গণভোটে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন
স্থিতিশীলতার পথে এক নতুন মাইলফলক
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই জনমত যাচাইয়ের ফলাফল কেবল একটি প্রশাসনিক বিজয় নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে জনগণের এক বলিষ্ঠ ম্যান্ডেট। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার অর্থ হলো-বর্তমান শাসনব্যবস্থায় প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে। এই জয় প্রমাণ করেছে, সংকটকালে দেশের জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের রায় প্রদানে দ্বিধা করে না। যদিও বলতেই হবে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের এই যুগপৎ আয়োজন ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। তবে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে তা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। আমরা মনে করি, গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে জনরায়কে নিছক সংখ্যার বিচার না দেখে একে একটি গুরুদায়িত্ব হিসাবে গ্রহণ করা উচিত।
বলার অপেক্ষা রাখে না, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সরাসরি জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে দেশ যখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন এই গণরায় নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শক্তিশালী নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দিল। তবে বিজয়োল্লাসের চেয়েও এখন বড় প্রয়োজন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি। যারা ‘না’ ভোট দিয়েছেন বা দ্বিমত পোষণ করেছেন, তাদের শঙ্কা ও দাবিগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে নয়, বরং তা সংখ্যালঘুর মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের মধ্যেও নিহিত।
নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলিষ্ঠ ভূমিকা এই পুরো প্রক্রিয়াকে সাফল্যমণ্ডিত করেছে। এখন সময় এসেছে প্রাপ্ত ম্যান্ডেটকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেকারত্ব দূরীকরণের মতো মৌলিক দাবিগুলো যেন সময়ের স্রোতে হারিয়ে না যায়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বলা বাহুল্য, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাঁধে। একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এই গণভোট এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, জনগণের এই আস্থার প্রতিফলন ঘটবে সংসদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে।
