ভঙ্গুর অর্থনীতি
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন সরকারের আগমন সাধারণত আশার আলো নিয়ে আসে। তবে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচিত সরকারের জন্য এই পথটি মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নতুন সরকারের সামনে এখন প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক ভঙ্গুর ও ভারসাম্যহীন অর্থনীতির উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতা-সব মিলিয়ে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে আগামীর প্রশাসন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে না। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদের হার নিয়ে আইএমএফের শর্ত এবং ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
দেশে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে, যা স্বভাবতই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। এর মধ্যে আইএমএফ-এর শর্ত মেনে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা বা ভর্তুকি কমানোর মতো পদক্ষেপগুলো অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি হলেও তা জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা নয়, বরং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণই হতে পারে এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ। ব্যাংক খাতের লুটপাট ও খেলাপি ঋণের যে ক্ষত বিগত দিনে তৈরি হয়েছে, তা সারাতে কাঠামোগত সংস্কারেরও কোনো বিকল্প নেই।
তবে মুদ্রার উলটো পিঠে আশার আলোও রয়েছে। টাকা পাচার রোধ, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ এবং রিজার্ভের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার মতো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ নতুন সরকারের জন্য একটি ভিত তৈরি করে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। নতুন সরকারকে মনে রাখতে হবে, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে পারলে এই বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়া কঠিন হবে না। টেকসই অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে আগামী দিনের সরকার কাজ করবে-এটাই প্রত্যাশা।
