Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

আসলামের কলাম

ফ্রান্সের গতির কোনো জবাব নেই

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সের গতির কোনো জবাব নেই

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে কোনো ম্যাচই সহজ থাকে না। ভুলের সুযোগ খুব কম। একটি হারই বিদায়ের কারণ হবে। টিকে থাকে সেই দল, যারা নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, সুযোগগুলো কাজে লাগায় এবং চাপের মুহূর্তেও মাথা ঠান্ডা রাখে। মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটি ছিল ঠিক তেমনই একটি লড়াই।

সাবেক বিশ্বকাপজয়ী এবং ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হিসাবে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। পুরো ম্যাচেই ফ্রান্সের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। দুজনের সমন্বিত আক্রমণ মরক্কোর রক্ষণভাগকে বারবার বিপাকে ফেলেছে।

ফ্রান্সের আক্রমণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের গতি, যার কোনো জবাব নেই। তারা অকারণে ডি-বক্সের সামনে বল নিয়ে ঘোরাফেরা করেনি। সুযোগ তৈরি হওয়ার সঙ্গেই দ্রুত আক্রমণে গেছে এবং প্রতিপক্ষকে ভাবার সময় দেয়নি। দেম্বেলে ও এমবাপ্পের পারস্পরিক বোঝাপড়া এতটাই নিখুঁত ছিল যে মরক্কোর ডিফেন্স কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এমবাপ্পের গতি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এত দ্রুতগতিতে দৌড়েও যেভাবে তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন সেটি সত্যিই অসাধারণ। আধুনিক ফুটবলে এমন গতি, ভারসাম্য ও বল নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়। বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না। যে দল নিজেদের সুযোগগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে তারাই জিতবে। নকআউট পর্বের মানসিক চাপ সামলে খেলাই বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ আট কিংবা শেষ চারে ওঠা দলগুলো যথেষ্ট পরিণত। তাদের আক্রমণ সামলানো যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।

এদিকে হ্যারি কেইনও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। তার পারফরম্যান্স, খেলার ধরন এবং নেতৃত্ব-সব কিছুই পরিপক্ব একজন স্ট্রাইকারের পরিচয় দেয়। একজন গোলদাতা যখন ধারাবাহিকভাবে গোল করতে শুরু করেন তখন তার আত্মবিশ্বাস অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। সেই আত্মবিশ্বাসই তাকে আরও ভয়ংকর করে তোলে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, কেইন কিংবা এমবাপ্পের মতো ফরোয়ার্ডদের যদি পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয় তবে তারা গোল করেই ছাড়বেন। আজকের ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও আমি দারুণ আশাবাদী। এটি হতে পারে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই। আর্লিং হলান্ডকে যদি খেলার সামান্য সুযোগও দেওয়া হয় তাহলে তাকে থামানো কঠিন।

তিনি এমন একজন তুখোড় স্ট্রাইকার, যিনি নিঃশব্দে সঠিক জায়গায় চলে যান এবং সতীর্থদের কাছ থেকে দারুণ সার্ভিস পান। যে কোনো দলের বিপক্ষেই তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাকে আটকাতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। তারপরও দুদলের তুলনায় আমি ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রাখব। এই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলছে। ফলে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সমন্বয় এবং ম্যাচ পরিচালনার দক্ষতা অনেক বেশি দৃঢ়।

এবারের বিশ্বকাপে গোলদাতাদের লড়াইটাও বেশ জমে উঠেছে। এমবাপ্পে দারুণ গতিতে এগিয়ে চলেছেন। মেসির সমান আট গোল তার। আমার ব্যক্তিগত পছন্দ থাকবে লিওনেল মেসির দিকেই। ফুটবলের সৌন্দর্য, প্রভাব এবং সামগ্রিক অবদানের বিচারে মেসি এখনো আমার কাছে অনন্য। তিনি হয়তো এবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনার তুরুপের তাস হতে পারেন মেসি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .