বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কাম্য
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বহুলপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার পেয়েছে। নানা সংশয় ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের এই রায় কেবল একটি দলের বিজয় নয়, বরং এটি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং পরিবর্তনের পক্ষে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। দীর্ঘ দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির জন্য এই বিশাল বিজয় যেমন আনন্দের, তেমনি আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি এক অগ্নিপরীক্ষা। এ বিশাল বিজয়ে আমরা দল হিসাবে বিএনপি এবং এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই।
এ নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি ছিল সহিংসতামুক্ত নির্বাচন। অনেকের আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণ করে নির্বাচকমণ্ডলী অভূতপূর্ব গণতান্ত্রিক আচরণ করেছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। পরিবেশ শান্ত ছিল। নির্বাচনের আগের রাতে কিছু গুজব ছড়ানো হয়েছিল বটে, তবে ভোটগ্রহণকালে কোনো ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর এ এক বড় সাফল্য।
এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, খুব দ্রুতই তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তিনি নিজ গুণেই এ পদের যোগ্য হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘকাল তিনি প্রবাস জীবনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন। তার সুনেতৃত্বেই বিএনপি সংগঠিত থেকেছে, তিনিই দলের কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত রেখেছেন। দেশে ফিরেও তিনি আশানুরূপ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নির্বাচনি প্রচারাভিযানে গণমুখী আচরণ করেছেন। জাতির সামনে তিনি এমন এক ইশতেহার ঘোষণা করেছেন, যাতে তার দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। সবটা মিলিয়ে বিএনপির এই ভূমিধস বিজয় এসেছে।
আমরা অপেক্ষায় আছি তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার মন্ত্রিসভা দেখার। তিনি নিশ্চয়ই এমন এক মন্ত্রিসভা গঠন করবেন, যার সদস্যরা জাতির প্রতি দায়বদ্ধ থেকে জনকল্যাণে মনোনিবেশ করবেন। এ সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও অনেক। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক-সব ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে নতুন সরকার। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন দেশকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, অন্য অনেকভাবেই পিছিয়ে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার বেশকিছু সংকট কাটাতে পেরেছে। বাকিগুলোর দায়িত্ব বর্তমানে নতুন সরকারের ঘাড়ে। বলতেই হবে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়াই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া অর্থনীতিকে সচল রাখা, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্য অর্জন করা ইত্যাদি তো রয়েছেই। দেশে শুদ্ধ গণতান্ত্রিক আবহাওয়া তৈরি করাও এক বড় দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে বলতেই হবে, সংসদে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দেশ গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করার। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বিরোধী দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব, বিরোধী দল সেই কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকবে। সবটা মিলিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি।
