ঢাকা-৬ আসন
পুরান ঢাকা নতুন করতে চান
মো. মোস্তাকিম আহমেদ, পুরান ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর পুরান ঢাকায় জমে উঠেছে নির্বাচনের প্রচারণা। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট, জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যসহ সব দলের প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকা। অভিযোগ-পালটা অভিযোগ থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
ঢাকা-৬ আসন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এর অন্তর্ভুক্ত সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া ও কোতোয়ালি থানার একাংশ। এখানে মোট ভোটার ২,৯২,২৮৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৫২,৫১৯ জন, নারী ভোটার ১,৩৯,৭৬১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। শুরুতে এই আসনে বিভিন্ন দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও এখন চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত প্রার্থীদের ঘিরেই জমে উঠেছে ভোটের প্রতিযোগিতা। সরেজমিন দেখা যায়, মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচন। কে আসবে, কে যাবে, আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না ইত্যাদি নিয়ে আলাপ। পুরান ঢাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, আশা করি এবার জামায়াত জিতবে। ঢাকার-৬ আসনে সৎ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব চাই। গ্যাস সমস্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, নাগরিক সুবিধা, যানজট নিরসন ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন হোক। সদরঘাটের ব্যবসায়ী মো. মুফতিজুল কবির কিরণ বলেন, যারা দেশের কল্যাণে কাজ করবেন এমন প্রার্থী নির্বাচিত করব।
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নিজেকে তুলে ধরছেন পুরান ঢাকার ঘরের সন্তান হিসাবে। এখানে তিনি নির্বাচিত হলে গ্যাস সংকট, মাদক, যানজট ও পরিবেশ দূষণসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্যাসের সমস্যাটিকে এখন এক নম্বরে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই সংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে ও যেখানেই যাচ্ছি, সবাই আমাদের কাছে গ্যাসের বিষয়ে অভিযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি মাদক সমস্যাও এলাকায় বিরাজ করছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক বলেন, উন্নয়নের জন্য সময় প্রয়োজন। যদি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকি, আমরা একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলতে চাই, যা এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের স্থায়ী কাঠামো হিসাবে কাজ করবে। বিশেষ করে ঢাকা-৬ এর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ডিসেন্ট্রালাইজেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করব ও ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান মূল্যবোধের রাজনীতির বার্তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রচার শুরুর পর থেকেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু অন্য একটা দলের প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, আমাকে তিনি হুমকিও দিচ্ছেন। তারা চাইলে নাকি আমরা নির্বাচনের প্রচারণার মাঠেই নামতে পারব না। তাই তার প্রতি বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান থাকবে ভাষা সংযত করার জন্য। আমি সব সময় চাই ভোটের লড়াই যেন ভোট প্রয়োগের মাধ্যমেই হয়। গায়ের জোর কিংবা ব্যক্তি আক্রমণে নয়। নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব, ঘুস ও পুরান ঢাকাকে নতুন করে গড়তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পুরান ঢাকায় আধুনিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই। তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যে কোনো চাঁদাবাজি বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন।
জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু বলেন, মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে, লাঙ্গলের পক্ষে নীরব ব্যালট বিপ্লব হবে ও আমরাই বিজয়ী হব। মানুষ এখনো জিজ্ঞেস করছে, ভোট হবে কিনা? ভোটারের মনে সংশয় থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ সার্বিক নির্বাচনি পরিবেশ তৈরিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আমরা বিজয়ী হলে পুরান ঢাকাকে যানজটমুক্ত রাখা, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসাবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
গণফ্রন্টের প্রার্থী আহম্মেদ আলী শেখ বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, বাসস্থান এবং খাদ্যসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করব। আশা করি, জনগণ গতানুগতিক রাজনীতির গন্ডি পেরিয়ে তাদের সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে যারা সত্যিকার অর্থে কাজ করতে চান, তাদেরই নির্বাচিত করবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে শতকোটি টাকার
মালিক নয়, তবে মধ্যবিত্ত জীবনযাপন করে ছেলেমেয়েদের চিকিৎসক, প্রকৌশলী বানিয়েছি। আমি চাই পুরান ঢাকার প্রতিটি মানুষকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বাবলম্বী ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে।
