Logo
Logo
×

সম্পাদকীয়

ক্লিন ইমেজের মন্ত্রিসভা

সময়ের দাবি ও আগামীর প্রত্যাশা

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ক্লিন ইমেজের মন্ত্রিসভা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন সন্ধিক্ষণ উপস্থিত। দীর্ঘ ১৭ বছরের চড়াই-উতরাই, দমন-পীড়ন এবং সবশেষে এক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটভূমি পুরোপুরি বদলে গেছে। এই বদলে যাওয়া বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসতে যাচ্ছেন, তাদের নিয়ে জনমনে একদিকে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, অন্যদিকে রয়েছে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা। এই প্রেক্ষাপটে একটি ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মন্ত্রিসভা গঠন কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি।

মার্কিন জেনারেল প্যাটনের সেই বিখ্যাত উক্তি অনুযায়ী, পতন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য নিহিত। এক-এগারোর সরকার এবং পরবর্তী দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলটির ওপর দিয়ে নজিরবিহীন ঝড় বয়ে গেছে। তবে নানা প্রোপাগান্ডা ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও তারেক রহমান যেভাবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং জনমানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন, তা তার রাজনৈতিক বিজ্ঞতারই প্রমাণ। বিগত সরকারের পতনের মূলে ছিল সীমাহীন দুর্নীতি এবং জবাবদিহির অভাব। যখন একজন পিওনের ৪০০ কোটি টাকার মালিক হওয়ার খবর খোদ সরকারপ্রধানের মুখে আসে, তখন সেই সরকারের নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়ে। জর্জ অরওয়েলের ভাষায়, রাজনীতিকরা অনেক সময় মিথ্যাকে সত্য বানানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে সেই পুরোনো চেনা পথে হাঁটার আর সুযোগ নেই। আজকের তরুণ প্রজন্ম তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কোনো কিছুই আর আড়াল করার উপায় নেই। তাই অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বচ্ছতার মাপকাঠিতে আপসহীন হওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছেন। নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতি দমনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তার প্রতিফলন ঘটতে হবে মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে। মাও সেতুংয়ের সেই কালজয়ী কথাটি এখানে প্রণিধানযোগ্য : ‘দক্ষতাহীন সততা মূল্যহীন, আবার সততাহীন দক্ষতা বিপজ্জনক।’ বিএনপির বর্তমান সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা উচ্চশিক্ষিত তরুণ এবং অভিজ্ঞ ক্লিন ইমেজের নেতাদের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা প্রয়োজন।

একটি দেশের উৎকর্ষ নির্ভর করে তার রাজনৈতিক দলের সততার ওপর। গত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ অনেক স্বপ্নভঙ্গ দেখেছে। এবার তারা এমন এক নেতৃত্ব চায় যারা কেবল শাসন করবেন না, বরং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মতো নতুন আদর্শের জন্ম দেবেন। তারেক রহমানের সামনে এখন সুযোগ এসেছে পচাগলা রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে এক নতুন ধারার সূচনা করার। জনগণ আশা করে, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, সততা এবং দেশপ্রেমকে মানদণ্ড ধরে বিএনপি একটি আধুনিক ও কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠন করবে। মনে রাখতে হবে, এবারের জয় কেবল একটি নির্বাচনে জয় নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ম্যান্ডেট। আর সেই পথচলায় ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই হোক সরকারের প্রধান শক্তি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম