Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা

নতুন সরকারের সামনে কঠিন পরীক্ষা

Icon

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার এই পরিবর্তন জনমনে পাহাড়সম প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। আর তা পূরণ করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ স্বৈরাচার আমলে আর্থিক খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার হয়েছে, তার ক্ষত এখনো দগদগে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা করলেও এর গতি ছিল খুবই মন্থর। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বস্তিদায়ক হলেও অর্থনীতির অন্যান্য সূচক উদ্বেগজনক। ডলারের উচ্চমূল্য, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের নিম্নগতি প্রমাণ করে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের চাকা প্রায় স্থবির হয়ে আছে। নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হবে মূল্যস্ফীতি। গত জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে নিত্যপণ্যের বাজারে। দুঃখজনক বিষয় হলো, দেশে যখনই কোনো পরিবর্তনের হাওয়া লাগে, তখনই অসাধু সিন্ডিকেট ‘সরবরাহ সংকটের’ ঠুনকো অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। সংসদ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে রোজার আগেই মুরগি, পেঁয়াজ ও চিনির দাম বাড়ানো এর সুস্পষ্ট উদাহরণ। নতুন সরকারকে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই এই বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংক খাতের সংস্কার হবে আরেকটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি খেলাপি ঋণের পাহাড় আর চরম তারল্য সংকটে ধুঁকছে দেশের ব্যাংকগুলো। সুদের হার ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীরা পিছু হটছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে না পারলে অর্থনীতির প্রাণশক্তি পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব।

তবে মুদ্রার উলটো পিঠে আশার আলোও আছে। নতুন সরকার বিপুল রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে আসায় দেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর স্থিতিশীলতা ফিরলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, যা সরকারের জন্য একটি বড় শক্তি। পরিশেষে বলা যায়, নতুন সরকারের সামনে কোনো ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বা বিশ্রামের সুযোগ নেই। আকাশসম প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে নতুন সরকারকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে। মানুষ শুধু জয় দেখতে চায় না, তারা ডাল-ভাতের সংস্থান ও নিরাপদ অর্থনীতির নিশ্চয়তা চায়। এবং তা নিশ্চিত করতে হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম