Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

রংপুর মাদকের চোরাচালানের নিরাপদ রুট

ভারতে নিষিদ্ধ ‘এসকাপ’ দেশে মাদকসেবীদের তালিকায়

Icon

মাহবুব রহমান, রংপুর

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে নিষিদ্ধ ‘এসকাপ’ দেশে মাদকসেবীদের তালিকায়

সংগৃহীত ছবি

রংপুর জেলা মাদকের চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে মাদক চোরাকারবারিরা। অইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মাদকের চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ‘বাহকরা’ প্রায়ই ধরা পড়লেও আড়ালে থেকে যাচ্ছে গডফাদাররা। বিভাগের ছয়টি জেলার ভারতের সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন নামে মাদকের চোরাচালান আসছে রংপুরে। এর পর পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এখন ফেনসিডিলের উপাদানে তৈরি বিকল্প নামে আসছে ‘এসকাপ সিরাপ’ ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। এসব ছাড়াও গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ অন্য নেশাজাতীয় মাদকের চোরাচালান দেশে আসছে। তরুণদের মাঝে বাড়ছে প্রেসক্রিপশনভিত্তিক নেশাজাতীয় ওষুধের অপব্যবহার।

গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসের রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং র‌্যাব-১৩-এর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে মাদক চোরাচালের সঙ্গে যুক্ত ৭৬৯ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলা করা হয়েছে ৭৭৫টি। জব্দ করা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাপ, ফেয়ারড্রিল সিরাপ, হেরোইন, চোলাই মদ, বিদেশি মদ এবং নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। তবে এসবের সঙ্গে ক্যারিয়াররা (বাহক) গ্রেফতার হলেও মাদক চোরাচালানের কোনো গডফাদারকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ গডফাদাররা বরাবরই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়। আর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও এ নিয়ে গভীর তদন্তে যেতে চায় না রহস্যজনক কারণে।

রংপুর জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, রংপুর নগরীতে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা আর জেলায় ফেনসিডিল, এসকাপ ও ফেয়ারড্রিল সিরাপ সেবনকারীদের সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে। ফেনসিডিলের চালানের ওপর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির কারণে ‘এসকাপ সিরাপ’ আসছে দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার লাগোয়া ভারতের পশ্চিবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত পথে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো ‘এসকাপ সিরাপ’ ও ‘ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট’ নিয়ে। রংপুর র‌্যাব-১৩-এর অভিযানে ৫ মাসে ৭ হাজার ৮০০ পিস ‘এসকাপ সিরাপ’ ও ‘ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট’ জব্দ করা হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, এসকাপ সিরাপ হলো কাশির ওষুধ আর ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট হলো ব্যথানাশক ওষুধ। দুটিই সেবন করলে সাময়িক ঝিমুনি, তন্দ্রাভাব হয় এবং দীর্ঘমেয়াদ সেবন করলে মাদকের মতো আসক্তি বাড়ে। এসকাপ সিরাপে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপদান থাকায় এটি নিষিদ্ধ করেছে ভারতের স্বাস্থ্য দপ্তর। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে।

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট’ একটি শক্তিশালী ওপিওড জাতীয় ওষুধ। স্নায়ুবিক সমস্যায় এটি চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে হয়। বিদেশে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। অনেক দেশে এটি নিষিদ্ধ। কারণ দীর্ঘ সময় সেবনের পর বন্ধ করে দিলে উইথড্রয়াল সিম্পটম দেখা দেয়।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, রংপুর মাদকের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। তাই তিনি এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, আমরা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর, র‌্যাব, পুলিশ সমন্বিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। অনেক মাদককারবারিকে গ্রেফতার, মামলা দায়ের ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .