বিতর্কের বাইরে, নেতৃত্বের শীর্ষে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তারেক রহমানের নামটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ছিলেন মধ্যমপন্থি অবস্থানে। বিতর্কের বাইরে থাকার রাজনৈতিক কৌশল তাকে আলাদা ভাবমূর্তি দিয়েছে। পরিশীলিত বক্তব্য ও বিনয়ী শব্দচয়ন তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা জানান, প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশে ফিরছেন। তার এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকবে। পাশাপাশি দেশে বিরাজমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। জননেতা তারেক রহমান সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করলেও ভিডিও বার্তা ও অনলাইন মাধ্যমে দলের নীতি ও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। দলের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা প্রত্যক্ষ ও সক্রিয়। এমন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল।
নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে সমর্থকরা তার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পেয়েছেন এবং বিতর্ক থেকে দূরে থাকার কারণে তার বক্তব্যের প্রতি আস্থা বেড়েছে। এটি তাকে বিবেচক এবং দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ হিসাবে সবার কাছে পরিচিত করিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিমতে লক্ষ্য করা গেছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কে না জড়িয়ে থাকা তারেক রহমান একটি ইতিবাচক সংকেত পাঠাচ্ছেন, যা ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। দলীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও তার স্থিতিশীল ও পরিপক্ব রাজনৈতিক আচরণ লক্ষ্য করেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইমেজকে শক্তিশালী করেছে। যদিও মাঠে সরাসরি না থাকার কারণে তার প্রভাব সীমিত হতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব এ সমালোচনাকে অনেকাংশে নিরসন করেছে। আজ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ইতিবাচকভাবে গড়ে তুলেছে এবং দেশের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য ও বিবৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি সর্বদা মধ্যমপন্থি থাকতে চেয়েছেন। যদিও বিএনপির মূল রাজনৈতিক দর্শনই ছিল এটি। জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর বিএনপি কিছুটা ডানদিকে ঝুঁকে গেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সেখান থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বিএনপির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বলেছেন-বিএনপি হলো বামের ডান এবং ডানের বাম অর্থাৎ মধ্যমপন্থি রাজনৈতিক দল। তবে জনপ্রিয় থাকার জন্য দেশের প্রয়োজন বা বড় সমস্যা সম্পর্কে চুপ থাকা চলবে না। অপ্রিয় হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সত্য কথা বলতে হবে।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান যুগান্তরকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি একটি বড় দল হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানের বক্তব্য-বিবৃতি ছিল পরিশীলিত এবং বিতর্কের বাইরে। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে বড় ধরনের কোনো সমালোচনা হতে দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমান দেশে আসছেন। তার এই আগমনের জন্য শুভকামনা জানাই। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে তাকে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে হয়েছে। দূর-প্রবাসে থেকেও প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি তার দলকে সুসংগঠিত রেখে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল সংস্কার, উন্নয়ন ও সুশাসনের। তারেক রহমান দেশে ফিরে দেশবাসীকে তার বাবার আদর্শের রাজনীতি উপহার দেবেন বলে তার বিশ্বাস।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান লন্ডনে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। সেই থেকে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

