বগুড়ায় বিএনপির তিন নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে সংসদ-সদস্য
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনেই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনই নতুন মুখ। তিনজন এক সময় বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভের পর এবার তারা সংসদে বসতে যাচ্ছেন। তিনজন হলেন-বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আবদুল মহিত তালুকদার এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোরশেদ মিল্টন।
বগুড়া-২ আসনটি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নিয়ে গঠিত। জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মীর শাহে আলম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এক লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক মেয়র আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন, ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। মীর শাহে আলম জানান, সংসদে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফার বাস্তবায়নে সহযোগিতার পাশাপাশি আসনটি ঢেলে সাজিয়ে উন্নয়নের মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলবেন।
বগুড়া-৩ আসনটি দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মুহিত তালুকদার ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ আসনে তার বাবা আবদুল মজিদ তালুকদার তিনবার এবং বড় ভাই আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা দুবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আবদুল মোমেন তালুকদার খোকার স্ত্রী মাসুদা মোমেনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদারের কাছে পরাজিত হন। এবারের নির্বাচনে আবদুল মুহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর নূর মোহাম্মদ পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। আবদুল মুহিত তালুকদার বগুড়া-৩ আসনের আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার কাঙ্ক্ষিত সব উন্নয়ন কাজ করার চেষ্টা করবেন।
এছাড়া বগুড়া-৭ আসনটি গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান। এখানে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। তার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টনকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়। তিনি দুই লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ৫৮৪ ভোট।
মোরশেদ মিল্টন গাবতলী পৌরসভার মেয়র ও গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাকে বিএনপি মনোনয়ন দেয়। কিন্তু উপজেলা পরিষদের পদ থেকে তার পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায় সেবার বিএনপি প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচন হয়। ওই বছর বিএনপির সমর্থনে রেজাউল করিম বাবলু নামে এক ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ট্রাক মার্কা প্রতীকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মোরশেদ মিল্টন বলেন, ‘ভোটাররা বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করে জিয়া পরিবারের মর্যাদা রেখেছেন। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের এ আসনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখব।’
