Logo
Logo
×

রাজধানীর খবর

ঢাকা-১৩ আসন

ভোটে ফ্যাক্টর আঞ্চলিকতা

মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ জনপদ চান ভোটাররা

Icon

শাহবাগ (ঢাকা) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন ভোটারের এই জনপদ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৮ থেকে ৩৪ নম্বর পর্যন্ত মোট ৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় মার্কার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আঞ্চলিক ভোটব্যাংক এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনি ময়দানে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ববি হাজ্জাজ। তার বিপরীতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসাবে রিকশা মার্কা নিয়ে মাঠে আছেন মাওলানা মামুনুল হক। মই মার্কা নিয়ে বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান লিপন, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা ও ঘুড়ি প্রতীকে শেখ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (আপেল), বিএমজেপির মো. শাহাবুদ্দিন (রকেট) ও মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার (হারিকেন)। এই আসনে জয়-পরাজয় অনেকটাই নির্ভর করছে নোয়াখালী, ভোলা ও কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আসা ভোটারদের ওপর। বসিলা, ৪ রাস্তার মোড় ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় ভোলার বাসিন্দাদের বিশাল আধিক্য রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই এলাকার প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ভোটারই ভোলার আদি নিবাসী, যারা গত সিটি নির্বাচনেও নিজেদের শক্তি জানান দিয়েছিল। অন্যদিকে রায়েরবাজার ও আড়াইল্লা গ্রাম এলাকায় কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ভোটারদের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ করা যায়। টাউনহল ও তৎসংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় আবার নোয়াখালীর ভোটার ও ব্যবসায়ীদের প্রভাব বেশি। এলাকার অলিগলি ঘুরে ভোটারদের মাঝে দেখা গেছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। বসিলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুর রহিম যুগান্তরকে বলেন, ‘ভোট তো দিমু, কিন্তু শান্তি চাই। এইখানে কিশোর গ্যাং আর মাদকের জ্বালায় রাইতে শান্তিতে ঘুমানো দায়। যে আমাগো নিরাপত্তা দিব, হেই আমাগো নেতা।’

ভোটারদের এই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে ফুটে উঠেছে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখল বন্ধ করা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, সরকার যে দলেরই হোক, এমপি হিসাবে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি একটি সুস্থ সমাজ গড়বেন ও সাধারণ মানুষের জন্য তার দুয়ার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

অন্যদিকে বিএনপির ববি হাজ্জাজ জোর দিচ্ছেন মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে। তিনি জানান, পুলিশের সহায়তায় জেনেভা ক্যাম্প ও রায়েরবাজারের মাদক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় খাল পরিষ্কার ও গ্যাস সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেছেন এবং প্রতি মাসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিক সভা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

বাসদ-এর প্রার্থী খালেকুজ্জামান লিপন দিয়েছেন ১৩ দফা ইশতেহার। তিনি প্রতিটি মহল্লায় ‘নাগরিক তদারকি কমিটি’ গঠন ও প্রবীণদের পেনশনের দাবি তুলছেন।

স্থানীয় সন্তান হিসাবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম কিশোর গ্যাংয়ের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম