Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একইসঙ্গে গণভোট-এই দ্বৈত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজ বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে এ দেশের কোটি কোটি মানুষ কেবল একটি নতুন দিনের সূচনা দেখবে না, বরং দেখবে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশজুড়ে এখন বিরাজ করছে এক মিশ্র আবহ-একদিকে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা।

এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর শুদ্ধি অভিযানের এক অনন্য পরীক্ষা। সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের আগামী পাঁচ বছরের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, যা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া ‘গণভোট’ এবারের প্রেক্ষাপটকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। রাষ্ট্রের মৌলিক কোনো সিদ্ধান্ত বা সাংবিধানিক প্রশ্নে জনগণের এই সরাসরি রায় প্রদানের সুযোগটি দীর্ঘ সময় পর ফিরে এসেছে। এটি প্রমাণ করবে, এ দেশের মানুষ কেবল প্রতিনিধি নির্বাচন করতেই জানে না, বরং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সরাসরি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেও সক্ষম।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে নির্বাচনি প্রস্তুতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণ ও গণনার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সচেষ্ট। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, নির্বাচনের সার্থকতা কেবল ভোট প্রদানের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে ভোটারের নির্ভয়চিত্তে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ওপর। ভোটাররা যাতে কোনো ভয়ভীতি বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। সেই সঙ্গে প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা। বস্তুত নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতাদের একটি দায়িত্বহীন বক্তব্য মাঠপর্যায়ে হাজারো কর্মী-সমর্থকের আচরণ বদলে দিতে পারে। তাই উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, কর্মীদের দিয়ে শক্তি প্রদর্শন-এসব থেকে বিরত থাকতে হবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে।

নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে ঠিক, কিন্তু গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা হলো নাগরিক সচেতনতা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের রায়টি দেওয়া কেবল অধিকার নয়, এটি আগামী প্রজন্মের প্রতি এক নৈতিক দায়বদ্ধতা। গণভোটের প্রতিটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এবং সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ভোটই আগামীর বাংলাদেশের পথচলা নির্ধারণ করে দেবে। সুতরাং, আবেগের চেয়ে বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক ব্যক্তি ও সঠিক সিদ্ধান্ত বেছে নেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা চাই না কোনো সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এই গণতান্ত্রিক উৎসবকে ম্লান করে দিক। দেশজুড়ে নির্বাচনের যে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ করা যাচ্ছে, তার সফল সমাপ্তি ঘটবে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। দিনশেষে বিজয়ী হোক গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম