতো এবারও বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াবে, এমন কোনো পদক্ষেপ খুব বেশি নেই।

নগদ লভ্যাংশ বিতরণে উৎসাহিত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি মুনাফার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করলে স্বাভাবিক কর দিতে পারবে। তবে ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দিলে বাকি লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। একইভাবে নগদের বোনাস লভ্যাংশ বেশি দিলে অথবা শুধু বোনাস লভ্যাংশ দিলেও অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ কোনো কোম্পানি ১০০ টাকা নিট মুনাফা করল। সেখান থেকে ৩০ টাকা বিনিয়োগকারীদের নগদ দিলে জরিমানা ছাড়া নিয়মিত কর দিলেই হবে। তবে কোনো কোম্পনি যদি ২০ টাকা নগদ দেয়। তবে ১০ টাকার জন্য তাকে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা জরিমানা দিতে হবে। আবার লভ্যাংশ ১ টাকাও না দিলে অথবা বোনাস বেশি দিলে ওই অনুপাতে জরিমানা হিসাবে কর দিতে হবে।

এরফলে উদ্যোক্তাদের ওপর মুনাফা প্রদানের চাপ বাড়বে। অন্যদিকে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বোনাস শেয়ার বেশি দিলে বোনাসের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক, বিমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে এ করের আওতার বাইরে রাখা হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কার নেওয়া হবে। ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি সহজ করতে জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনুমোদনসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে।

এছাড়া আইপিও প্রক্রিয়াকে সময় নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আবেদন দাখিল, নথিপত্র যাচাই, পর্যালোচনা, সংশোধন ও অনুমোদনের বড় অংশ অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প অর্থায়নে বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহারও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

অপরদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করহার ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কর সুবিধা বহাল থাকছে। সিডিবিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ১২ লাখ ৩ হাজার। আর কোটিপতির সংখ্যা ১৪ হাজার।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .