Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

রক্তাক্ত জুলাই

পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রা শাহবাগে

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রা শাহবাগে

ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই শাহবাগে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তারা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। পরে শাহবাগ থেকে বাংলামোটরগামী সড়কে দফায় দফায় মিছিল করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

এদিন রাজধানীর নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও গুলি নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ বহু মানুষ আহত হন।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাঁজোয়াযান ও জলকামান নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। ব্যারিকেডের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন। বিকাল ৫টার পর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়ে। তাদের ঠেকাতে শাহবাগ থেকে বাংলামোটরগামী সড়কে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। তবে আন্দোলনকারীরা বাধা ভেঙে সামনে এগিয়ে গেলে পুলিশ পিছু হটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় শাহবাগ, বাংলামোটর, হাইকোর্ট ও নীলক্ষেত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে শাহবাগসংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে। একই সময় শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার ও গুলিস্তানের ব্যারিকেড অতিক্রম করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শাহবাগে যোগ দেন। আগারগাঁও এলাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সায়েন্সল্যাব ও নীলক্ষেত মোড়েও শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় পুলিশ। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সড়কে নামতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ফিরে যান। নিউমার্কেট জোনের পুলিশ জানিয়েছিল সড়ক বন্ধ করে কাউকে অবস্থান নিতে দেওয়া হবে না। এর আগে দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে সংঘর্ষে পুলিশ লাঠিচার্জ, শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছোড়েন। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ২৬ জন আহত হন। প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের পর বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

চট্টগ্রামে বটতলী রেলস্টেশন ও পরে টাইগারপাস এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে দুই নম্বর গেট এলাকায়ও একই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক নম্বর গেটে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করলে উত্তর চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উঠে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করেন। তারা পুলিশের জলকামান ও ট্রাকও আটকে রাখেন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .