আদমদীঘিতে একই প্রকল্পে দুদফায় কোটি টাকা বরাদ্দ
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার আদমদীঘি প্রশাসনের বিরুদ্ধে একই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুদফায় কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর বিপরীতে দৃশ্যমান কাজ না থাকায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-২ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে দেখে গেছে, একই অর্থবছরে আদমদীঘি উপজেলার প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন ও রাস্তা মেরামতের জন্য প্রায় একই ধরনের প্রকল্পে দুই দফায় ৫০ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ‘উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা’ থোক বরাদ্দ থেকে আদমদীঘির ছয়টি প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পুনরায় আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সাজসজ্জাসহ অধিকাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার দায়িত্বকালে হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামত প্রকল্প ২০২৫ সালে উল্লেখ রয়েছে। অথচ দুইবার অর্থ বরাদ্দ হলেও রাস্তা মেরামতের কোনো দৃশ্যমান কাজ দেখা যায়নি।
এছাড়া প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রূপসা আবাসিক ভবনে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ দেখা যায়নি। ভবনের দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছে। অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশ সড়ক এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার কাজের দৃশ্যমান কোনো মেরামত পরিলক্ষিত হয়নি।
এলাকাবাসী বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না এবং একই ধরনের প্রকল্পে দুই দফায় বরাদ্দের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ দাবি করেছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, দ্বিতীয়বার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও মন্ত্রণালয় ভুলক্রমে একই প্রকল্পের নামেই পুনরায় বরাদ্দ দিয়েছে। পরে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় দুই বরাদ্দ সমন্বয় করে বাস্তবায়নের জন্য রেজুলেশন ও নতুন কাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে সে অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।
