যুগান্তরের সঙ্গে আলাপচারিতায় আইজিপি
ডেসপারেট অ্যাকশন নিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু করতে চাই
মো. আলী হোসেন ফকির
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেসপারেট অ্যাকশনের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী কিছু করতে চান বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কিছু ডেসপারেট সিদ্ধান্ত না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। প্রচলিত আইনে সবকিছু সম্ভব নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ আমার অনেক বড় বড় পরিকল্পনা আছে। জানি না কতটুকু পারব। তবে ভালো উদ্যোগগুলোতে সবার সহযোগিতা চাই। আলী হোসেন ফকিরকে মঙ্গলবার আইজিপি হিসাবে নিয়োগ দেয় সরকার। বুধবার সকালে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুপুরে যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখানেই যুগান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়। তুলে ধরেন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রী তাকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
ব্যতিক্রমী কিছু করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আইজিপি যুগান্তরকে বলেন, আমি যখন নেত্রকোনা জেলার এসপি ছিলাম তখন দেখলাম, একটি এলাকায় কেবল মাদক আর মাদক। সন্ধ্যার পর মুড়ি-মুড়কি কেনার মতো লাইন লেগে যেত সেখানে। বিষয়টি আমাকে খুবই পীড়া দেয়। ওই এলাকার মাদক বন্ধে পরিকল্পনা হাতে নিলাম। সব মুরব্বিকে আমার অফিসে ডাকলাম। বললাম, সন্ধ্যা ৭টার পর আমি কোনো শিক্ষার্থী বা যুবক শ্রেণির লোককে রাস্তায় দেখতে চাই না। তাদের রাস্তায় দেখা গেলেই গ্রেফতার করা হবে। এক ঘোষণাতেই ওই এলাকার মাদক বন্ধ হয়ে গেল।
জনদুর্ভোগ এড়াতে সব রাজনৈতিক দলকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, আপনারা রাস্তায় কোনো কর্মসূচি না দিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে যান। সেখানে কর্মসূচি পালন করুন। আমরা সারা বছর নিরাপত্তা দেব। রাস্তায় কোনো মিটিং-মিছিল-সমাবেশ না করলে আমরাও চড়াও হবো না। রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে আইজিপির প্রশ্ন-আপনারা সবাই যদি দেশের শান্তি চান, তাহলে কেন রাস্তায় অশান্তি তৈরি করেন?
নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিতে মসজিদের ইমামসহ শান্তিপ্রিয় ভালো লোক থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কমিউনিটি পুলিশের অনেকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা পুলিশের নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে। এলাকাভিত্তিক কমিটি হলে এসব বন্ধ হবে। মাদক এবং সন্ত্রাস দমনে পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান যোগ্য নয়। আমার যেহেতু আন্তরিকতার অভাব নেই, তাই আশা করছি, অনেক সমস্যারই সমাধান হবে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আন্দোলন মোকাবিলা। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একটি সংস্কৃতি লক্ষ করছি। সেটি হলো-যে কোনো দাবি আদায়ের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে। রাস্তা আটকিয়ে আন্দোলন করার কারণে মানুষের জীবনে অনেক ভোগান্তি নেমে আসে। এ ধরনের কর্মসূচি থেকে মানুষকে বিরত রাখার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইজিপি বলেন, দেশের কোথাও যেন মব ভায়োলেন্স না হয় সে বিষয়ে মাঠ পুলিশের উদ্দেশে আমার কড়া বার্তা থাকবে। সাংবাদিকদের প্রতি তার আহ্বান-‘আপনারা সমাজের দর্পণ। মব এবং জনদুর্ভোগের বিষয়ে কথা বলুন। আপনারা কথা বললে মানুষ বুকে ধারণ করবে। এক্ষেত্রে সমাজ অনেক এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশে বেকারত্ব অনেক বেশি। তাই যে কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলনের ডাক দিলে সেখানে লোকের অভাব হয় না। তাই রাজপথের আন্দোলন ও জনভোগান্তি দূর করতে হলে বেকারত্ব দূর করতে হবে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও বেকারত্ব দূর করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকেও বেশ আন্তরিক মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার সফল হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই উন্নতি হবে।
আইজিপি বলেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমি বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। হাইওয়েতে কীভাবে ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে দৃষ্টি দেব। তিনি বলেন, রাজধানীর অনেক রাস্তা হাঁটা আমার ইতোমধ্যেই শেষ। কোন এলাকায় কেন যানজট সে বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। প্রধানমন্ত্রী নিজে যেহেতু ট্রাফিক আইন মানছেন, সবাইকেই এটা মানতে হবে।

