Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার

বিএনপির ৪৯.৯৭ শতাংশ জামায়াতের ৩১.৭৬

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির ৪৯.৯৭ শতাংশ জামায়াতের ৩১.৭৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়া ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট এককভাবে পেয়েছে বিএনপি। বিএনপি ও মিত্ররা মিলিয়ে ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মিলে পেয়েছে ৩৮.৫২ শতাংশ ভোট। এ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও ৪৬টি দলই এক শতাংশের নিচে ভোট পেয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বাইরে ইসলামী আন্দোলন ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর ৩ দিন পর রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দলভিত্তিক ভোটের হার প্রকাশ করল। সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও গণভোটে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পড়ে।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। এতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির ২১১ জন বিজয়ী হন। যদিও দুটি আসনে ভোটে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করে ৬৮ আসনে বিজয়ী হন। আর এনসিপি ৩২ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এনসিপি আসন পেয়েছে ৬টি। ইসলামী আন্দোলন ২৫৭ আসনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট করে একটি আসনে বিজয়ী হলেও পেয়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ৩৪ আসনে রিকশা প্রতীকে কোনো আসন না পেলেও ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২৭৪ স্বতন্ত্র পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের প্রশ্নে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ১ শতাংশ ভোট পেলেই পিআরে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে একটি আসন পাবে কোনো রাজনৈতিক দল। প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে সে হিসাব বের করে নির্বাচন কমিশন। রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সেটি হস্তান্তর করে বলে সূত্রে জানা গেছে। এই হিসাবে উচ্চকক্ষে বিএনপি ও মিত্ররা ৫১টি, জামায়াতে ইসলামীর জোট ৩৫টি আসন পাওয়ার কথা রয়েছে। যদিও বিএনপি দলীয় ইশতেহারে সংসদ-সদস্য অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বিন্যাসের কথা উল্লেখ করেছে।

এ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১১টি, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২ এবং খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি করে আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয় সাতটি আসনে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করেনি ইসি। যদিও আসন দুটিতে বিএনপি প্রার্থীরা বেশি ভোট পেয়েছেন।

জোটগত হিসাবে দেখা যায়, নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল, বিজেপি গরুর গাড়ি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোদাল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করে। এর মধ্যে খেজুর গাছ ৪টি আসনে নির্বাচন করে পায় শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট, গরুর গাড়ি শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, ট্রাক প্রতীকে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, মাথাল প্রতীক শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ, কোদাল শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জোটের আরেক শরিক এনডিএম ৮ আসনে নির্বাচন করে ০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ববি হাজ্জাজ দলটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করেন। এ জোটে বিএনপি ছাড়া কোনো দলই ১ শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি। এ জোট মোট ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট।

অপরদিকে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত দাঁড়িপাল্লায়, এনসিপি শাপলা কলি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা, খেলাফত মজলিস দেওয়াল ঘড়ি, এলডিপি ছাতা, এবি পার্টি ঈগল, লেবার পার্টি আনারস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বটগাছ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি বই, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ফুলকপি প্রতীকে নির্বাচন করে। ঈগল শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ, দেওয়াল ঘড়ি শূন্য দশমিক ৭৬, বটগাছ প্রতীক শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বিডিপি শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ, আনারস শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বই শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ, ছাতা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ছাড়া বাকি দলগুলো ১ শতাংশের কম ভোট পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১৯৯ আসনে নির্বাচন করে মাত্র দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ৬৩ জন কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ২৮ আসনে তারা প্রতীকে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। নাগরিক ঐক্যের ১১ প্রার্থী কেটলি প্রতীকে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। গণফোরাম ২০ আসনে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, জাকের পার্টি ৫ আসনে গোলাপফুল প্রতীকে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ, জাতীয় পার্টি-জেপি ১০ আসনে বাইসাইকেল প্রতীকে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

আমজনতার দল প্রজাপতি প্রতীকে ১৫ আসনে নির্বাচন করে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ আসনে আপেল প্রতীকে শূন্য দশমিক ০৩, ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ার প্রতীকে ২০ আসনে শূন্য দশমিক ০৮, জনতার দল শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ, এনপিপি শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মোটরগাড়ি প্রতীকে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাপ শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মাইনোরেটি জনতা পার্টি শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ, রিপাবলিকান পার্টি শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ ভোট, বিএসপি শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট, বাসদ (মার্কসবাদী) শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ ভোট, বাসদের প্রার্থীরা শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, জাগপা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন), বিএনএফ, মুসলিম লীগ বিএনএল, সমঅধিকার পার্টি শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম