Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় নাম লেখানোর দৌড়ে কারা

শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার

শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় নাম লেখানোর দৌড়ে কারা

বিগত ২০০১-২০০৫ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে ৯ জন নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ৮ জন ছিলেন এমপি- যাদেরকে মন্ত্রী. প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। একজন টেকনোক্রেট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বাড়বে না কমবে-সেটি নিয়েই চলছে নানা আলোচনা। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। মঙ্গলবার হবে শপথ অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে এমপি হিসাবে শপথ নিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩ আসনের মধ্যে ২১টি থেকে নির্বাচিত ধানের শীষের এমপিরা রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। মন্ত্রিত্বের সুসংবাদ নিয়ে কে কে ফিরছেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ৯ জন। এর মধ্যে সীতাকুন্ড থেকে নির্বাচিত এমপি এলকে সিদ্দিকী ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী। চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসন থেকে নির্বাচিত এমপি এম. মোরশেদ খান ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা। কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসন থেকে নির্বাচিত এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত এমপি মণি স্বপন দেওয়ান ছিলেন পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্রেট কোটায় বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বিএনপির সংসদীয় দলের হুইপ ছিলেন চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসন থেকে নির্বাচিত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে তার ওপর নির্ভর করছে চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় কয়জন স্থান পাচ্ছেন সেই বিষয়টি। তবে প্রাথমিকভাবে অন্তত চারজন এমপিকে মন্ত্রিসভায় স্থান করে দেওয়া হবে সেটি অনেকটাই নিশ্চিত। দলের নীতিনির্ধারণী কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে নির্বাচিত এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচিত এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১০ (খুলশি-পাহাড়তলী) আসন থেকে নির্বাচিত এমপি বাংলাদেশ পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান।

এর বাইরেও যাদের নাম আলোচনায় আছে তাদের মধ্যে টেকনোক্রেট কোটায় সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত এমপি দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্থান পেতে পারেন বলে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।

কোতোয়ালি আসনটি ভিআইপি আসন হিসাবে পরিচিত। এই আসন থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হন সেই দল সরকার গঠন করে ও প্রার্থী মন্ত্রিসভায় স্থান পান-বিগত প্রায় সব জাতীয় নির্বাচনের এমন চিত্র দেখা গেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসন থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে রেকর্ড গড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এনামুল হক এনাম। চন্দনাইশে কর্নেল অলির ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে হারিয়েছেন জসিম উদ্দিন আহমেদ। তাদের দু’জনের নাম মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আসন্ন মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে, চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় কতজন স্থান পেতে পারেন-সে বিষয়ে সাংগঠনিক লেভেলে কোনো আলাপ-আলোচনা হচ্ছে না। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী লেভেলে এ বিষয়গুলো ঠিক করা হচ্ছে। তবে আমার ধারণা, এবার একটি ‘স্মার্ট কেবিনেট’ হবে। যাদের পাবলিক পারসেপশন ভালো, জনগণের জন্য কাজ করার অদম্য বাসনা আছে-তাদের নিয়েই মন্ত্রিসভা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম