Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

স্বতঃস্ফূর্ত ভোট

জুলাই আন্দোলনের আরেক বিজয়

Icon

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুলপ্রত্যাশিত গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জনগণের বিপুল অংশগ্রহণ কেবল একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালন নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের চোখে-মুখে ছিল আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। কেন্দ্রগুলোয় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না থাকায় এবং ভীতিহীন পরিবেশ বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। অনেক জায়গায় প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের স্বজনদের সহায়তায় ভোট দিতে আসার দৃশ্য দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা সব বাধাই জয় করতে পারে। এটি ছিল চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। তাই এ নির্বাচনকে জুলাই আন্দোলনের বিজয় বলতে চাই আমরা।

একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে। শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ সব নেতিবাচক ধারণাকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংযত আচরণ এবং ভোটারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আজকের দিনটিকে সফল করে তুলেছে। কিছু কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও জাল ভোটের অভিযোগ উঠলেও তা সামগ্রিক নির্বাচনের অনুপাতে নগণ্য।

নির্বাচনের উৎসবের আমেজ তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা ভীতিহীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। যে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হলো বৈধতার মূল চাবিকাঠি। মানুষ যখন নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীর বিজয় বা পরাজয়কে হাসিমুখে মেনে নেয়, তখনই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন-উত্তর সহনশীলতা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

বস্তুত গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট দেওয়া নয়, শান্তিপূর্ণভাবে নিজের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা। এবারের নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, যখন প্রশাসন এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে এগিয়ে আসে। এই সফল নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষের। এই গণরায় মেনে নিয়ে বিজয়ী ও বিজিত উভয় পক্ষকেই দেশের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনি উত্তাপ শেষে এখন সময় দেশ গড়ার। রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক আগামী দিনেও-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম