Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

ফরাসি সৌরভে ম্লান মরক্কো

Icon

ইশতিয়াক সজীব

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফরাসি সৌরভে ম্লান মরক্কো

অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের মতোই ডানা মেলে উড়ছে ফ্রান্স। গত পরশু রাতে বোস্টনে মরক্কোর বিপক্ষে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্টে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন এমবাপ্পে -এএফপি

প্রতিশোধ নয়, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। তাই তো দেখল বিশ্বকাপ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর রূপকথার যাত্রা থেমেছিল সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে। প্রায় চার বছর পর আবারও বন্ধু আশরাফ হাকিমির স্বপ্নভঙ্গের কারণ হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার আটলাসের সিংহদের গর্জন থামল শেষ আটের মঞ্চে। স্কোরলাইন একই। গত পরশু রাতে বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে হাকিমির মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফেভারিটের মতোই হাসতে হাসতে সেমিফাইনালে চলে গেল এমবাপ্পের ফ্রান্স।

শুরুতে পেনালটি মিস করলেও পরে একটি গোল ও অ্যাসিস্টে ফরাসি বিপ্লবের নায়ক সেই এমবাপ্পেই। ১৪ জুলাই ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে কাল রাতে হয়ে যাওয়া স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স।

কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে মরক্কোর বিদায় হয়ে গেল বিশ্বকাপ থেকে। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল আফ্রিকারও। মরক্কো অবশ্য এই ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারে যে, আসরের সবচেয়ে দাপুটে দলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। পুরো বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সকে হারানোর সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। দিদিয়ের দেশমের দল এমনই অপ্রতিরোধ্য। ফ্রান্সের আক্রমণভাগের তিন নক্ষত্র এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে প্রতিপক্ষের রক্ষণের জন্য হয়ে উঠেছেন মূর্তিমান আতঙ্ক। আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে যেন সব ক্ষেত্রেই তাড়া করার পণ করেছেন এমবাপ্পে। মিসরের বিপক্ষে পেনালটি মিসের পর একটি করে গোল ও অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছিলেন মেসি। মরক্কোর বিপক্ষে একই পথে হেঁটে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আবারও এগিয়ে গেলেন ফ্রান্স অধিনায়ক। মেসির সমান আট গোল নিয়েও তিনটি অ্যাসিস্টের বদৌলতে এগিয়ে এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসির (২১) পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসাবে তিনি ছুঁয়েছেন ২০ গোলের মাইলফলক।

বোস্টনে ফরাসি ঝড়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় মরক্কো। প্রথম পাঁচ মিনিটেই জোড়া সেভ করেন মরক্কোর শেষ প্রহরী ইয়াসিন বুনু। পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের ২২ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে। যেখানে মাত্র পাঁচটি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে মরক্কো। আক্রমণের চাপ সামলাতে না পেরে ২৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে এমবাপ্পেকে ফাউল করে ফ্রান্সকে পেনালটি উপহার দেন নুসাইর মাজরাউয়ি। রেফারি পেনালটির বাঁশি বাজালেও ভিএআর পরীক্ষাসহ অজানা কিছু কারণে শট নিতে তিন মিনিট ১২ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয় এমবাপ্পেকে। তাতেই হয়তো তার মনোযোগ সরে যায়। ফ্রান্স অধিনায়কের দুর্বল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন বুনু। প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে আটকে রাখতে পারলেও বিরতির পর ভেঙে পড়ে মরক্কোর রক্ষণ। ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে গোলার মতো শটে বুনুকে পরাস্ত করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ছয় মিনিট পর তার পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে।

৭৭ মিনিটে হালকা চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচ শেষে সমর্থকদের নির্ভার করে এমবাপ্পে জানান, ‘গোড়ালিতে একটু আঘাত লাগলেও আমি ঠিক আছি। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুবই আনন্দিত। কিন্তু এখনো অনেক পথ বাকি। আমরা জানি, সামনের চ্যালেঞ্জগুলো আগের চেয়েও কঠিন হবে। তবে আমরা বিশ্বকাপ জেতার জন্য যে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .