সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ
ওয়াকআউট করলেও আজ আলোচনায় অংশ নেবে বিরোধী দল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করে বৃহস্পতিবার ওয়াক আউট করলেও এই ভাষণের ওপর আজ রোববার যে ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হবে, তার ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেবে। আজ প্রথম দিনেই বিরোধী দল থেকে ৫ জন তরুণ সদস্য বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।
বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শুরু হয়। রেওয়াজ অনুসারে দিনের সর্বশেষ এজেন্ডা হিসাবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই এজেন্ডার ঘোষণা দিলেই বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তারা ফ্যাসিস্ট আমলের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবিসহ নানা স্লোগান লিখিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কিছু বলতে চাইলেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে হৈচৈ করার পরও বিরোধীদলীয় নেতাকে কথা বলতে না দেওয়ায় তারা নানা স্লোগান দিতে দিতে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধীদলীয় সদস্যদের স্লোগানে সংসদ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
ওয়াক আউট সংসদের একটি প্রতিবাদের ভাষা। স্পিকারের সিদ্ধান্ত বা সরকারের কোনো কাজের সঙ্গে একমত হতে না পারলে ওয়াক আউট করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদ থেকে ওয়াক আউটের ঘটনাও এবারই প্রথম নয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মনোনীত রাষ্ট্রপতি হলেও বিএনপি তখন রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে ওয়াক আউট করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস সংসদে ভাষণ দেন। তবে তিনি সরকারের মনঃপূত ভাষণ না দিয়ে নিজের মতো ভাষণ দেন। এ কারণে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কোনো ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয়নি। তবে সেই ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্র ও শনিবার বিরতির পর আজ রোববার সকাল ১১টায় পুনরায় বসবে সংসদ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার ভাষণ বর্জন করে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করলেও আজকের অধিবেশনে যোগ দেবে বিরোধী দল। রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার সংসদে যে ভাষণ দিয়েছেন রেওয়াজ অনুসারে রোববার এই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে। এই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক সদস্যের এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। বছরে সাধারণত দুইবার সব সদস্য সাধারণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তার একটি হলো ইংরেজি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেন তার ওপর, আরেকটি হলো জুন মাসে পেশকৃত জাতীয় বাজেটের ওপর।
বিরোধী দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন আমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা। কেন বর্জন করেছি, কেন ওয়াক আউট করেছি তা সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ওই দিনই সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যা করেছেন। আর রেওয়াজ অনুসারে সাধারণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করা সবার অধিকার। এটা এমন একটা বিষয়, যেখানে সবাই যা খুশি তাই বলতে পারেন। সব সদস্য তার এলাকার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেন। আমরা এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করব এবং ভালোভাবেই করব। আমরা সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দেব, সরকারকে সংশোধনের পরামর্শ দেব। না মানলে সংসদের বাইরেও আমরা জনগণের দাবির পক্ষে আওয়াজ তুলব।
জামায়াতের তরুণ সদস্য ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) যুগান্তরকে বলেন, প্রথম দিনই বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার অফিস থেকে দেওয়া ৫ জন সদস্যের মধ্যে তার নামও আছে বলে জানান ব্যারিস্টার আরমান। তিনি আরও তিনজন সদস্যের নাম উল্লেখ করেন- যারা সবাই নবীন এবং বয়সে তরুণ। তারা হলেন মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (পাবনা-১), আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১) এবং সাইদ উদ্দিন আহমদ ওরফে পীরজাদা হানজালা (মাদারীপুর-১)।

