ঢাকা-১০ আসন
জটিল সমীকরণে প্রার্থীরা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত ও কৌশলগত আসনে পরিণত হয়েছে ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকা। দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে এই আসন ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল, জল্পনা ও অঙ্ক কষা। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা একটি বড় অংশের ভোটারদের প্রত্যাশা ধানমন্ডি এলাকাসহ ঢাকা-১০ আসনে যেন এবার ফ্যাসিবাদবিরোধী একজন প্রার্থী নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক ইতিহাস, প্রতীকী গুরুত্ব ও অতীত স্মৃতির কারণে ধানমন্ডির এই অংশকে ঘিরে আবেগ, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা এবার আলাদা মাত্রা পেয়েছে। ঢাকা-১০ আসন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই আসনের আওতায় রয়েছে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা এবং কামরাঙ্গীরচরের কিছু অংশ। এই আসনে মোট ভোটার ৩,৮৮,৬৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,০৪,৬০৪, নারী ১,৮৪,০৫০ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। অভিজাত আবাসিক এলাকা, পুরোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, পাশাপাশি শিল্পঘেঁষা শ্রমজীবী জনপদ সব মিলিয়ে এই আসনের ভোটারদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা একরকম নয়। এ কারণে নির্বাচনি সমীকরণও এখানে বেশ জটিল ও বহুস্তরবিশিষ্ট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. আ. আউয়াল মজুমদার, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীকে প্রার্থী নাসরীন সুলতানা।
এছাড়া বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) থেকে হাতি প্রতীকে মো. আবু হানিফ হৃদয়, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে বহ্নি বেপারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে আনারস প্রতীকে আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) থেকে ছড়ি প্রতীকে মো. আনিছুর রহমান, আমজনতার দল থেকে প্রজাপতি প্রতীকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইন ও জনতার দল থেকে কলম প্রতীকে মো. জাকির হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী সংখ্যা বেশি হলেও সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টিকেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি অংশকে টানতে এসব দল সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, জনপ্রতিনিধির কাজ শুধু মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়া নয়; বরং সংসদে ও সরকারের ভেতরে জনগণের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া, এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া ও দরকষাকষির মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় করা। ঢাকা-১০ আসনে বড় কোনো কাঠামোগত সমস্যা না থাকলেও সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতাকেই তিনি সবচেয়ে বড় সংকট হিসাবে দেখছেন।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার ঢাকা-১০ আসনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সংকট ও জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। তার দাবি, অতীতের নেতারা দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের কারণে এসব সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আ. আউয়াল মজুমদার বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা শুরু থেকেই ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।
এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা বলেন, ঢাকা-১০ আসনে নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার ঘাটতি দূর করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন সিসিটিভি এবং সড়কবাতি স্থাপন, নষ্ট ক্যামেরা ও ল্যাম্পপোস্ট দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

