Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

কুষ্টিয়ায় আ.লীগের কৌশলের কাছে ধরাশায়ী বিএনপি

Icon

এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় আ.লীগের কৌশলের কাছে ধরাশায়ী বিএনপি

কুষ্টিয়ায় ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপি ধরাশায়ী হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার এলাকায় ফিরে গোপনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। এ কারণে বিএনপির দুর্গখ্যাত কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ভূমিধস জয় পেয়েছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি পরাজিত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এসব এখন কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তৃণমূল বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের ভোট টানতে গিয়ে নিজের ঘর সামাল দিতে পারেনি বিএনপি। এ কারণে দলের একটি বড় অংশ ধানের শীষে ভোট দেয়নি। তারা বলেন, রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ। ভোটের খেলায় বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে প্রকাশ্যে আসেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা। নির্বাচনি প্রচারণায়ও তারা বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। আত্মগোপনে থাকা অধিকাংশ নেতা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলে নিজ নিজ এলাকায় চলে আসেন। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে থাকলেও তারা গোপনে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। অধিকাংশ নেতা গোপনে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। বিএনপিকে হারাতে তারা জামায়াত নেতাদের নিয়ে সব কৌশল ঠিক করেন। বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গোপনে তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কুষ্টিয়া জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মণ্ডল আত্মগোপনে চলে যান। কয়েকদিন আগে হঠাৎ তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। গুঞ্জন ধানের শীষে ভোট দিতে তিনি এলাকায় ফেরেন। কুষ্টিয়া সদর আসনের বটতৈল ইউনিয়নের বাসিন্দা মোমিন মণ্ডল এলাকায় ফিরে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন। অতীতের কোনো নির্বাচনে এ ইউনিয়নে জামায়াত কোনো ভোট পায়নি। ভোটব্যাংক ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হাতে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপির থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা। এ ইউনিয়নে মোমিন মণ্ডলের পাশাপাশি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আরিফুল বাবু ও সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। শুধু বটতৈল ইউনিয়ন নয়, সদর উপজেলার সব ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। অথচ কুষ্টিয়া সদর আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার কাছে ৫৩ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার পরাজিত হয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের দাবি-আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে আসতে এবং মামলা-হামলা থেকে বাঁচতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শুধু এ কৌশল অবলম্বন করেছেন। কেউই ধানের শীষে ভোট দেননি। বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংকের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ভোট যুক্ত হলে জামায়াতের ভূমিধস বিজয়ী হতো না। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসেনের কাছে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী পরাজিত হয়েছেন। এখানেও ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেন আওয়ামী লীগ নেতারা। কুমারখালী উপজেলার সদকি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে রয়েছেন। তার লোকজনও ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচন করেছেন। এখানেও দাঁড়িপাল্লা জিতেছে।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ৪৬ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী রাগিব রউফ চৌধুরীকে পরাজিত করেছেন জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর। গুঞ্জন-এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কামারুল আরেফিন ভারতে পলাতক। সেখানে থেকে তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ভোট করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আহমেদ শওকত আত্মগোপন থেকে কয়েকদিন আগে এলাকায় ফেরেন। ধানের শীষের পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে মাঠে নামেন। তার বিশাল কর্মী বাহিনীকেও ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামান। এরপরও এ ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের প্রকাশ্যে এনে ভোটের মাঠে নামান বিএনপির প্রার্থীরা। এ কারণে দলের একাংশ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। দলের অনেক নেতাকর্মী ধানের শীষে ভোট না দেওয়ায় বিএনপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আলম বলেন, আওয়ামী লীগকে প্রকাশ্যে ভোটের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। বিএনপিকে ব্যবহার করে গর্ত থেকে বেরিয়ে তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। ভোটের মাঠে তাদের নামানোয় দলের বড় একটি অংশও আবার ক্ষুব্ধ ছিল। তারাও নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। এ কারণে বিএনপির ফল বিপর্যয় হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম